চীনের ’ওয়াটার বম্ব’ বনাম ভারতের ’ওয়াটার শিল্ড’ ব্রহ্মপুত্র হচ্ছে এশিয়ার নতুন রণাঙ্গন?

হিমালয়ের বুকে জন্ম নেওয়া নদীগুলোকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রাণভোমরা বলা হলেও, এখন এই নদীগুলোতে বইছে নতুন এক উত্তেজনার স্রোত- যা শুধু প্রকৃতি বা উন্নয়ন নয়, বরং এসব নদীর সাথে সরাসরি জড়িয়ে আছে রাজনীতি, ক্ষমতা আর নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশ।

এক সময় এই নদীগুলোকে কৃষি, সেচ ও জীবিকার উৎস হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে এগুলো হয়ে উঠেছে ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নতুন হাতিয়ার।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু ব্রহ্মপুত্র নদ, যা তিব্বতে ইয়ারলুং জাংবো নামে পরিচিত। হিমালয়ের মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে এই নদী চীন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তাই ব্রহ্মপুত্র নদী শুধু ভৌগোলিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করেছে তিনটি দেশের মানুষকে। সাম্প্রতিক সময়ে এই নদীকে ঘিরেই তৈরি হচ্ছে নতুন এক ‘জলযুদ্ধের’ রণাঙ্গন, যেখানে মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছে এশিয়ার দুই পরাশক্তি ভারত ও চীন।

ভারত সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, তারা অরুণাচল প্রদেশে গড়ে তুলবে একটি বিশাল হাইড্রোপাওয়ার বাঁধ ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট’। এরইমধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে দেশটি। প্রস্তাবিত ব্যয় প্রায় ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বড় অবকাঠামো বিনিয়োগ।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। উৎপাদন ক্ষমতা হবে প্রায় ১১ হাজার মেগাওয়াট। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় পাঁচগুণ বড় হবে সিয়াং প্রকল্পটি।

প্রকল্পের বাঁধের উচ্চতা হবে ৪৬৫ মিটার, যা আইফেল টাওয়ারে প্রায় দেড় গুণ উঁচু। এর জলাধারে সংরক্ষণ করা যাবে ৯ দশমিক দুই বিলিয়ন ঘনমিটার পানি। এত পানি দিয়ে বাংলাদেশের সব মানুষ ১২ বছরে খাবার জলের চাহিদা মেটাতে পারবেন।

তবে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প, নাকি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের নতুন প্রতীক?

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মেগা প্রকল্প কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে নয়, এর পেছনে আছে আরও বড় ভূরাজনৈতিক বার্তা। চীনের সঙ্গে রেষারেষির ফলই হচ্ছে নতুন এই প্রকল্প।

কারণ চীন ইয়ারলুং জাংবো নদীর উপর বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাঁধ প্রকল্পগুলোর একটি নির্মাণ করছে। সেই প্রকল্পটি ভারতের নিচের দিকে প্রবাহিত নদীর স্রোত ও পানিপ্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ফলে একই নদীর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতও নিজের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। 

চীন অবশ্য ভারতের এই পদক্ষেপকে ‘উত্তেজনাপূর্ণ ও সংবেদনশীল’ বলে উল্লেখ করেছে। অরুণাচল প্রদেশকে এখনো নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে বেইজিং। তাই এই অঞ্চলে ভারতের বড় অবকাঠামো নির্মাণ চীনের কাছে সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু নয়াদিল্লির তরফ থেকে বলা হচ্ছে, এই প্রকল্প তাদের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ এবং দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে- ব্রহ্মপুত্রে এই প্রতিযোগিতামূলক বাঁধ নির্মাণ শেষ পর্যন্ত কি দক্ষিণ এশিয়ার বিতর্কিত জলবণ্টন ব্যবস্থাকে আরও অস্থির করে তুলবে?

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে হস্তক্ষেপ করলে বাংলাদেশসহ ভাটির দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নদী শুধু প্রকৃতির দান নয়, এটি এখন পরিণত হয়েছে কৌশলগত প্রভাব, শক্তি ও নিরাপত্তার নতুন মঞ্চে।

কেন মুখোমুখি চীন ও ভারত?

হিমালয়ের গিরি শিখর থেকে নেমে এসেছে ইয়ারলুং জাংবো নদী, এটিই ভারত ও বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত। এই অববাহিকার সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি।

তাই এই নদী শুধু প্রকৃতির দান নয়, এটি এখন পরিণত হয়েছে কৌশলগত প্রভাব, শক্তি ও নিরাপত্তার নতুন মঞ্চে। আর এই মঞ্চেই মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দুই এশীয় পরাশক্তি চীন ও ভারত।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে চীন ঘোষণা করে, তিব্বতে ইয়ারলুং জাংবো নদীর ওপর তারা নির্মাণ করবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৬৭ বিলিয়ন ডলার আসলে কত টাকা? কোন ধারণা আছে আপনার? এই টাকা দিয়ে আগামী কয়েক বছরের জন্য সারা পৃথিবীকে ক্ষুধামুক্ত করে ফেলা সম্ভব। পৃথিবীর সব মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করে ফেলার পরও কিছু টাকা বেঁচে যাবে। 

এই প্রকল্প শুধু অর্থনৈতিক নয়, বহন করছে রাজনৈতিক বার্তাও। কারণ এর অবস্থান কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল। এটি ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে, তিব্বতের নামচা বারওয়া পর্বতের কাছে। সেখান থেকেই নদীটি এক নাটকীয় ইউ-টার্ন নিয়ে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় দুই হাজার মিটার নিচে নেমে আসে। আর এটাই জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অসাধারণ এক প্রাকৃতিক সুযোগ তৈরি করেছে।

চীন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাঁচটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন করা যাবে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এই সক্ষমতা চীনের থ্রি গর্জেস ড্যামের তিনগুণ। এই থ্রি গর্জেস ড্যাম হলো বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

চীনের বক্তব্য হলো, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনে সহায়ক হবে নতুন প্রকল্প। পাশাপাশি তিব্বতের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গতি আসবে।

চীনের পদক্ষেপের পর ভারতও বসে থাকেনি, নয়াদিল্লি দ্রুত প্রতিরোধমূলক কৌশল সাজাতে শুরু করেছে।

ভারতের পাল্টা অবস্থান নাকি প্রতিরক্ষা প্রতিদ্বন্দ্বিতা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের নেওয়া নতুন প্রকল্প নিছক একটি অবকাঠামো নয়। বরং এমন এক ‘ভূরাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ’ যেখানে নদীর স্রোত ব্যবহার করা হচ্ছে কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে।

চীনের এই পদক্ষেপের পর ভারতও বসে থাকেনি। নয়াদিল্লি দ্রুত প্রতিরোধমূলক কৌশল সাজাতে শুরু করেছে। আর এরই অংশ হিসেবে অরুণাচল প্রদেশে গড়ে তোলা হচ্ছে সিয়াং আপার মালটিপারপাস প্রকল্প।

ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা একে বলছেন, ‘স্ট্র্যাটেজিক ওয়াটার শিল্ড’ বা চীনের ‘ওয়াটার বম্ব’-এর ভারতীয় জবাব। যেখানে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন একমাত্র লক্ষ্য নয়, বরং চীনের সম্ভাব্য জল নিয়ন্ত্রণ নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অরুণাচল প্রদেশের সংসদ সদস্য তাপির গাওকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, “চীন কেবল বাঁধ নির্মাণ করছে না, তারা আসলে জলবোমা বানাচ্ছে। যদি তারা এই বাঁধ বানানোর পর হঠাৎ পানি ছেড়ে দেয়, তাহলে পুরো সিয়াং অঞ্চলটাই ধ্বংস হয়ে যাবে।”

দুই দেশের এই প্রতিযোগিতা মূলত এক নদীকে কেন্দ্র করে হলেও, এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায়। কারণ ইয়ারলুং জাংবো থেকে উৎপন্ন এই ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশের মধ্য দিয়েও প্রবাহিত হয়। ফলে এই নদীর উজানে যেকোনো একতরফা সিদ্ধান্ত নিচের দেশগুলোর নদীপথ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি চিঠির জবাবে ভারতের লোকসভায় জানানো হয়, ভারত ভাটির দেশ হিসেবে স্বীকৃত। তাই চীনা কর্তৃপক্ষকে নিয়মিতভাবে এই বিষয়ে (বাঁধ) উদ্বেগ জানিয়ে এসেছে সরকার।

“উজানের দেশ হিসেবে তাদের কার্যক্রমের ফলে ভাটির রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এ বিষয়টি দেখতে চীনকে অনুরোধ করা হয়েছে,” লোকসভায় জানায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একটি বড় ভূমিকম্প বা ভূমিধসে যদি বাঁধ ধসে পড়ে, তাহলে নদীর ভাটিতে থাকা মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার শঙ্কা আছে।

ভূমিকম্প, পরিবেশ ও মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি

এই প্রকল্পের আরেকটি বড় উদ্বেগ এর ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি। তিব্বতের যে অঞ্চলে বাঁধটি নির্মিত হচ্ছে, সেটি দুটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। আর এটা বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।

পর্বত ও পরিবেশ বিষয়ক চীনা বিজ্ঞানী ও গবেষক বো ঝাও তার একটি গবেষণাপত্রে ভূতাত্বিক কাঠামোর দুর্বলতা তুলে ধরেছেন। গবেষণায় তিনি দেখিয়েছেন, ১৯৫০ সালে এখানেই সংঘটিত হয়েছিল ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প, যার কারণে আসাম ও তিব্বতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

এমন অবস্থায় একটি বড় ভূমিকম্প বা ভূমিধসে যদি নির্মাণ করা বাঁধ ধসে পড়ে, তাহলে নদীর ভাটিতে থাকা কোটি কোটি মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। 

পানি এখন কূটনৈতিক অস্ত্র

হিমালয়ের বুক থেকে নেমে আসা ব্রহ্মপুত্র নদ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অস্তিত্বের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকা এক জীবনরেখা। চীন যখন তিব্বতে এই নদীর উজানে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তুলছে, নয়াদিল্লির কাছে তখন সেটি নিছক উন্নয়ন নয় বরং একটি কৌশলগত ও অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা চীনের হাতে চলে যাওয়া। এটা হলে ভারতীয় অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়বে। কেননা ব্রহ্মপুত্র নদ অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের কৃষি, মৎস্য এবং দৈনন্দিন জীবনের মূল ভিত্তি।

ভারত সরকারের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি চীন এই বাঁধের মাধ্যমে নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে শুষ্ক মৌসুমে ভারতের দিকে জলপ্রবাহ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে, হুমকির মুখে পড়বে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা।

অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, “এই বাঁধ স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবন ও সংস্কৃতির জন্য একটি অস্তিত্বগত হুমকি।”

ভারতীয় নীতিনির্ধারক মহলে এখন এই প্রকল্পকে দেখা হচ্ছে একপ্রকার ‘ওয়াটার বম্ব’ হিসেবে, যেটাকে চীন প্রয়োজনমতো ভূরাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

আবার রাজনৈতিক টানাপড়েনের সময়ে চীন যদি হঠাৎ করেই বিপুল পরিমাণ পানি ছেড়ে দেয়, তাহলে অরুণাচল ও আসামে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে।

আবার বাঁধের কারণে ফসলের জন্য অপরিহার্য পলিমাটি আটকে গেলে, ভাটিতে থাকা ভারত ও বাংলাদেশ - দুই দেশেই কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে। বিশেষ করে আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানসহ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

নয়া দিল্লি একাধিকবার বেইজিংকে সতর্ক করেছে, যাতে উজানের প্রকল্পগুলো ভাটির দেশগুলোর ক্ষতি না করে। ভারত জোর দিচ্ছে তথ্য বিনিময় ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর, যা চীন অতীতে প্রায়ই এড়িয়ে গেছে।

পাল্টা ‘ওয়াটার শিল্ড’ গড়ার পরিকল্পনা ভারতের

আলোচনায় কাজ না হওয়ায় চীনের পদক্ষেপের জবাবে ভারতও এখন নিজের শক্তি প্রদর্শনের পথে হাঁটছে। নয়াদিল্লি ঘোষণা করেছে, অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্প করার। এটা নির্মিত হবে চীনের নতুন প্রকল্প ‘মেডং হাইড্রো পাওয়ার’-এর ভাটিতে।

ফলে এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নির্মিত হবে না, বরং এক ধরনের ‘হাইড্রোলজিক্যাল ডিফেন্স সিস্টেম’ হিসেবেও কাজ করবে এই প্রকল্পটি।

ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিয়াং বাঁধ চীনের উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এর ফলে হঠাৎ বন্যা, হিমবাহ, হ্রদের বিস্ফোরণ বা ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট জলধারার ধাক্কা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

এটাকেই নয়াদিল্লি ‘স্ট্র্যাটেজিক ওয়াটার শিল্ড’ বলছে, যেটা চীনের ‘জল বোমার’ জবাব হিসেবে এক প্রতিরক্ষা বলয় সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রকাশ করে। সেখান থেকে জানা যাচ্ছে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় প্রায় ৭৬ গিগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। এতে বিনিয়োগের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রকল্পের আওতায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১২টি উপ-অববাহিকাজুড়ে মোট ২০৮টি বৃহৎ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা আছে ভারতের। এর মধ্যে ৬৫ গিগাওয়াট প্রচলিত হাইড্রোপাওয়ার এবং ১১ গিগাওয়াট পাম্পড-স্টোরেজ প্রকল্প।

ভারতের দাবি, এই পরিকল্পনা শুধু প্রতিরক্ষার অংশ নয়; ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট নন-ফসিল জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন এবং ২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূণ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে স্থানীয় বাস্তবতায়ও এই প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আদি জনজাতি সম্প্রদায় ইতিমধ্যেই এর বিরোধিতা শুরু করেছে। তাদের আশঙ্কা- বাঁধ নির্মাণে ডুবে যাবে শত শত গ্রাম, হারিয়ে যাবে কৃষিজমি এবং বিপন্ন হবে তাদের শতাব্দী প্রাচীন জীবনধারা ও সংস্কৃতি।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদক ও তেল ভোক্তা দেশ হিসেবে ভারত আজ শক্তির নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। দ্রুতগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে দেশটির বিদ্যুৎ চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) হিসাব অনুযায়ী, আগামী তিন বছরে বৈশ্বিক বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির ৮৫ শতাংশ আসবে উদীয়মান অর্থনীতি থেকে, যার কেন্দ্রে রয়েছে ভারত।

২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ভারতের স্থাপিত বিদ্যুৎ সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৪৭৬ গিগাওয়াট, যা ২০১৫-১৬ সালের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি। তবে দেশটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনো কয়লার ওপর নির্ভরশীল। মোট বিদ্যুতের ৪৬ শতাংশ আসে কয়লা থেকে- এখানে নির্ভরতা এতটাই যে, কয়লাকে ভারতীয় বিদ্যুতের মেরুদণ্ড বলা হয়।

কয়লা ও ফসিল ফুয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ নিয়ে দুনিয়াজুড়ে বিতর্কিত হওয়ায় ভারতকেও ভাবতে হচ্ছে বিকল্প পথ। তারা এখন সৌর, বায়ু বা পানি থেকে উৎপাদিত ক্লিন এনার্জির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

ভারতের অব্যবহৃত জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনার ৮০ শতাংশই রয়েছে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায়, যা অরুণাচল, আসাম, সিকিম, মেঘালয়, মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিস্তৃত। একমাত্র অরুণাচল প্রদেশেই রয়েছে ৫২ গিগাওয়াটের সম্ভাবনা যা ভারতের বর্তমান মোট জলবিদ্যুৎ সক্ষমতার চেয়েও বেশি।

চীনের প্রতিক্রিয়া ‘ক্ষতি হবে না’, বাস্তবতা কী?

