আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ বা ‘প্যানিক বায়িং’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। মঙ্গলবার ঢাকায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা একটি সাময়িক সমস্যা যা কাটিয়ে উঠতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।”
অতিরিক্ত মজুতে নিরুৎসাহিত করে তিনি বলেন, সবাই যদি একযোগে নিজের গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করার প্রতিযোগিতায় নামেন, তবে সাধারণ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। একজনের অতিরিক্ত সংগ্রহের কারণে অন্যজন হয়তো জরুরি প্রয়োজনে এক লিটার তেলও পাবেন না। এই ধরনের প্রবণতা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে।
এই সংবাদ সম্মেলনে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ তেল সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ৮ দফা দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবতার আলোকে ক্রেতা সাধারণকে সচেতন ও ধৈর্য ধারণ করতে হবে; পেট্রোল পাম্পে ট্যাঙ্ক শূন্য অবস্থায় তেল নিতে ক্রেতাদের হুমড়ি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে; পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করতে হবে; উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে; ডিপো থেকে ট্যাঙ্কলরির চেম্বারের ধারণ ক্ষমতা (যেমন ৪,৫০০ লিটার) অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে হবে। আর তা নাহলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, অযথা পেট্রোল পাম্প আক্রমণ, পেট্রোলপাম্প মালিকদের উপর একতরফা দোষ চাপানো যাবে না।
এ ছাড়াও সংকট উত্তরণে একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।
যারা অবৈধভাবে তেল মজুত করছে কিংবা গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরি করছে, সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে মনে করিয়ে দেন সাজ্জাদুল করিম কাবুল। তিনি বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসি থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই।