অগাস্ট ২০২৪ থেকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এর সুপারিশের ভিত্তিতে ৪৮১ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সরকারি স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আজম খান। বুধবার এনসিপি’র সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) যাচাই-বাছাই ও তদন্ত পরিচালনা করে এবং তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ৪৮১ জন ব্যক্তির গেজেট নোটিফিকেশন, লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা বাতিল করেছে।
বুধবার সংসদ অধিবেশনে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেন আখতার হোসেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে এক লাখেরও বেশি ভুয়া।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, অগাস্ট ২০২৪ থেকে এখন পর্যন্ত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত ৮৪২টি অভিযোগ জামুকার কাছে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে কাউন্সিলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি উপকমিটি তদন্ত ও শুনানি করা হয়েছে। যদি কেউ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না বলে প্রমাণিত হন, তাহলে তার গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়।
আহমদ আজম খান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পর্যালোচনার কাজ চলমান এবং এটি জামুকার নিয়মিত কার্যক্রম।
তালিকাভুক্ত কোনো মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, মিথ্যা প্রমাণিত হলে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
আহমদ আজম খান আরও জানান, জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০৩টি সভা করেছে এবং মোট ৬ হাজার ৪৬৫ জনের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করেছে।
এ ছাড়া সরকারি দলের সংসদ সদস্য এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন (নোয়াখালী-১)-এর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধার তথ্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পান। এছাড়া বছরে দুটি উৎসব ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে, পহেলা বৈশাখে ২ হাজার টাকা এবং বিজয় দিবসে ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
তবে মন্ত্রী জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে বর্তমানে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই।