বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার থেকেই এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ বা ইউএসটিআর। 

ইউএসটিআরের তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুক্তরাজ্য, চীন, কানাডা, জাপান, ভারতসহ ৬০টি দেশের পণ্যের উপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ করে শুল্ক আরোপ করা হবে।

১৯৭৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই ধারার আওতায় এমন বিদেশি বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর বা অন্যায্য বলে বিবেচিত হয়।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি বা ইউএসটিআর’এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা আংশিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তাদের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ ১৭টি দেশ ১০ শতাংশ শুল্কের তালিকায় আছে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলো যাদের ডাকা হচ্ছে মোস্ট-ফেভার্ড-নেশন বা সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ, তাদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুবিধাপ্রাপ্ত বাণিজ্য হার সমন্বয় করে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যান্য সব তদন্তাধীন দেশের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। চীন, ভিয়েতনামসহ ৩৮টি দেশ রয়েছে এই তালিকায়।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে; এখন সময় এসেছে আমাদের বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই কাজ করার।”  

তিনি দাবি করছেন, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বাজার বিকৃতকারী বাণিজ্যচর্চা, উভয় সমস্যার সমাধানে সহায়তা করবে এবং বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে। 

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী বেশ কিছু পণ্যকে এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে এমন কাঁচামাল, যেগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করলে দেশীয় সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে; এমন পণ্য, যেগুলোর ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপ অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বা যা যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে বা সাশ্রয়ী মূল্যে উৎপাদন সম্ভব নয় কিংবা বিকল্প উৎস থেকেও সহজে সংগ্রহ করা যায় না। 

এ ছাড়া নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের কিছু পণ্যে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী আমদানি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আরও উৎসাহিত হয়। একইসঙ্গে, যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করলেও তদন্তে চিহ্নিত সমস্যাগুলোর সমাধানে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না, সেগুলোকেও এই অব্যাহতির তালিকায় রাখা হয়েছে।