মধ্যপ্রাচ্য সংকটের এক মাসে কত মানুষ মারা গেলেন

ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের এক মাসে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা, রেড ক্রস, রেড ক্রিসেন্টের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত শুরু হয়। ইরান ইসরায়েল, মার্কিন ঘাঁটি ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। ইসারায়েল হামলা চালায় লেবাননেও।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএনএ’র তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে তিন হাজার ৩৮৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে এক হাজার ৫২৭ জন বেসামরিক নাগরিক। এর মধ্যে অন্তত ২২৮ জন শিশু।

মাঠপর্যায়ের তথ্য, স্থানীয় সূত্র, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা, সিভিল সোসাইটি নেটওয়ার্ক, ওপেন সোর্স এবং সরকারি বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে পরিসংখ্যানটি তৈরি করেছে সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে অন্তত ১ হাজার ৯০০ জন নিহত হয়েছে। আহতের সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি।

লেবানন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোসরা মার্চ থেকে ইসরায়েলের হামলায় ১ হাজার ১৪২ জন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে অন্তত ১২২ জন শিশু।

হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধ শুরু করার পর সংগঠনটির চারশ’র বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে সরকারি হিসাবে এসব যোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত কিনা, তা পরিষ্কার নয়।

সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরাকে অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক, ইরান-সমর্থিত শিয়া পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি পেশমার্গা এবং সেনাসদস্য রয়েছেন।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র

ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর চারজন সেনাও নিহত হয়েছে।

২২এ মার্চ লেবানন সীমান্তের কাছে ভুলবশত গুলিতে এক ইসরায়েলি কৃষক নিহত হয়েছেন।

যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইরাকের আকাশে একটি মার্কিন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬ জন নিহত হন।

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে আরও ৭ জন নিহত হয়েছেন।

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেইসে ইরানের হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও হতাহত

ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুইজন সেনাসদস্য আছেন।

২২এ মার্চ কাতারের জলসীমায় একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হন। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে কাতারের চারজন সেনা, যৌথ কাতার-তুরস্ক বাহিনীর একজন তুর্কি সেনা এবং তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান আসেলসানের দুইজন প্রযুক্তিবিদ ছিলেন।

কুয়েত কর্তৃপক্ষ ৬ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। প্যালেস্টাইনের পশ্চিম তীরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ জন নারী নিহত হয়েছেন।

২৮এ ফেব্রুয়ারি সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েইদা শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ জন নিহত হন।

বাহরাইন দুটি আলাদা হামলায় ২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানী মানামার একটি আবাসিক ভবনে হামলাও রয়েছে।

২৪এ মার্চ বাহরাইনে ইরানি হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন, যিনি মরক্কোর নাগরিক ছিলেন।

১৩ই মার্চ ওমানের সোহার প্রদেশের একটি শিল্পাঞ্চলে ড্রোন হামলায় ২ জন নিহত হন। এর আগে মাসকাট উপকূলে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

সৌদি আরবের রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে আল-খারজ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রে আঘাতে ২ জন নিহত হয়েছেন।

ফ্রান্স

উত্তর ইরাকে ড্রোন হামলায় একজন ফরাসি সেনা নিহত এবং আরও ৬ জন আহত হয়েছেন। তারা সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন।