জ্বালানি ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে পাকিস্তান সরকার। এরই অংশ হিসেবে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি যানবাহনে বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি রাত ৯টার মধ্যে সব ধরনের মার্কেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর ও বৈঠকের জন্য অভ্যন্তরীণ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানজুড়ে জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৪ দশমিক ১০ পাকিস্তানি রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৬ দশমিক ৪১ রুপি বাড়িয়েছে সরকার। এতে পেট্রোলের দাম ৩৮৪ দশমিক ৩৪ এবং ডিজেলের দাম ৪১৫ দশমিক ৮৩ রুপিতে দাঁড়িয়েছে ।
মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামাল দিতে বুধবার থেকে জ্বালানি ভর্তুকি চালু করা হলেও অনেক নাগরিক এর সুবিধা পেতে গিয়ে জটিলতায় পড়ছেন। গাড়ি ও মোবাইল নাম্বার নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতায় ভোগান্তির অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে জ্বালানি ব্যবহার কমাতে সরকারি যানবাহনে বরাদ্দ অর্ধেক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তবে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং জরুরি সেবায় ব্যবহৃত যানবাহন এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রাত ৯টার মধ্যে সব বাজার বন্ধ করতে হবে। তবে বিয়ের হল রাত ১০টা এবং রেস্তোরাঁ রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। ওষুধের দোকান ও মেডিকেল ল্যাবরেটরিগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
সরকারি ব্যয় কমাতেও নেওয়া হয়েছে নতুন সিদ্ধান্ত। কর্মীদের বেতন-ভাতা ছাড়া অন্যান্য খাতে ব্যয় ৫ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বন্ধের পাশাপাশি বৈঠকে অংশ নিতে দেশের ভেতরে ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের পরিবর্তে ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বিদেশি অতিথি ও প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠান ছাড়া সরকারি ভোজ বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন সরকারি গাড়ি কেনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
তবে জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় কমাতে পাকিস্তানের এমন উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেও একই ধরনের একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল দেশটির সরকার। এবার বাড়তি জ্বালানি ব্যয় ও সরবরাহ সংকটের মধ্যে সেই কড়াকড়িই আবারও ফিরিয়ে আনতে হলো ইসলামাবাদকে।