ভারত ও বাংলাদেশের বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যেও চীন তার অবস্থানে অনড়। বেইজিং দৃঢ়ভাবে দাবি করে আসছে, তিব্বতের মেডোগ অঞ্চলে নির্মিত তাদের বিশাল বাঁধ প্রকল্প ভাটির দেশগুলোর ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, “এই হাইড্রো প্রকল্পগুলো পরিবেশগত, ভূতাত্ত্বিক এবং ভাটির দেশগুলোর জনসম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত অধিকার ও স্বার্থের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে না। কারণ- এগুলো নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে কঠোর বৈজ্ঞানিক গবেষণার মধ্য দিয়ে গেছে।”

চীনের দাবি অনুযায়ী, তাদের বাঁধগুলো তথাকথিত ‘রান-অফ-দ্য-রিভার’ প্রকৃতির, অর্থাৎ এগুলো নদীর প্রবাহ আটকায় না, বরং পানির প্রাকৃতিক স্রোত ব্যবহার করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। কিন্তু বাস্তবতা ও প্রকল্পের পরিসংখ্যান একেবারেই ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।

মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের সম্ভাব্য নকশায় দেখা যাচ্ছে- এটি হবে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বাঁধ, যেখানে নদীর অর্ধেক প্রবাহ ডাইভার্ট করার এবং বিশাল টানেল নেটওয়ার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

চীনের কর্মকর্তারা প্রকল্পটিকে ‘নিরাপদ’ ও ‘পরিবেশবান্ধব’ বলে দাবি করলেও এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কোনো পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) প্রতিবেদন কিংবা হাইড্রোলজিক্যাল ডেটা প্রকাশ করেনি।

এই তথ্য গোপনীয়তা নতুন কিছু নয়; চীন একই ধরনের আচরণ করেছে মেকং নদীতেও। যেখানে তাদের একের পর এক বাঁধ থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের ভাটির অঞ্চলে বিপর্যয়করভাবে জলপ্রবাহের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। কখনো অতিরিক্ত বন্যা, কখনো অস্বাভাবিক খরা- সব কিছুর পেছনে ছিল উজানের জল আটকে রাখার চীনা কৌশল।

ব্রহ্মপুত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। চীন এটাকে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন বললেও প্রকল্পের কাঠামো ও আকার বলছে এটি মূলত পানি নিয়ন্ত্রণের কৌশলগত প্রকল্প, যা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু ও নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনৈতিক সংকট বা সীমান্ত উত্তেজনার সময় এটি হয়ে উঠতে পারে ‘ওয়াটার লেভারেজ’- অর্থাৎ জলের মাধ্যমে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের উপায়।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই আন্তঃসীমান্ত নদীগুলো নিয়ে সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে এই ছায়া কতটা পড়বে?

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই আন্তঃসীমান্ত নদীগুলো নিয়ে সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ৫৭টি নদী ভাগাভাগি করে ব্যবহার করলেও এর মধ্যে ৫৪টি নদীই প্রবাহিত হয় ভারতের দিক থেকে।

গঙ্গা, তিস্তা ও ফেনীসহ এসব নদীর উজানে ভারত নির্মাণ করেছে ৫০টিরও বেশি বাঁধ ও ড্যাম- যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থায়।

এসব বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে দেশের নদীগুলোর পানিপ্রবাহ ও নাব্যতা ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। ফলে আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোতে ভারতের একতরফা পানি নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের জন্য এক বড় অভিশাপে পরিণত হয়েছে।

তাই চীনের বাঁধের নির্মাণের প্রসঙ্গ আসতেই বাংলাদেশের নীতি নির্ধারক পর্যায়েও তৎপরতা চোখে পড়ে। গত জানুয়ারি মাসে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করছে চীন। এ বিষয়ে আমরা চীনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়েছি।

“তবে চীন আমাদের জানিয়েছে, তাদের এই প্রকল্পের কারণে আমাদের নিচু অঞ্চলগুলোর ক্ষতি হবে না। বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত না পেলে এখনই কিছু বলা সম্ভব না।”

এরপর অবশ্য সেই বাঁধ নিয়ে আর কোনো তথ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

চীনের মেডোগ মেগা বাঁধ এবং ভারতের সিয়াং প্রকল্পে বাংলাদেশও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। কারণ- দক্ষিণ এশিয়ার ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী ব্যবস্থার সবচেয়ে নীচের দেশ।

বাংলাদেশ শুষ্ক মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৭০ শতাংশ পানি পায়। চীনের বাঁধ এখানে উল্লেখযোগ্য হস্তক্ষেপ করতে পারে, ফলে সেচ ও পানি সরবরাহে প্রভাব পড়বে।

ব্রহ্মপুত্র থেকে আসা পলির ৫০ শতাংশ বাংলাদেশে জমি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। বাঁধের কারণে পলিপ্রবাহ যদি বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে মাটির উর্বরতা কমে যাবে, নদী তীর ক্ষয় বৃদ্ধি পাবে এবং ধান উৎপাদন কমতে পারে।

চীন বা ভারতের উজান থেকে হঠাৎ জল ছেড়ে দিলে, বিস্তৃত বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়ে নদীতীরের জীবন ও জীবিকাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলবে।

অবশ্য এই দুই প্রকল্পে আশঙ্কার দিক তেমন একটা দেখছেন না সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ।

তিনি বলেন, “প্রকল্পটির মাধ্যমে চীনের ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ডাউভার্ট করার, বিশেষ করে কৃষিকাজে পানি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই। তারা শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে।

“এতে পানির প্রবাহের পরিবর্তন হবে না। ফলে ডাউনস্ট্রিমে এর প্রভাব তেমন পড়বে না।”

মুন্সী ফয়েজ আরও বলেন, “ভারতের মাল্টিপারপাস প্রকল্পে কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য পানি ধরে রাখা বা ডাইভার্ট করার সম্ভাবনা আছে”।

“তবে বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, আমরা ব্রহ্মপুত্রের যে ধারাটি পাই, সেখানে পানির অন্যতম উৎস বৃষ্টি। ভারত নিজের স্বার্থে প্রকল্পটি করছে, আমাদের ক্ষতি করবার জন্য নয়,” যোগ করেন তিনি।

ভূরাজনৈতিক জটিলতা

চীন-ভারত পানি বিরোধ অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত বিবাদের সঙ্গে জড়িত, যে অঞ্চলকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বলে দাবি করে চীন। ব্রহ্মপুত্র নদী এই বিতর্কিত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জল-সংক্রান্ত সংঘাত আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।

২০১৭ সালের ডোকলাম সংকটের সময় ভারতকে হাইড্রোলজিক্যাল ডেটা শেয়ারিং বন্ধ করে দিয়েছিল চীন। সেই ঘটনাকে চীনের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য জলকে কৌশলগত লেভারেজ হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি হিসেবে দেখেন অনেকেই।

ভারত ও চীনের মধ্যে ‘ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটি’র মতো কোনো বাধ্যতামূলক পানিবণ্টন চুক্তি নেই- রয়েছে কিছু স্বেচ্ছামূলক সমঝোতা। এই প্রাতিষ্ঠানিক ফাঁক প্রায় প্রায়ই বৈরিতাকে আরও জটিল করে তোলে।

হিমালয় অঞ্চল পৃথিবীর অন্যতম ভঙ্গুর ও জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চল হওয়ায় ইয়ারলুং জাংবো গ্র্যান্ড ক্যানিয়নকে চীনের ‘জিন ব্যাংক’ বলা হয়। মেডোগ বাঁধের জন্য বিশাল পরিসরে টানেল খনন ও শিলা বিস্ফোরণ প্রয়োজন, যা ওই অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়াবে।

ভারতের দৃষ্টিকোণেও এটি কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের একশিঙা গণ্ডারের বাসস্থান এবং মাছের অভিবাসনকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ, এই প্রকল্পের প্রভাব কেবল হাইড্রোবিদ্যুতের নয়, পুরো বাস্তুতন্ত্রের ওপর ব্যাপক।

চীনের ১৬৭ বিলিয়ন ডলারের মেগা বাঁধ এবং ভারতের ৭৭ বিলিয়ন ডলারের পাল্টা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কেবল শক্তি উৎপাদন নয়; এগুলো ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের প্রতীক।

চীন, ভারত ও বাংলাদেশ- একই নদী ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হলেও কোনো বহুপাক্ষিক জল ব্যবস্থাপনা চুক্তি নেই। স্বচ্ছতার অভাব, তথ্য বিনিময়ের সীমাবদ্ধতা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস এই অঞ্চলের জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।