রাশিয়ায় চালানো হামলায় ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে দেশটি। বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ‘উক্রেইন সংকটকে ইচ্ছাকৃতভাবে আরও উত্তপ্ত করার পথ বেছে নেওয়ার’ অভিযোগ রাশিয়ার।
যুক্তরাজ্যে রুশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, “যুক্তরাজ্য অপরাধ ও সন্ত্রাসী হামলার সহযোগী এবং সহ-অপরাধী হিসেবে কাজ করছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “লন্ডনের এমন পদক্ষেপের অনিবার্য পরিণতি হবে। একইসঙ্গে জবাবদিহি করতে হবে।” এতে আরও বলা হয়, সংঘাতে যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততা যতো গভীর হবে, তাদের মূল্যও ততো বেশি দিতে হবে।
এর জবাবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, ব্রিটেন ইউক্রেনের পাশে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “রুশ আগ্রাসন মোকাবিলায় সরকারের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।”
মুখপাত্র আরও বলেন, “রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অবৈধ আগ্রাসন রুখে দিতে উক্রেইনের যেসব সরঞ্জাম প্রয়োজন, সেসব সরবরাহ করবে যুক্তরাজ্য।”
রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে উক্রেইনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে। বর্তমানে দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে আছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ব্রিটিশ উপাদান ও প্রযুক্তিগত বিন্যাস ব্যবহার করা ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রোস্তভ অঞ্চলের কামেনস্কি জেলায় একটি জ্বালানি ডিপোতে হামলাও করা হয়েছে।
রাশিয়ার এই সতর্কবার্তা এসেছে উক্রেইনের পক্ষ থেকে রাশিয়ায় ধারাবাহিক ড্রোন হামলার পর।
সর্বশেষ হামলায় রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মস্কোর আশপাশের অঞ্চলের দিকে প্রায় ৬২০টি ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর মধ্যে ১৮০টির বেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর আগের রাতের হামলায় নয়জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
শনিবার রাতে উক্রেইন রাশিয়ার দিকে প্রায় ৮২২টি ড্রোন পাঠিয়েছিল বলে আঞ্চলিক গভর্নর জানিয়েছেন। এর মধ্যে ৬০০টি ড্রোনের লক্ষ্য ছিল মস্কো। রাশিয়াজুড়ে ওই হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে বিবিসি।