জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করবেন তারেক রহমান। একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
রবিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
তিনি জানান, ২২এ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতঃরাশে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মসূচি শুরু করবেন। এরপর তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
পরদিন ২৩এ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক সভায় বক্তব্য রাখবেন।
একই দিন বিকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্ট ট্রানজিশন’ সভায় যোগ দেবেন।
২৪এ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনের সভাপতির আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে তৈরি হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন।
সেখানে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন। ওইদিন বিকালেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
মূল অধিবেশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে অংশ নেবেন। ২৩এ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড এক আয়োজনে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।
২৪এ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
সফরে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে দেখা করবেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই সফর বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াবে।
নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষ করে আগামী ২৫এ সেপ্টেম্বর রাতে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।