খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ এবং বিদেশের শোক

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস শোকবার্তায় শোকসন্তপ্ত পরিবার ও নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। গভীর শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে "জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল।" 

শোকবার্তা এসেছে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকেও। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো এক বার্তায় খালেদা জিয়াকে চীনা জনগণের পুরনো বন্ধু অভিহিত করে বলেন, “তার প্রধানমন্ত্রিত্বকালে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব, সমতা এবং পারস্পরিক কল্যাণের ভিত্তিতে সমন্বিত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব গড়ে ওঠে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করে।” 

ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও শোক জানিয়েছেন। 

নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে বাংলায় দেওয়া শোকবার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী খালেদা জিয়ার পরিবার ও বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” 

২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে মোদী তার পোস্টে লিখেছেন, “আমরা আশা করি, তাঁর ভাবনা ও উত্তরাধিকার আমাদের অংশীদারিত্বকে ভবিষ্যতেও পথনির্দেশ করবে।”

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে লিখেছেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তানের “নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু” ছিলেন। 

শোকের এই সময়ে বাংলাদেশের মানুষের সাথে পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তানের মানুষের সংহতি প্রকাশ করে, তিনি বলেন বাংলাদেশের উন্নয়নে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ অবদান অনস্বীকার্য।

ইউরোপিয় ইউনিয়ন ফেইসবুক পোস্টে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা এসেছে ঢাকায় দেশটির দূতাবাসের ফেইসবুক পেইজ থেকে। এতে বলা হয়, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে তার নেতৃত্ব বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনের ফেইসবুক পেইজ থেকেও বাংলাদেশের মানুষের উদ্দেশে জানানো হয়েছে আন্তরিক সমবেদনা।

জাতিসংঘের ঢাকা দপ্তরের ফেইসবুক পেইজ ‘ইউনাইটেড নেশনস ইন বাংলাদেশ’ থেকে একটি পোস্টে খালেদা জিয়ার পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে জাতিসংঘ তার সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ।

এছাড়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল থেকে এসেছে শোকের জোয়ার। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার ফেইসবুক পোস্টে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেন। 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেইসবুক পোস্টে খালেদা জিয়াকে “আমাদের প্রতিরোধের প্রতীক এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের দেশপ্রেমিক” হিসেবে সম্বোধন করেন। সে বার্তায় শফিকুল আলম আরও বলেন, “তিনি শেষ পর্যন্ত একজন যোদ্ধা ছিলেন, আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়ে আশার প্রতীক ছিলেন। তার জীবনব্যাপী সংগ্রামে তিনি বাংলাদেশের প্রকৃত চেতনাকে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান এবং সংগ্রামের স্মৃতি নিশ্চয়ই সংরক্ষিত থাকবে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে থাকবে অনুপ্রেরণা হয়ে।”

জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান বলেন, “মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপরে রহম করুন, ক্ষমা করুন এবং তাঁর প্রিয় জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।” 

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেন, “বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই! ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।” 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তার ফেইসবুক পোস্টে বলেন, “আল্লাহ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।”