শনিবার ছিল ডনাল্ড ট্রাম্পের ছেলের বিয়ে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই বিয়ের অনুষ্ঠানে তিনি থাকতে পারবেন না। কারন তার ‘সরকারি দায়িত্ব’ আছে। এই সপ্তাহান্ত ডনাল্ড ট্রাম্পের কাটানোর কথা নিউজার্সিতে নিজের গলফ রিসোর্টে। কিন্তু সেই পরিকল্পনাও বাদ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তার বদলে দলবল নিয়ে তিনি ছুট লাগিয়েছেন ওয়াশিংটনে। সপ্তাহান্ত তার হোয়াইট হাউজেই কাটবে।
ওদিকে ছুটির পরিকল্পনা বাতিল করেছেন আমেরিকার সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও।
কী এমন ঘটলো, যে কর্মকর্তারা ছুটি বাতিল করছেন? নিজের ছেলের বিয়েতে থাকতে পারছেন না খোদ প্রেসিডেন্ট?
মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস বলছে, আমেরিকা আসলে ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনা চলছে শুক্রবার থেকেই।
আর এটাই সম্ভবত ডনাল্ড ট্রাম্পের সেই ‘সরকারি দায়িত্ব’, যেটা ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ের অনুষ্ঠানের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সিবিএস এও বলছে, শুক্রবার পর্যন্ত হামলা চালানোর ব্যাপারে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস বলছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিদেশে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোতে প্রস্তুত অবস্থায় থাকা সৈন্যদের রোস্টার আপডেট করছেন। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু সৈন্য প্রত্যাহারও করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য ওই অঞ্চলে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে মার্কিন বাহিনীর খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি করতে না পারে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইট রেডারে দেখা গেছে, ইরানের আকাসসীমায় কোন বিমান চলাচল করছে না। শনিবার ইরানের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে যা যুদ্ধবিরতির পর থেকে চালু ছিল।
গত এপ্রিলের শুরুতে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি পরস্পরের উপর হামলা করেনি।
কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব- এই তিন দেশের অনুরোধে ইরানের ওপর হামলা আপাতত স্থগিত করেছিলেন বলে সোমবার মন্তব্য করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আমেরিকা থেকে এমন সময় ইরানে নতুন হামলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যখন গত শুক্রবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরানে গেছেন। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বুধবার থেকেই আছেন তেহরানে।
পাকিস্তান আর্মি জানাচ্ছে, এই সফরের উদ্দেশ্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্ততার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।
কিন্তু এই আলোচনার চেষ্টার মধ্যেই আমেরিকা যদি আবার ইরানে হামলা চালিয়ে বসে তাহলে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে তা নিয়ে অনেকের কপালেই দুশ্চিন্তার ভাঁজ দেখা যাচ্ছে।