ভিসা পাওয়ার জন্য ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানতের পরীক্ষামূলক নিয়ম স্থায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
চলতি পাইলট প্রোগ্রামে বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্য। তবে স্থায়ী নিয়ম কোন কোন দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে তা কার্যকরের অন্তত ১৫ দিন আগে ঘোষণা দেবে ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট।
পুরোনো তালিকার সব দেশ থাকতে পারে অথবা তালিকা সংশোধনও করা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিবৃতিতে।
পর্যটন ও ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট বি ওয়ান/বি টু ভিসার জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। জামানতের ন্যূনতম পরিমাণ ঠিক করা হয়েছে ১০ হাজার ডলার আর সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক খসড়ায় বিজ্ঞপ্তিতে এসব জানানো হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ, নেপাল, ভূটানসহ ৫০টি দেশের নাগরিকরা ভিসা বন্ডের আওতায় থাকবেন।
গত বছরের ২০এ অগাস্ট যুক্তরাষ্ট্র এই ভিসা বন্ডের পাইলট প্রোগ্রাম শুরু করে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে যেসব দেশের নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার হার বেশি, সেই দেশগুলোকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে গিয়েছিলেন প্রায় ৪৫ হাজার তালিকায় থাকা ৫০টি দেশের নাগরিকরা।
‘ভিসা বন্ড’ প্রোগ্রাম চালু করার পর ১০ মাসে ওই সংখ্যা নেমেছে ৫০ এর নিচে। তাই এই নিয়মকে কার্যকরী মনে করে স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
ভিসা আবেদনের পর কনস্যুলার অফিসাররা আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে বন্ড প্রয়োজন মনে করলে, পরিমাণ ঠিক করে দেবেন।
এই বন্ড বা জামানত ফেরতযোগ্য। ভ্রমণকারী যদি ভিসার সব নিয়ম ও শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিজের দেশে ফেরেন, তবে জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।
তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে থেকে গেলে জমা রাখা বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।