মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত ইরানের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনায় অংশ নেওয়ার সফর পিছিয়ে দিয়েছেন। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, শুক্রবারের ওই আলোচনা বাতিল করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, লজিস্টিক সমস্যার কারণে আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত আলোচনায় যাচ্ছেন না, কারণ বৈঠকের পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। ফলে দুই পক্ষের পরবর্তী বৈঠক কবে হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি চুক্তি চূড়ান্ত করতে এখন ৬০ দিনের সময় রয়েছে, তবে আলোচনায় এখনও কোনো বড় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
ভ্যান্স ইসরায়েলের লেবানন অভিযান নিয়ে সমালোচনা করে বলেছেন, এসব হামলা আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ইসরায়েলি অসন্তোষ নিয়ে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলকে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উচিত নয়।
অন্যদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, চুক্তি ভঙ্গ হলে তারা প্রতিশোধ নেবে। দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, অতিরিক্ত চাপ বা চুক্তি ভঙ্গ হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
ভ্যান্স এর আগে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি করতে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি মানছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলি সরকারের কিছু কর্মকর্তার সমালোচনার জবাবে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে সমালোচনা করেছিলেন।
ভ্যান্স বলেন, ইসরায়েলি সরকারের সদস্য হলে তিনি “তার একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকে” এভাবে আক্রমণ করতেন না।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উচিত ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অবস্থান না নেওয়া, কারণ যুক্তরাষ্ট্রই তাদের সবচেয়ে বড় মিত্র। একই সঙ্গে লেবাননে ইসরায়েলের কিছু হামলাকে তিনি “গ্রহণযোগ্য নয়” বলে মন্তব্য করেন।
সূত্র বলছে, উভয়পক্ষ গোপনে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে। এই প্রস্তাবগুলো এই সপ্তাহে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তৈরি করা হচ্ছে, যার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যত নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
এদিকে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরবর্তী ধাপটি একাধিক বিষয়ে আলাদা আলাদা টেকনিক্যাল পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে এগোবে। এই আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তি “শর্তহীন আত্মসমর্পণ” এর মতো।
এদিকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। আগামী ৬০ দিন এই রুটে কোনো ফি নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রণালিটি কোনো টোল ছাড়াই খুলে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের নতুন হামলায় কয়েকজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। গাজার রেমাল এলাকায় ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
তিনি আরও ইঙ্গিত করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র, তাই এই ধরনের সমালোচনা সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।