কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এমন অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া।
বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাদের মিত্র কিউবার বিরুদ্ধে “জবরদস্তি” ও “হুমকি” বন্ধ করা।
রাশিয়ার ক্রেমলিন বলেছে, হাভানার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ “সহিংসতার কাছাকাছি”।
ক্রেমলিনের মতে, সাবেক বা বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে কিউবা ও ফ্লোরিডার মধ্যে চলাচলকারী দুটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় রাউল কাস্ত্রো জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনায় চারজন নিহত হন। বুধবার রাউল কাস্ত্রোসহ আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনে যুক্তরাষ্ট্র।
তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে, যেগুলোর শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, যেকোনো অজুহাতে কিউবার ওপর বিদেশি শক্তির চাপ প্রয়োগের চেষ্টার বিরোধিতা করে বেইজিং।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত কিউবার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও বিচারব্যবস্থাকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা এবং সবসময় শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকা।
অন্যদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল অভিযোগগুলোকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং “আইনি ভিত্তিহীন” বলে মন্তব্য করেছেন।
জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকেই কিউবা “পতনের জন্য প্রস্তুত” বলে মন্তব্য করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগকে ভিত্তি করেই ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে তাকে ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছিল। বর্তমানে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে নিউইয়র্কে তাদের বিচার হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে রাউল কাস্ত্রোকে কীভাবে বা আদৌ যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে কিনা, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
কিউবায় শাসন পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগ করবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, তাদের প্রথম পছন্দ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি হলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মতপার্থক্য নিরসনে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চললেও হোয়াইট হাউস হাভানার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে যাচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, আর্থিক ও নিরাপত্তা খাতের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একইসঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগেও কয়েকজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার মাদুরো সরকারের মতো আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তার কারণেই এতদিন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপ সামাল দিতে পেরেছিল কিউবা। ধারণা করা হয়, মাদুরো আটক হওয়ার আগে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় পাঠাতো।