তিন সপ্তাহ পর পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ণ রিফাইনারী

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) সংকটে ‘তিন সপ্তাহ’ বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় সচল হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারী।

ইস্টার্ণ রিফাইনারীর উপ মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং এন্ড শিপিং) আলাপ-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “আজকে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজের অ্যারাইভাল হয়েছে। সেখানে আমাদের লোকজন জাহাজটি রিসিভ করেছে। এরপর লাইটার জাহাজের মাধ্যমে সেই তেল আনা হবে। এতে আজ ও কালকের দিন সময় লাগবে।”

কবে থেকে উৎপাদনে ফিরবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উৎপাদন প্রক্রিয়া কিন্তু এখনো চলছে। এখন শুধু বিটুমিনের প্লান্টটা চলছে। তবে তেল আসলে আশা করছি, ৮ তারিখ থেকে প্রধান তিনটি ইউনিটই চালু হয়ে যাবে।”

সৌদি আরব থেকে আমদানি করা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ জাহাজটি বুধবার বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

রিফাইনারি সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্চ ও এপ্রিলে অপরিশোধিত তেলের কোনো জাহাজ দেশে আসতে পারেনি।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাহাজ আসতে না পারায় রিফাইনারির মজুত দ্রুত কমে যায়। বাধ্য হয়ে উৎপাদনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। তেল পরিশোধন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে নতুন জাহাজ পৌঁছানোকে বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এপ্রিলে রাসতানুরা বন্দর থেকে ১ লাখ টন তেল আসার কথা ছিল। তবে বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২৪ এপ্রিল এমটি নাইনেমিয়া যাত্রা শুরু করে।

যদিও জাহাজটিতে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাচ্ছে। এক জাহাজেই বাড়তি খরচ পড়ছে প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা।

প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম পড়ছে ১০০ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ হাজার ২২৩ কোটি টাকার মতো।

অর্থাৎ প্রতি ব্যারেলের দাম পড়ছে ১২৬ দশমিক ২৮ ডলার।

তবে নতুন জাহাজ আসায় ইস্টার্ণ রিফাইনারী পূর্ণ উৎপাদনে ফিরলে ডিজেল, পেট্রলসহ অন্যান্য জ্বালানির উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, দেশের জ্বালানি চাহিদার ৮০ ভাগই সরাসরি পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। আর ২০ শতাংশ আসে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে।