অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তার ফেইসবুকে দেওয়া একাধিক পোস্টে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকৌশল এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান নিয়ে বিস্তৃত মন্তব্য করেছেন।
মঙ্গলবার রাতে দেওয়া দীর্ঘ সেই স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই আওয়ামী লীগ আবারও রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। পরে আরেকটি পোস্টে তিনি নিজের বক্তব্যকে “পর্যালোচনা” হিসেবে উল্লেখ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে কী করণীয় হওয়া উচিত, তা তুলে ধরেন।
প্রথম পোস্টের শুরুতেই মাহফুজ আলম লেখেন, “লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে।”
এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেন, যেগুলোর মাধ্যমে তার ভাষায় “লীগ ব্যাক করেছে”।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে দাঁড় করানোর রাজনৈতিক প্রবণতা আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ডানপন্থী শক্তির উত্থান, “মবের শাসন”, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা, সংখ্যালঘু ও মাজারপন্থিদের ওপর হামলা এবং সেক্যুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরির বিষয়গুলোও তিনি উল্লেখ করেন।
মাহফুজ আলম তার পোস্টে অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোর বিভিন্ন জায়গায় “উগ্রবাদীদের সেফ স্পেস” তৈরি হয়েছে এবং “মবস্টারদের হিরো” বানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক সমঝোতা ও নির্বাচনী বণ্টনের অংশে পরিণত করা হয়েছে।
পোস্টে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের “আমলাতান্ত্রিক হয়ে ওঠা”, “কিচেন ক্যাবিনেটনির্ভর সিদ্ধান্ত”, নতুন মিডিয়ার অনুমোদন আটকে দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন কমিশনকে “ক্ষমতারোহণের বার্গেইনিং টুল” হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন।
এছাড়া ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ছাত্ররা বিপ্লবী সংগঠনে রূপ না নিয়ে লুম্পেন চরিত্রের ক্লাব আর মবে রূপ নিয়েছিল।”
স্ট্যাটাসের শেষদিকে মাহফুজ আলম ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে লেখেন, “লীগ ফিরত আসবে। কারণ, সব দোষ মাহফুজ আলমের।”
পৃথক আরেকটি পোস্টে তিনি আগের বক্তব্যকে “পর্যালোচনা” হিসেবে উল্লেখ করে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় করণীয় তুলে ধরেন। সেখানে তিনি দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া, সংখ্যালঘু ও মাজারপন্থিদের ওপর হামলার বিচার দাবি অব্যাহত রাখা এবং “জুলাই গণহত্যার বিচার”কে কেন্দ্রীয় ইস্যু করার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে তিনি উগ্রবাদী ও অন্তর্ঘাতমূলক রাজনীতি প্রতিহত করা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারকে চাপ দেওয়া, বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক চর্চা জোরদার করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাহফুজ আলম আরও লেখেন, গত দেড় বছরের পরিস্থিতিকে “গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের চেয়েও খারাপ” হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে যারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের কর্মকাণ্ড আড়াল করার চেষ্টা করছে, তাদেরও প্রতিহত করা প্রয়োজন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে “ফ্যাসিবাদবিরোধী কমন স্পেইস” তৈরি করা এবং জুলাই আন্দোলনকে কোনো একক মতাদর্শিক বলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখাও বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।