ট্রাম্প বলছেন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে, ইরান বলছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তি চুক্তির পথে এগোচ্ছে, বৃহস্পতিবার এমনটিই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে। ইরানে নতুন করে যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা ছিল, সেটিও বাতিল করেছেন বলে জানান তিনি।

সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সাথে আলোচনা দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তা অনুমোদিত হয়েছে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আজ সন্ধ্যায় ইরানের ওপর নির্ধারিত হামলা ও বোমাবর্ষণ বাতিল করেছি।”

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই বলেছেন, চুক্তির বড় অংশ নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে, কিন্তু ইরান তার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান বা ‘রেড লাইন’ থেকে সরে আসবে না। “এখন পর্যন্ত ইরান এই চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।”

ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, “ইরান সম্ভাব্য কোনো সমঝোতার ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে ট্রাম্পের দেওয়া যেকোনো সংবাদ উপেক্ষা করা উচিত।”

এই আলোচনার সাথে যুক্ত একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, এই চুক্তি কয়েক সপ্তাহ আগেই ঠিক করা হয়েছিলো। তবে এখনো ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে চুক্তি ভেঙে যাবে বলে জানান তিনি।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের সময়সূচি, মার্কিন নৌ অবরোধ, ভবিষ্যত পারমাণবিক আলোচনা এবং ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের মতো বিষয়গুলো রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এসব বিষয় বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি এখনো ঠিক হয়নি।

অন্যদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে তারা ইরানের সঙ্গে এই সমঝোতার সরাসরি পক্ষ নয়। 

তবে ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের অবস্থানের প্রশংসা করেছেন।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সহিংসতা বন্ধ করে পূর্ণ যুদ্ধের ঝুঁকি এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে এর প্রভাব পুরো অঞ্চল এবং বিশ্বের ওপর পড়তে পারে।

গত দুই দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানের সামরিক নজরদারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। 


তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান