ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসায় নতুন আশা: শংকা কি আসলেই কাটছে?

বাংলাদেশে ভারতের সব ভিসা কেন্দ্র প্রথমে বন্ধ হয় ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারতীয় হাই কমিশন তাদের ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ ঘোষণা করে। ওই বছরের ৭ই অগাস্ট ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে এক বার্তায় বলা হয়েছিল, “অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সব ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।"

যদিও সীমিত পরিসরে মেডিক্যাল ভিসা প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছিল দেশটি। দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন সংযোগের পর সুবাতাসের বার্তা মিলেছে ২০২৬ সালের ২৫এ জুন। প্রায় ৬৮৭ দিন পর ট্যুরিস্ট ভিসা স্বাভাবিকের ঘোষণায় জট খুললো দুই দেশের। বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভ্যাক) এক সংবাদ সম্মেলনে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেন।  

হাইকমিশনার বলেন, “আমি খুব খুশির সাথে ঘোষণা করছি যে, আমরা ট্যুরিস্টদের জন্য সাধারণ ভিসা আবেদন পুনরায় চালু করছি।”

২৮এ জুন থেকে আবেদন করা যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা জরুরি ক্ষেত্রে মানবিক নজরে মেডিকেল ভিসা আবেদন গ্রহণ অব্যাহত রাখবো।”

ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রামের বাইরে ভিসা আবেদনের কার্যক্রম বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “অন্যান্য শহরে ধীরে ধীরে ভিসা আবেদন কার্যক্রম বাড়ানো হবে। আমরা আশা করি এর দ্বারা দুই সার্বভৌম দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।"

এর আগে ২০২৪ সালে ঢাকায় ভারতের ভিসা সেন্টারের বাইরে বিক্ষোভের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাইকমিশন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করে ২০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি আবেদনকারীর পাসপোর্ট ফেরত দেয় বলে জানায় জার্মান ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে। 

এরপর থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় ভারতের পাঁচটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু থাকলেও সেগুলোতে শুধু জরুরি ও মানবিক (ইমার্জেন্সি ও হিউম্যানিটারিয়ান) ভিসা আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়া চালু ছিলো।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সেসময় ডয়েচে ভেলেকে বলেছিলেন, “আমরা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পূর্ণাঙ্গভাবে ভিসা কার্যক্রম আবার শুরু করা হবে।”

ভারত শুধু ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ রাখলেও এর প্রভাব দুই দেশেই পড়েছে বলে মনে করেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ বিন আলী। তিনি মনে করেন চিকিৎসার জন্য রোগী, শিক্ষার্থী ও যাদের পরিবারের সদস্যরা ভারতে আছেন, তারা সবাই ভোগান্তিতে পড়েছেন।

আর এই সংকটের প্রভাব দুই দেশের উপরই পড়েছে বলে আসিফ জানান।

“ভারতের হাসপাতাল, শিক্ষা খাত, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিও বাংলাদেশি যাত্রী কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটাকে একপক্ষের লাভ-ক্ষতির প্রশ্ন হিসেবে না দেখে বলা ভালো, ভিসা বন্ধ থাকায় দুই দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে”।

ট্যুরিস্ট ভিসায় আশা, তারপরও আছে শংকা

ভারতের গণমাধ্যম নিউজএইট্টিন ১৪ই মার্চ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ভারত সফর করেছেন মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজার বাংলাদেশি। যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিলো ১৭ লাখ ৫০ হাজার এবং ২০২৩ সালে ছিলো ২১ লাখ ২০ হাজার। যদিও তারা বলছে বাংলাদেশ বাদ দিলে ভারতে বিদেশি পর্যটকের আগমন ২০২৫ সালে বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।

ট্যুরিস্ট ভিসা স্বাভাবিক হওয়ায় ভ্রমণকারীদের জন্য সুখবর হিসেবে দেখছেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) পরিচালক সাব্বির আহমেদ।

“গতকাল হাই কমিশনারের ঘোষণার পরই আমরা প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দেই ভিসা শুরুর বিষয়ে। তখন থেকেই প্রচুর ভ্রমণ পিপাসু মানুষ যোগাযোগ শুরু করেছেন। আমরা খুবই আশাবাদী। কারণ দীর্ঘদিন পর ট্যুরিস্টদের এই স্পটটি খুলতে যাচ্ছে”, বলেন কসমস হলিডে’র প্রধান নির্বাহী সাব্বির।

তিনি আরও জানান, ভারত বাংলাদেশিদের কাছে জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট কম খরচে ভ্রমণের জন্য।

“নেপালে সর্বনিম্ন প্লেন ফেয়ার ৪৪ হাজার টাকা, থাইল্যান্ডের টিকিট ৪৫-৪৮ হাজার টাকা, ভুটানের টিকিট প্রায় ৪৭ হাজার টাকা। সুতরাং যে মানুষটার বাজেট কম কিন্তু দেশের বাইরে ঘুরতে যেতে চান। তার জন্য দার্জিলিং সবচাইতে কাছে। খরচের হিসেবে দেখা যাবে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ঘুরে আসতে পারবেন,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি। 

যদিও তিনি মনে করেন শুরুতে ভিসা পাওয়া অনেক কঠিন হবে। কারণ প্রচুর মানুষ আবেদন করবেন। সেক্ষেত্রে ভারতীয় দূতাবাস কী পরিমাণ ভিসা দেবেন সেটাও নির্ভর করবে। একইসঙ্গে ভিসার তারিখ পাওয়ারও একটা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে টোয়াব-এর মিডিয়া পরিচালক মো. ইউনুসও আলাপ-কে বলেন, “এখন মাত্র ঘোষণা হয়েছে। কী পরিস্থিতি হবে, কী পরিমাণ ভিসা দেওয়া হবে সেসবও আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।"

দীর্ঘদিন এই ভিসা বন্ধ থাকার কারণে অনেক ছোট ছোট ট্যুরিস্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। আর তাই জটিলতা দূর হলে ব্যবসায়িক ক্ষতি থেকে সবাই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন বলেও জানান মো. ইউনুস।

বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভ্যাক) এক সংবাদ সম্মেলনে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেন।

ঘুরে দাঁড়াবে মেডিক্যাল ট্যুরিজমও

ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকলেও ভারত চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি ভিসা অগ্রাধিকার দিবে বলে গণমাধ্যমে জানিয়ে আসছিল। তারপরও চিকিৎসা ভিসায় নানান জটিলতার বিষয়ও শোনা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যানসার আক্রান্ত একজন রোগী আলাপ-কে জানান, “ক্যানসার ধরা পড়ার পর থেকেই ভারতের ভিসা নেওয়ার চেষ্টা শুরু করি। ভারত যাওয়ার পর ডাক্তাররা আমাকে দ্রুত অপারেশনের করতে বলেন। কিন্তু আমার সঙ্গে এটেনডেন্ট ছিলো না। আমি অনেক চেষ্টা করেও পরিবারের কাউকে ভারত আনতে পারিনি। তখন হাসপাতালের মাধ্যমে এটেনডেন্ট সার্ভিস আমাকে নিতে হয়েছে। যা খরচকেও বাড়িয়ে দেয়।"

আল-জাজিরা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে খাদিজা খাতুনের একটি গল্প তুলে ধরে। যেখানে বলা হয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার স্বামী নুর-ই-আলম চিকিৎসাধীন ছিলেন। তারা জানতে পারেন দ্রুত তার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে ভারতের এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব গ্যাসট্রোএন্টারোলজি-তে যাওয়া সিদ্ধান্ত নেন। 

কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তারা ভারতীয় ভিসা পাননি। খাদিজা আল-জাজিরাকে বলেন, “অক্টোবর (২০২৪) থেকে আমরা সব ধরনের চেষ্টা করেছি—ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, সরকারি পর্যায়ে পরিচিতদের সাহায্য চেয়েছি। ভারতই আমাদের একমাত্র আশা।”

খাদিজা জানান, থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আর এজন্যই গন্তব্য ভারত।

ভারতের ভিসা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে অনেকেই এমন সংকটে পড়েছিলেন।

সীমিত ভিসা আবেদনের কারণে বাংলাদেশিরা যেমন চিকিৎসা সেবা পেতে দুর্ভোগে পড়েছিলেন। একইসঙ্গে ভারতেও মেডিক্যাল ট্যুরিজমে পড়েছে এর প্রভাব।

ভারতীয় গণমাধ্যম ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেস ১৪ই জুন এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে ভিসা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং ভারতীয় ভিসা ইস্যু কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ থেকে রোগী আসা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমে গেছে।

তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিদেশি রোগীদের প্রায় ৭৫ শতাংশই ছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক। ওই বছর মোট ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৩৮৭ জন চিকিৎসা পর্যটকের মধ্যে ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৬ জনই এসেছিলেন বাংলাদেশ থেকে।

আর এজন্য ভারতের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতাল চেইনগুলো তাদের আন্তর্জাতিক রোগী আকর্ষণের কৌশল নতুন করে সাজাচ্ছে বলেও জানায় ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেস।

শিক্ষার্থীদের সমস্যাও সমাধানের আশা

ট্যুরিস্ট ভিসার জটিলতায় সবচাইতে বড় সমস্যায় পড়তে হয় ইউরোপমুখি শিক্ষার্থীদের। বাংলাদেশে ইউরোপের কয়েকটি দেশের দূতাবাস নেই। বিশেষ করে কিছু দেশ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে খুবই জনপ্রিয় বলে আলাপ-কে জানান স্টাডি সলিউশন্সের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার রাকিবুল হাসান।

“অস্ট্রিয়া, পোল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, এস্তোনিয়া, গ্রিস, স্পেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য পছন্দের জায়গায়। এ দেশগুলোর ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য ভারত যাওয়া বাধ্যতামূলক।”

ডয়েচে ভেলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ভারতের ভিসা জটিলতায় বাংলাদেশের প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এদের সবাই ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পেয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কূটনীতিকদের সঙ্গে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক বৈঠকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইউরোপীয় দেশগুলোকে নয়া দিল্লি থেকে ঢাকায় বা অন্য কোনো প্রতিবেশি দেশে ভিসা আবেদন কেন্দ্র স্থানান্তরের আহ্বান জানান। পরবর্তীতে যার কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।  

যদিও স্টাডি সলিউশন্সের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার রাকিবুল হাসান মনে করেন কিছু দেশের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা ভিয়েতনামে যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে আসা-যাওয়ার খরচ অনেক বেশি। এজন্য শিক্ষার্থীদের সহজ ও কম খরচে ভারতই থাকে প্রধান পছন্দ।

তিনি আলাপ-কে আরও বলেন, ভারতে যাওয়ার জন্য ভিসায় খুব একটা জটিলতা নেই। ডকুমেন্টেশন ঠিক থাকলে দূতাবাস খুব একটা সমস্যা করেনি। তবে জটিল হলো তারিখ পাওয়া। এটা পেতেই বড় সময় চলে যায়। অনেক শিক্ষার্থীরা তাদের সেশনও মিস করেছে।

ভিসা জটিলতায় শিক্ষার্থী ভর্তিতে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আলাপ-কে বলেন, আগে যেখানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আমরা ১৫০ থেকে ২০০ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় যেতে সহযোগিতা করতাম। সেখানে এই সময়টাতে কমে এসে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩০-৪০ জন হয়ে গেছে। এটাই অনেক বড় প্রভাব।

এখন ট্যুরিস্ট ভিসা স্বাভাবিক হলে শিক্ষার্থীদের জটিলতা ধীরে ধীরে কমে যাবে বলে আশা করেন রাকিবুল হাসান। তার মতে শিক্ষার্থীদের যাত্রাটা সহজ হবে। একইসঙ্গে সেশন মিস হওয়ার ঝুঁকি থেকেও তারা রক্ষা পাবেন।

যদিও ভারতে কেউ পড়তে গেলে খুব একটা সমস্যার মুখোমুখি হননি বলে জানিয়েছেন ভারতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করা জিইই বাংলাদেশ-এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা অমিত বিশ্বাস। তিনি বলেন, ভারতে পড়ার ক্ষেত্রে খুব একটা জটিলতা ছিলো না। কারণ ট্যুরিস্ট ভিসায় রেস্ট্রিকশন ছিলো, স্টুডেন্ট ভিসায় নয়।

ভারতে পড়তে গেলে শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছুটা বদল এসেছে বলেও জানিয়েছেন অমিত। আগে যেখানে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে অফার লেটার নিয়ে ভিসার আবেদন করা যেতো। সেখানে এখন এটিকে সম্পূর্ণ অনলাইন করা হয়েছে। এখানে কিছুটা জটিলতা আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে তিনি বলেছেন এই প্রক্রিয়া বদল হওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই।

আসিফ বিন আলী মনে করেন ভারতের ভিসা স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি অন্যতম পদক্ষেপ।

“দীর্ঘ সময় ভিসা সীমিত থাকায় শুধু যাতায়াতের প্রশ্ন ছিলো না, এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও স্বাভাবিক যোগাযোগের ওপরও চাপ তৈরি করেছিল। এখন ভিসা চালু হওয়া মানে সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে গেছে, তা নয়। তবে এটি একটি প্রয়োজনীয় সংকেত যে দুই পক্ষ অন্তত জনপর্যায়ের সংযোগকে আবার গুরুত্ব দিচ্ছে”।