তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি শুরু হতে যাচ্ছে- সাম্প্রতিক এক জরিপে বেশিরভাগ উত্তরদাতাই মনে করছেন, বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে গোটা দুনিয়া।
ইরানে যৌথ হামলার আগে জরিপটি প্রকাশ করেছে আমেরিকার প্রভাবশালী ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম পলিটিকো।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি- প্রতিটি দেশ থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছে এই জরিপে।
তাদের মতামতে উঠে এসেছে অস্বস্তিকর বাস্তবতা, যেখানে অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে, ধীরে ধীরে আরেকটি বৈশ্বিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পুরো বিশ্ব।
নতুন এই সংঘাতের ঝুঁকি ও সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন পশ্চিমা নাগরিকরা।
জরিপটি প্রকাশিত হয় গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি। এর দুই সপ্তাহ পর ইরানে হামলা করে আমেরিকা ও ইসরায়েল।
শুরুতে অনেকেই মনে করেছিলেন, অত্যাধুনিক সামরিক শক্তির সামনে দ্রুতই কোণঠাসা হয়ে পড়বে ইরান এবং অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযান শেষ হবে।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্নদিকে মোড় নিয়েছে। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইরান এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে।
দৃশ্যত প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ইরান এখনো একাই লড়ছে, যদিও বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী তার পাশে অবস্থান নিয়েছে।
কিন্তু যুদ্ধের পরিসর বাড়তে থাকায় এমন শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না যে, অন্যান্য পরাশক্তিগুলো এই যুদ্ধে জড়াবে না।
তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ইরান আক্রমণের মাধ্যমেই কি শুরু হতে যাচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ?
বিশ্বযুদ্ধ কী, যুদ্ধ কখন বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধে রূপ নেয়?
কোনো সংঘাত বা যুদ্ধ যখন দুই দেশের গণ্ডির সীমা অতিক্রম করে এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, তখনই সেটাকে বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বিশ্বযুদ্ধে সাধারণত, বহু দেশ, বহু অঞ্চল এবং বড় বড় শক্তিগুলো জড়িয়ে পড়ে।
হাজার হাজার বছরের সভ্যতার ইতিহাসে অসংখ্য যুদ্ধ-বিগ্রহ হলেও বিংশ শতাব্দীর দুটি যুদ্ধকে বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এর কারণ হলো- সব মহাশক্তির সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া, নির্দিষ্ট সীমারেখার বাইরে গিয়ে বহু মহাদেশে একযোগে যুদ্ধ শুরু হওয়া, বড় বড় সামরিক জোটগুলোর মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া, দুনিয়ার প্রায় সব দেশই যুদ্ধের পক্ষ হয়ে যাওয়া, ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্রের ব্যবহার শুরু এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, খাদ্য সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের বৈশ্বিক প্রভাব পড়া।
অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে বিশ্বযুদ্ধের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, “বিশ্বের বহু দেশের অংশগ্রহণে সংঘটিত যুদ্ধ; বিশেষভাবে ১৯১৪-১৮ বা ১৯৩৯-৪৫ সালের যুদ্ধকে বোঝায়।”
বিশ্বযুদ্ধের ইংরেজি ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ার’ শব্দটি প্রথমবারের মতো ১৮৪৮ সালে স্কটল্যান্ড থেকে প্রকাশিত ‘পিপল’স জার্নাল’ নামে একটি পত্রিকায় পাওয়া যায় বলে অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে উল্লেখ রয়েছে।
তখন থেকে এই শব্দটির ব্যবহার শুরু হয় এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে ‘বিশ্বযুদ্ধ’ বলতে চায় না গুগলের ইংরেজি অভিধান, যেখানকার শব্দগুলো অক্সফোর্ড ল্যাংগুয়েজেস থেকে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বযুদ্ধের সংজ্ঞায় গুগল বলছে, “একটি যুদ্ধ, যা বিশ্বের বিভিন্ন অংশের বড় বড় দেশের অংশগ্রহণে সংঘটিত হয়। সাধারণভাবে, এই নামটি ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ এবং ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সালের যুদ্ধে দেওয়া হয়, যদিও সত্যিকারের বিশ্বযুদ্ধ ছিলো শুধু মাত্র দ্বিতীয়টি।”
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
ব্রিটানিকায় লেখা হয়েছে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হলো একটি আন্তর্জাতিক সংঘাত, যেখানে ইউরোপের অধিকাংশ দেশ জড়িয়েছিল। এর সঙ্গে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য অঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
যুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিলো দুইটি শক্তি। জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এবং তুরস্ক, বুলগেরিয়া মিলে ছিলো মধ্য শক্তি। আর মিত্রশক্তিতে ছিলো যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইতালি।
মধ্য শক্তির পরাজয়ের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হয়। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, প্রাণহানি ও বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি হয়। সোয়া দুই কোটি মানুষের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
যুদ্ধের প্রধান রণক্ষেত্রগুলো ছিলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়াকেন্দ্রিক। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা ছিলো পুরোপুরি রণাঙ্গনের বাইরে। চীন, ভারতীয় উপমহাদেশ এবং পূর্ব এশিয়ার সিংহভাগ এলাকা ছিলো যুদ্ধের বাইরে।
আফ্রিকার অধিকাংশ অংশ যুদ্ধের বাইরে ছিলো, তবে জার্মান উপনিবেশগুলোর সঙ্গে সীমিত যুদ্ধ হয়।
বিশ শতকের ভূরাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ আলোচিত হয়ে আছে।
যুদ্ধের মধ্য দিয়ে চারটি বড় সাম্রাজ্য- জার্মানি, রাশিয়া, অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় এবং অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
রাশিয়ায় বোলশেভিক বিপ্লব ত্বরান্বিত হয় এবং ইউরোপীয় সমাজে এমন অস্থিরতা ডেকে আনে, যার ফলে ভিত্তি তৈরি হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
সভ্যতার ইতিহাসের সবচেয়ে নারকীয় তাণ্ডব চলে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে। ছয় বছরের যুদ্ধ পৃথিবীর সব অঞ্চলকে জড়িয়ে ফেলে।
বিশ্ব দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। জার্মানি, ইতালি ও জাপান থাকে অক্ষশক্তিতে। আর যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনকে নিয়ে গঠিত হয় মিত্রশক্তি। যুদ্ধের পর এই দেশই হয় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেই ব্যাপক আকাশ আক্রমণ শুরু হয় এবং পুরো বিশ্বকে যুদ্ধের আওতায় এনে ফেলে।
তারপরও ল্যাটিন আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়ার কয়েকটি দেশ যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে দূরে থাকতে পেরেছিলো।
ব্রিটানিকায় লেখা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় ৪ থেকে ৫ েকোটি মানুষ নিহত হয়, যা ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এবং বড় যুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ইরান ঘিরে কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে?
ইরান যুদ্ধ ঘিরে এখনো পর্যন্ত যুদ্ধরত পক্ষ মূলত দুটি। আমেরিকা-ইসরায়েল জোট ও ইরান। হামলা-পাল্টা হামলার শিকার ১৭টির মতো দেশ।
সংঘাতে জড়ানো দেশগুলোর আয়তন এক কোটি ৫৫ লাখ বর্গকিলোমিটার। তুলনা করলে এই অঞ্চলের আয়তনে ইউরোপ মহাদেশের কাছাকাছি এবং পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় ১০ ভাগ।
যুদ্ধের বিস্তার ঘটেছে তিনটি অঞ্চলজুড়ে। মূল রণক্ষেত্র পুরো মধ্যপ্রাচ্য। বিস্তৃতি ঘটেছে ককেশাস অঞ্চল, ভূমধ্যসাগর ও ভারত মহাসাগরের শ্রীলঙ্কা উপকূল পযন্ত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গত ৮০ বছরে এত অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত হয়নি আর কোনো যুদ্ধ।
তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা যে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হবে, এ নিয়ে আমেরিকা-ইসরায়েলের হামলা শুরুর আগেই সতর্ক করেছিলেন অনেক বিশ্লেষক।
কারণ, প্রায় পাঁচ দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার রয়েছে বড় ধরনের প্রশিক্ষিত ও অনুগত সামরিক বাহিনী। পুরো অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত তাদের বিভিন্ন মিত্র বা প্রক্সি গোষ্ঠী।
এছাড়া বিপুল পরিমাণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ইরানকে এমন ক্ষমতা দিয়েছে, যা দিয়ে তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং এর বাইরেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে।
হামলার প্রতিশোধে ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। হামলা হচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর।
এমনকি, জর্ডানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি থাড মিসাইল রেডার সিস্টেমকে ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই সামরিক সরঞ্জামকে আমেরিকার প্রযুক্তির অন্যতম শক্তিশালী উপাদান হিসেবেই এতদিন মনে করা হচ্ছিল।
ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। তেল শোধনাগারের ওপর হামলা হচ্ছে, বোমার আঘাতে বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও বন্ধ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেলবাহী জাহাজ এই রুটে চলাচল করে।
পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক হাব হিসেবে দুবাইয়ের যে উত্থান হয়েছিলো, তা এখন ভেঙে পড়ার মুখে। বহু মানুষ সেখানকার বিলাসী প্রাসাদ ও হোটেল থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন।
ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে নেটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তুরস্কে। এতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক জোট নেটোও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন।
শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিন থেকে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে ভারত মহাসাগরেও।
যুদ্ধে পরোক্ষভাবে জড়িত হচ্ছে পরাশক্তিরাও। চীনের জড়িত থাকার কথা উঠে আসছে বিভিন্নভাবে।
ইরানে হামলার পরপরই চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া, এই হামলাকে জাতিসংঘের সংবিধানের উদ্দেশ্য ও নীতির ‘উগ্র লঙ্ঘন’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের “মৌলিক নীতি” থেকে বিচ্যুত।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তুলে নেওয়ার পর, একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলো চীন।
ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক টম হারপার কনভারসেশনের এক নিবন্ধে লিখেছেন, “কূটনৈতিক নিন্দার বাইরেও ইরানকে সংঘাতে আনার পেছনে চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো, তাদের স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন সিস্টেম বাইদো।
“সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের প্রধান বিকল্প হয়ে উঠেছে বাইদো।”
ইরানের তেলের ওপর চীনের নির্ভরতা রয়েছে। আর এ কারণেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চীনকে সংঘাতের পক্ষ হতে হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
চীন বিশেষজ্ঞ টম হারপার মনে করেন, ইরানের সংঘাত স্বল্পমেয়াদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। তবে কোনোভাবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে, তা হবে চীনের জন্য সুবিধাজনক।
এছাড়া ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চীনকে বৈশ্বিক একটি শক্তি হিসেবে অবস্থান শক্ত করতে সহায়তা করতে পাবে বলে মনে করেন টম হারপার।
“কানাডা, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের মতো যেসব দেশ বেইজিংয়ের সঙ্গে আগে শীতল সম্পর্ক বজায় রেখেছিলো, তারা ইতোমধ্যেই কয়েক মাস ধরে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখা এখন সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।”
ইরানের আরেক ঘনিষ্ঠ মিত্র হলো রাশিয়া। ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের সময় পুতিনকে বিপুলসংখ্যক শাহেদ ড্রোন দিয়ে সাহায্য করেছিলেন খামেইনি।
ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ স্টেফান উলফ মনে করেন যে, অন্তত স্বল্পমেয়াদে এই সংঘাত মস্কোর পক্ষে কাজ করবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্রদের জন্য নির্ধারিত গোলাবারুদ সরবরাহ করতে বিভ্রান্ত হচ্ছে।
“তবে দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ রাশিয়ার বিজয়ের দিকে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে,” কনভারসেশনে লিখেছেন তিনি।
পলিটিকোর জরিপে পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার কয়েকটি দেশের হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়ে বলছেন, বিশ্বযুদ্ধ এগিয়ে আসছে বলে তারা ধারণা করছেন।
“আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি,” জরিপে বলেছেন তারা।
২০২৫ সালের মার্চে একই প্রশ্নে আরেকটি জরিপ করেছিলো পাবলিক ফার্স্ট নামের একটি সংস্থা। তখন বিশ্বযুদ্ধের হতে পারে, এমন মত দিয়েছিলেন আরো কম মানুষ।
সংস্থাটির পোলিং বিভাগের প্রধান সেব রাইড বলেন, “এক বছরেরও কম সময়ে পশ্চিমা জনমতের এই পরিবর্তন দেখাচ্ছে যে, বিশ্ব দ্রুতগতিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এখন যুদ্ধকে সম্ভাব্য বাস্তবতা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক জোটগুলোও ক্রমে অস্থির হয়ে উঠছে।”
চার বছর ধরে ইউক্রেনের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। এই যুদ্ধ শেষ হবে এমন কোনো লক্ষন দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার পরই ইরান ছাড়াও সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
আর এসব কারণে বৈশ্বিক সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমেই বেড়ে চলছে বলে পলিটিকোর জরিপে অংশ নেওয়ারা জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্য থেকে যারা জরিপে অংশ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, ২০৩১ সালের মধ্যে নতুন একটি বিশ্বযুদ্ধ “সম্ভাব্য” হয়ে উঠেছে। অথচ ২০২৫ সালের মার্চে এই হার ছিলো ৩০ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রেরও ৪৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে, ২০৩১ সালের মধ্যে বিশ্বযুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। গত বছর এই হার ছিলো ৩৮ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয়, গোটা বিশ্বের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে দেশে, তেল বাজার উত্তপ্ত, হরমুজ প্রণালি বন্ধ, আর পরাশক্তিরা পরোক্ষভাবে শরিক হচ্ছে এই সংঘাতে।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের যে ঝুঁকির কথা জরিপে উঠে আসছে, সংঘাত কমিয়ে সেই ঝুঁকি কীভাবে এড়ানো যায়, সেটাই এখন ভাবিয়ে তুলেছে অনেককে।