যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বনাম হেলে পড়া বিশ্বরাজনীতি

গ্লোবাল কনফ্লিক্ট ট্র্যাকারের ওয়েবসাইটে কমলা রঙের বৃত্তগুলো জানান দেয় বিশ্ব যেন যুদ্ধময়। আফ্রিকা আর মধ্যপ্রাচ্য দেখলে মনে হয় ‘গুটি বসন্ত’ রোগে আক্রান্ত বিশ্ব মানচিত্র।

রাশিয়া-ইউক্রেনের সংঘাত এখনও চলছে। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের রেশ আছে এখনও। পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনা আছে। এর মধ্যেই ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা। পালটা আক্রমণে জেরবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।

মিসাইল যত দ্রুত চলছে সেই গতিতে চলছে বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণও। কে কার পক্ষে, কে কার বিপক্ষে? যাদের সামরিক সম্পৃক্ততা নেই তারা আছে পক্ষ-বিপক্ষের সমীকরণে।

রবিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। শুরুর বাক্যেই আছে, `In the wake of attacks on Iran’। এই লাইনের দ্বিতীয় অংশে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশিদের নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সব পক্ষকে উত্তেজনা পরিহার করে কূটনৈতিক আলোচনায় সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতির তৃতীয় অনুচ্ছেদে মধ্যপ্রাচ্যের বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায়’ নিন্দা জানানো হয়েছে।

পুরো বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ নিয়ে বাংলাদেশেই ঢের সমালোচনা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশ কি কোন পক্ষ নিল?

গবেষক আলতাফ পারভেজ তার ফেইসবুকে লিখেছেন, “বাংলাদেশীর জন্য লজ্জার দিন আজ। ইরানে আগ্রাসনের শর্তহীন নিন্দা করা হলো না।”

আলতাফ পারভেজ আলাপ-কে বলেন, “শেখ হাসিনাও একদিকে ঝুঁকে থাকতো, এই সরকারও আরেকদিকে ঝুঁকে থাকলো। এটাতো গণঅভ্যুত্থানের পরের বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না।”

যদি বাণিজ্যসহ নানা কারণে কূটনৈতিকভাবে পক্ষ নেওয়ার বিষয় থাকেই তাহলে এমন ‘চূড়ান্ত ভারসাম্যহীন’ বিবৃতি দেওয়ার চেয়ে না দেওয়াই সমীচিন ছিল বলে মনে করেন এই লেখক ও গবেষক।

একদিন পর সোমবার অবশ্য আয়াতুল্লাহ খামেইনির নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সেখানে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এটা আন্তর্জাতিক আইন ও রীতির লঙ্ঘন।

তবে এই বিবৃতিতেও কার বা কাদের হামলায় খামেইনি নিহত হলেন তার উল্লেখ নেই।

বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বিষয়ে উল্লেখ আছে। ২৫ নাম্বার অনুচ্ছেদের ‘খ’ দফায় বলা হয়েছে, “প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন।”

দফা ‘গ’-তে বলা হয়েছে, “সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন।”

হামলা অনুমেয়ই ছিল

একদম যে আঁচ করা যায়নি তা নয়। যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বেশ কিছু দেশ যখন ইরানে থাকা নিজেদের নাগরিকদের বারবার সতর্কবার্তা দিচ্ছিলো তখন এক ধরনের ইঙ্গিত মিলছিলো বটে। কিন্তু সময়টা ঠিক ধরা যায়নি।

আলোচনা চলছিল। ছাব্বিশে ফেব্রুয়ারি বৈঠক হয়েছিল জেনেভায়। ওমানের মধ্যস্থতায় সেই বৈঠকেও কোনো ফল আসেনি। তবে আশা ছিল দুই পক্ষেরই।

এরপর আর তর সয়নি যুক্তরাষ্ট্রের। আলোচনার ইতি ঘটিয়ে ইরানের আকাশে উড়ে যায় একের পর ফাইটার জেট। কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনা আর ইরানের আশেপাশে মার্কিন সামরিক সমাবেশ জোরদারের পর এই হামলা হয়।

কার্যত চীন ও রাশিয়া ছাড়া আর কেউই ইরানের পক্ষে নেই। বলা ভালো, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের সহজাত অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে সামরিক সহায়তা বা যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইঙ্গিত নেই।

জাতিসংঘের ‘শান্তি আহ্বান’

হামলা আর পালটা হামলা পর যুদ্ধ যখন তাতিয়ে উঠেছে তখনেই বিবৃতি নিয়ে হাজির হন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘বলপ্রয়োগ’ এবং এর জবাবে ইরানের পালটা পদক্ষেপেরও নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করছে।

সব সদস্যরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ সনদসহ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এবং অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান তিনি।

এরপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ শনিবার জরুরি বৈঠকে বসে। চলতি মাসে পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকা যুক্তরাজ্য বৈঠকে সভাপতিত্ব করে।

তবে যুদ্ধ বন্ধের কোনো উদ্যোগের কথা জানা যায়নি।

কে কার পক্ষে

ইরানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ সংখ্যক শিয়া মুসলিমের বাস। এরপরেই আছে দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমের দুই প্রতিবেশি পাকিস্তান ও ইরাক।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে এই দুই দেশেই।

রবিবার পাকিস্তানের তিনটি জায়গায় সহিংসতায় ২৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

করাচিতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীরা দেয়াল টপকানোর চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি করে। সেখানে ১০ জন মারা যান। 

উত্তর পাকিস্তানের শহর স্কার্দুদে জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর গুলিতে নিহত হয়েছেন ১১ জন। ইসলামাবাদে দুইজন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনাদের সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছি আমরা।”

ইরানের জনগণের মতো “প্রত্যেক পাকিস্তানিও যে শোকাহত” সে কথাও বলেন নাকভি।

তবে ইসলামাবাদ ভারসাম্য রেখেই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। ইরানের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। একইসাথে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ইরানের পালটা হামলারও নিন্দা জানিয়েছে।

আলোচনা চলমান অবস্থায় এই হামলায় জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘনের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে দেশটি। এরপর ইরানের হামলায় আক্রান্ত মধ্যাপ্রচ্যের দেশগুলোর শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সাথে টেলিফোনে কথাও বলেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার।

ভারত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিয়ে ভারতের প্রকাশ্য অবস্থানও কূটনীতিমুখী। আটাশে ফেব্রুয়ারি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সব পক্ষকে সংযম দেখাতে হবে ও সংলাপের পথ খোলা রাখতে হবে। তারা কাউকেই সরাসরি দায়ী করেনি। 

রয়টার্স এক বিশ্লেষণে বলেছে দিল্লির মূল উদ্বেগ হলো সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এই যুদ্ধ ভারতকে এমন অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে যেখানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বজায় রেখেই তেহরানের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক ধরে রাখতে চায় দেশটি।

তবে দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছ। বিশেষ করে গত সপ্তাহে নরেন্দ্র মোদীর ইসরায়েল সফর এবং ‍যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নেতানিয়াহুর সাথে তার কথোপকথনকে সামনে আনছে তারা।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় গভীর। আবার চাবাহার বন্দর ঘিরে ভারত-ইরান সহযোগিতা অনেক বছর ধরেই দিল্লির কৌশলগত নীতির অংশ।

রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সম্পর্ক বরাবরই শীতল। ইউক্রেন ইস্যু তা আরো বাড়িয়েছে। রাশিয়া ইরানের পাশেই আছে, তবে বিবৃতিতে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলাকে ‘পরিকল্পিত ও উসকানিবিহীন আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

রাশিয়া অভিযোগ করেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে হুমকি ‘অতিরঞ্জিত’ করে ‘সরকার পরিবর্তনের’ লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের চক্রে পড়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা জানিয়েছে মস্কো।

চীন

বিশ্বরাজনীতির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র-চীন। ইরান ইস্যুতেও বেইজিংও অবস্থান স্পষ্ট। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

তারা ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানিয়ে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। 

‘ইথ্রি’ যৌথ বিবৃতি

ইউরোপের তিন প্রভাবশালী রাষ্ট্র ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ইথ্রি’ বলা হয়। বিরল এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পরে এমন কার্যক্রম থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরনাকে নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও দমননীতি বন্ধের আহ্বান জানানোর কথাও বলা হয়েছে ইথ্রি’র বিবৃতিতে।

তবে তারা স্পষ্ট করেছে, হামলায় তাদের কোনো দেশ অংশ নেয়নি। আর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পক্ষে বা বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান না নিলেও ইরানের পালটা হামলার নিন্দা জানিয়ে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য বলেছে, ইরানকে নির্বিচার সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়াও যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ বলেছেন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে ইরানের জনগণের সংগ্রামের পাশে রয়েছে তার দেশ।

তিনি বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জি সেভেন অংশীদাররা ইরানকে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন, যা উপেক্ষিত হয়েছে।

কানাডা

কানাডা খোলাখুলিই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে না পারে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে কানাডা সমর্থন করে।

তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসের প্রধান উৎস হিসাবে ইরানকে দায় করেছেন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নির্বাহী শাখা ইউরোপীয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেন পরিস্থিতিকে “চরম উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেছেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপ ঠেকানো অত্যন্ত জরুরি।

ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক হাই রিপ্রেজেনটেটিভ কাজা ক্যালাস চলমান পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করেন। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, “ইরানের সরকার বহু মানুষ হত্যা করেছে এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।”

স্পেন

তবে স্পেন স্পষ্টভাবেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সমালোচনা করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, এই একতরফা সামরিক পদেক্ষেপ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত ও বৈরী করে তুলেছে।

তিনি উত্তেজনা কামিয়ে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং ফের আলোচনা শুরুর তাগিদ দিয়েছেন।

ইউক্রেন

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে দেশটির “দৃঢ় সিদ্ধান্তের প্রতিফলন” বলে উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

এক ভিডিও বার্তায় তিনি ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা টেনে এনেছেন। তিনি বলেছেন, “রাশিয়া ইউক্রেনের শহরগুলোতে ইরানি নকশার শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে হাজার হাজার হামলা চালিয়েছে।”

মধ্যপ্রাচ্যে নিসঙ্গ ইরান

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইরানে হামলা শুরুর নেপথ্যে আছে সৌদি আরব। সৌদি যুবরাজের চাপেই ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

তার বলছে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফেব্রুয়ারিতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একাধিকবার ব্যক্তিগত ফোনকলে ইরানে হামলার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। যদিও প্রকাশ্যে তিনি কূটনীতির পক্ষে ছিলেন।

শুধু সৌদি আরব কেন, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ প্রভাবশালী দেশই ইরানের পাশে নেই।

কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত হামলার শুরুতেই উত্তেজনা কমিয়ে সংযত থাকার আহ্বান জানায়। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলে।

কিন্তু ইরান যখন পালটা প্রতিক্রিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তখন দেশগুলোর নিজেদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের কারণে উদ্বেগ জানায়। একইসাথে প্রতিরক্ষার অধিকারের কথাও মনে করিয়ে দেয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের হামলাকে ‘জাতীয় সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসাবে দেখছে। নিজেদের রক্ষার অধিকারের কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।

দেশটি বলেছে ইরানের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা নিজেদের নাগরিক ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখে।

কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলছে ইরানের হামলা জাতিসংঘ সনদের ঘোরতর লঙ্ঘন। নিজেদের সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অধিকারের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে দেশটি।

প্রায় অভিন্ন ভাষায় কাতারও বলছে এই হামলা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমাধানকেও জটিল করে তুলতে পারে। এমনকি মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানের শান্তি প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে শঙ্কা দেশটির।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো সংঘাতে লেবাননকে টেনে নিলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

খানিকটা ব্যতিক্রম ওমান। দেশটি সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো। সবশেষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত না রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছিল ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল–বুসাইদি।

তিনি জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তি ‘হাতের নাগালে’। এর কয়েক ঘন্টা পরেই ইরানে হামলার ঘটনা ঘটে।

এতে হতাশা জানায় ওমান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কারও স্বার্থই রক্ষা করবে না।

এর বাইরে হুতি বা হেজবুল্লাহ ইরানের পক্ষে সশস্ত্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার আর ধোপে টিকছে কই!