হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেলে মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা ও রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলা ছিলো “ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া”। হামলার পর পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ভূপাতিত হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে একটি মানববিহীন সমুদ্রযানের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর পরই ডনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে জানান, হেলিকপ্টারের দুই পাইলটই নিরাপদ আছেন, তবে এই হামলার জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, একটি ড্রোনের মাধ্যমে হেলিকপ্টারটিতে হামলা চালানো হয়। তবে হামলাটি সরাসরি ইরানের নির্দেশে হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দায় স্বীকার করেনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ ঘটনায় তেহরানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরান কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেবে না।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।”
এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার ঘটনাও একই সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এর আগে তেহরান সতর্ক করেছিল, লেবাননে নতুন হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপ চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে।