মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে কিউবা সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত করেছেন। হোয়াইট হাউসের দুই কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর হাভানার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতেই ট্রাম্প এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
নতুন আদেশের আওতায় কিউবা সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তাকারী, দুর্নীতি বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমর্থকরা থাকবেন। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা, এজেন্ট ও সহযোগীরাও এ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পড়তে পারেন।
হোয়াইট হাউস প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, কিউবার অর্থনীতির জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম, ধাতু ও খনি, আর্থিক পরিষেবা, নিরাপত্তা কিংবা অন্য যেকোনো খাতে সক্রিয় বিদেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধেও এই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এছাড়াও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করা যাবে না। কেউ যদি করে তবে তাদের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও আর্থিক খাতে নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল এই সিদ্ধান্তকে “জবরদস্তিমূলক” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের “নিষ্ঠুর ও গণহত্যামূলক” অবরোধকে আরও শক্তিশালী করলো।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ওয়াশিংটনের এ ধরনের নীতির কারণেই কিউবা দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
এদিকে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজের ভাষ্যমতে, মে দিবস উদযাপনের সময় এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার লক্ষ্য হলো কিউবান জনগণের ওপর সম্মিলিত শাস্তি চাপিয়ে দেওয়া। তবে এতে কিউবার জনগণ ভয় পাবে না।
মার্কিন ট্রেজারির নিষেধাজ্ঞা বিভাগে সাবেক তদন্তকারী জেরেমি প্যানারের মতে, অনেক বছরের মধ্যে কিউবার বিরুদ্ধে বিস্তৃত এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। তিনি বলেন, তেল-গ্যাস, খনি ও ব্যাংকিং খাতে যারা এতদিন কিউবায় কাজ করছিল, তাদের জন্য এখন ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ এমন সময় এলো, যখন চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর কিউবার ওপর চাপ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। পরে অন্য দেশগুলোকেও তেল সরবরাহ বন্ধে চাপ দেওয়া হয়। এর ফলে কিউবা জুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে, দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট। অনেক বিদেশি বিমান সংস্থাও দেশটিতে ফ্লাইট স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।