আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য সাবেক একজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগসহ পাঁচই অগাস্টের পর ট্রাইব্যুনালের যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান তিনি। এর আগে এই অভিযোগ নিয়ে ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম আলো ও নেত্র নিউজের এক যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি ও সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের কাছে জামিন করিয়ে দেবার বিনিময়ে এক কোটি টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন সাইমুম।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে হওয়া একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাই করে এই দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগের মুখে তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাইমুমকে ঐ মামলা থেকে সরিয়ে দিলেও, তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং তিনি ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দায়িত্বে বহাল ছিলেন।
প্রতিবেদনের বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আজকে সকালবেলা যখন আমি এই নিউজটা আমার বাসায় দেখলাম, তাৎক্ষণিকভাবে আমি আমার সব প্রসিকিউটরদেরকে বললাম যে আপনারা সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিত থাকবেন। এই বিষয়টা কী, কেন হল, এই বিষয়গুলো আমাদের বিস্তারিত আমি জানার চেষ্টা করেছি।
“যে মামলার বিষয়বস্তুটা নিয়ে এই নিউজটা এসেছে, পার্টিকুলারলি সেই মামলাটা আমি আজকে তাৎক্ষণিকভাবে যার কাছে ছিল, আমি সেটা কল করেছিলাম। করে আমি কেসটা প্রাথমিকভাবে এটার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছি। এবং মূলত আমাদের আজকের এই সকালবেলার বৈঠকটা এই কারণেই ছিল। আর অনেকগুলো বিষয় আছে যে আমাদের অভ্যন্তরীণ অনেক কিছু থাকবে, এগুলো তো আমরা পাবলিকলি বলার কোনো সুযোগ নেই, বলতেও পারব না।”
সোমবার এক প্রজ্ঞাপনে আইন মন্ত্রণালয় সাইমুমের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে প্রসিকিউটর পদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৭ই অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সাইমুম।
মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদের তিনি শুরু থেকেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
এই ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের পুরো বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয় কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শতভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়, আমি আপনার সাথে একমত। যে এরকম যদি কোনো বিষয় হয়, তাহলে তো অবশ্যই আমাদের ট্রাইব্যুনাল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমাদের ইমেজ সংকট হয়।”
সাইমুমের ফাইলপত্র ইতিমধ্যে নিজের হেফাজতে নিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন যে, ৫ই অগাস্টের পর থেকে ট্রাইব্যুনালের যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
এছাড়া আগের আমলে হওয়া কোনো অনিয়ম বা অভিযোগের বিষয়েও তিনি তদন্ত করবেন এবং প্রয়োজনে সাবেক চিফ প্রসিকিউটরের সহায়তা বা ব্যাখ্যা চাইবেন বলে জানিয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, তার আমলে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র দুর্নীতির প্রমাণ পেলে তাকে এক মুহূর্তও ছাড় দেওয়া হবে না।
“আমি আপনাদেরকে একটু মনে করিয়ে দেই, আমি আমার দ্বিতীয় (দায়িত্ব নেওয়ার পর) সাক্ষাৎকারে আপনাদের কাছে বলেছিলাম, আমার পিরিয়ডে, আমার কর্মকালে কোনো প্রসিকিউটর যদি তার বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, সাবস্টেনটিভ কোনো অভিযোগ যদি আমি পাই, আমি তাকে স্পেয়ার করব না।”