পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। সোমবার ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বের হয়ে জনসম্মুখে পদত্যাগের এ ঘোষণা দেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির প্রধানের পদও ছাড়ছেন তিনি। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।

সোমবার লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে স্টারমার বলেন, তার সংসদীয় দলের সিদ্ধান্ত তিনি ‘সদয়ভাবে গ্রহণ’ করেছেন এবং দেশের স্বার্থকে সবার আগে রাখার নীতির অংশ হিসেবেই নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

“আমি যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি, সবসময়ই আমার ভালোবাসার দেশটির স্বার্থকে প্রথমে রেখে নিয়েছে। সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি,” বলেন স্টারমার।

বিদায়ী বার্তায় তিনি বলেন, জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে এখন তিনি তার স্ত্রী ভিক্টোরিয়া এবং সন্তানদের জন্য আরও বেশি সময় দিতে চান।

তিনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো একজন ভালো স্বামী ও একজন ভালো বাবা হওয়া।”

ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং তার উত্তরসূরিকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হন ৬৩ বছর বয়সী স্টারমার। ক্ষমতায় আসার সময় অর্থনৈতিক চাপ, জনসেবা সংকট এবং রাজনৈতিক বিভাজনসহ একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল তার সরকার।

পেশাগত জীবনে একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচিত স্টারমার মানবাধিকার ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় কাজ করে খ্যাতি অর্জন করেন।

২০১৫ সালে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২০ সালে তার দল লেবার পার্টির অবস্থান টালমটাল ছিল। নির্বাচনি ফল ছিল সবচেয়ে খারাপ। এমন সময় দলের নেতৃত্বে আসেন স্টারমার।