দক্ষিণ চীন সাগরে তাইওয়ানের মন্ত্রীর সফর, নতুন উত্তেজনা

বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। তাইওয়ানের এক মন্ত্রী এই সাগরের এক উপদ্বীপে বিরল সফর করেছেন। তাও এমন সময় যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনস সেখানে যৌথ মহড়া চালাচ্ছে। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইওয়ানের মহাসাগর বিষয়ক মন্ত্রী কুয়ান বি-লিঙ তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত ইতু আবা দ্বীপে সফর করেন। সে সময়  সামরিক বাহিনীর মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন। 

তবে এই দ্বীপটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।  শুধু তাইওয়ান নয়, চীন, ভিয়েতনাম এবং ফিলিপাইনও  এই ক্ষুদ্র দ্বীপের মালিকানা দাবি করে।  

যদিও চীন তাইওয়ানকেও তার ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে, কিন্তু তাইওয়ান নিজেদের একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে দেখে।

এ ছাড়াও এই সফরের সময়টা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনস তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছিল। 

এই মহড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীনও। পালটা হিসেবে চীন দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন উভচর যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে এবং তাইওয়ান প্রণালীতে একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে।

এমন সময় কোস্টগার্ড সদস্যরা একটি সন্দেহজনক জাহাজ থামিয়ে তল্লাশি চালায়। প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, বিশেষ বাহিনী অস্ত্র হাতে জাহাজের কন্ট্রোল রুমে ঢুকে পড়ে।

মাত্র ৪৬ হেক্টরের তাইপিং দ্বীপে প্রায় ২০০ মানুষের বসবাস। স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের এই বৃহত্তম প্রাকৃতিক দ্বীপে রয়েছে একটি বিমানঘাঁটি ও হাসপাতাল।

২০১৬ সালে জাতিসংঘ সমর্থিত একটি ট্রাইব্যুনালে এটিকে “রক আইল্যান্ড ” হিসেবে আখ্যা দেয়। সাধারণত যেসব দ্বীপ বসবাসের অনুপোযুক্ত, সেসব দ্বীপকে এই নামে ডাকা হয়। 

এ ছাড়া দ্বীপটির আইনি অবস্থান নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। যার ফলে সমুদ্রসীমা নিয়ে তাইওয়ানের অধিকার সীমিত হয়ে যায়। এই রায় য়দিও প্রত্যাখ্যান করেছে তাইওয়ান ও চীন উভয়ই।