মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান।
শুক্রবার সৌদি আরবের মক্কায় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছে এই তিন দেশ। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো, নিরাপত্তা জোরদার এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই চুক্তিটির মূল লক্ষ্য।
চুক্তিটি সম্পূর্ণই প্রতিরক্ষামূলক। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, চাইলে অন্যান্য আঞ্চলিক দেশও এতে যুক্ত হতে পারবে বলা হয়েছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে।
এই চুক্তিটি এমন সময়ে হলো, যখন ইরান ও তার মিত্রদের হামলায় সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে।
২৮এ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে যৌথ হামলার পর থেকেই অঞ্চলটির উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
তিন দেশের সামরিক সহযোগিতা কোনো নতুন বিষয় নয়। পাকিস্তান কয়েক দশক ধরেই সৌদি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যেও সামরিক সরঞ্জাম, যুদ্ধজাহাজ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে।
২০২৩ সালে তুরস্ক থেকে ড্রোন কেনার একটি বড় চুক্তি করেছিল সৌদি আরব।
তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী। সৌদি আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী দেশ ও বিশ্বের বড় তেল রপ্তানিকারকদের একটি। আর পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম দেশ।
প্রায় এক বছর ধরে চলা দীর্ঘ আলোচনার পর মক্কায় এই চুক্তি সই হয়েছে বলেও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়।