মার্চে সারা দেশে দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮২ জন, তিন জনের একজন মোটরসাইকেল আরোহী

সারা দেশে পরিবহণ দুর্ঘটনায় মার্চ মাসে নিহত হয়েছেন ৬৮২ জন। আহত হয়েছেন আরো ১৭৯৬ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এই তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংগঠনটি।

এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন, ৪৫ টি রেল দুর্ঘটনায় ৫৪ জন এবং ৯টি নৌ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছে।

এই সময়ে ২২২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩৭ জন নিহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ শতাংশ।

বিভাগ অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে ঢাকায়। সবচেয়ে কম বরিশালে।

দুর্ঘটনায় ৯৭৫টি যানবাহনের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

এতে দেখা যায় ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংবাদপত্রে উঠে আসা দুর্ঘটনার খবরের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। প্রকৃত হতাহতের ঘটনা আরো বেশ কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কিছু কারণের কথা উল্লেখ করেছে তারা।

এসবের মধ্যে আছে, দেশের সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা অবাধে চলাচল। জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন, রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের নানাবিধ ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।

এছাড়াও অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন, বাসের ছাদে, খোলা ট্রাক ও ট্রেনের ছাদে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

একইসাথে ৬০ ঘণ্টা ইনক্লুসিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, মহাসড়কে সার্ভিস লেইনের ব্যবস্থা করা, সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোসহ দুর্ঘটনার প্রতিরোধে ১৩ দফা সুপারিশ করেছে তারা।