মধ্যপ্রাচ্যে ফের নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী জাহাজেও আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড আইআরজিসি জানিয়েছে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল সালেম ও আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় কারগান শহরেও হামলায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশ পালটা-পালটি হামলা চালায়। ইরানের দাবি, তারা বাহরাইনে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং কুয়েতের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেন, শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনায় ইরান সময়ক্ষেপণ করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া শক্তির নয়, বরং দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি যেকোনো চাপের মুখে ইরানের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।