যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল বলেছে, তাদের বাহিনীর ওপর হামলার জবাব দিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে হেজবুল্লাহ জানিয়েছে, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলকে ‘অবাধ চলাচলের সুযোগ’ দেওয়া হবে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার বিকেল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় শনিবার দিনভর বিমান, ড্রোন ও গোলন্দাজ হামলা চালায় ইসরায়েল।
এদিকে কাতার, পাকিস্তান ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার পথ খুলে দিতে লেবানন-ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হলেও, নতুন হামলার ঘটনায় সেই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে বিবিসি জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ শহর ও আশপাশের এক ডজনের বেশি এলাকায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও গোলন্দাজ হামলায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, রাতভর দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে হেজবুল্লাহ ৫০টির বেশি রকেট ও প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় হেজবুল্লাহর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
যদিও হেজবুল্লাহ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হামলার দায় স্বীকার করেনি। সংগঠনটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর অবাধ তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না।
শনিবারের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হয় টাইর জেলার বারিশ শহরে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য বাবা, মা ও তাদের দুই সন্তান নিহত হন।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কফাররুম্মান-নাবাতিয়েহ সড়কে পৃথক এক ইসরায়েলি হামলায় তাদের একজন সেনাসদস্যও নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির পরও উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল আলোচিত ৬০ দিনের আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এই আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছিল।
তীব্র সমালোচনার মুখে চুক্তির পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের ফলে ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো চাপের মুখে আলোচনা শুরু করেনি।