হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ অন্য কোনো দেশে জ্বালানি পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরান সরাসরি কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রাহিমী জাহানাবাদী। বুধবার সকালে ইরান দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
জলিল রাহিমী জাহানাবাদী বলেন, ইরান বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী কোনো জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।
তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় দুই পক্ষই ইতিবাচক ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আগের সমঝোতাগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরই ইরানে হামলা চালানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে সমঝোতা মানে আত্মসমর্পণ করা বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, সমঝোতার নামে আত্মসমর্পণ মেনে নেবে না ইরান। সংঘাতের তৃতীয় দফায় পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূতের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্রের কথা বললেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে বিশ্বাস করে না।
“ইরান নতুন যেকোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রস্তুত রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধ চায় না”, বলেন রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রদূতের দাবি, ইরানের জলসীমা থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অবস্থান করছে। এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, “ইরানের দৃষ্টিতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি অঙ্গরাজ্যের মতো। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ওপর তার মিত্রদের যে আস্থা ছিল, তা এখন কমেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রণালিটি পুরোপুরি খোলা রাখার বিষয়টি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের ওপর নির্ভর করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন হবে বলেও তিনি মনে করেন না।