রোহিঙ্গাদের ‘আগামী ঈদের’ আশা এবং ইউনূসের প্রতিশ্রুতির বেলুন

বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এবারের ঈদ নিজেদের বাড়িতেই করবেন; গত রোজায় শরণার্থী শিবিরে গিয়ে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিলেন সেই সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন, কিন্তু রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাড়ি ফেরার কী হলো?

গেল বছরের মার্চের সেই শরণার্থী শিবিরের সফরে প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গী ছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তারা সেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাথে একসঙ্গে ইফতার করেছিলেন।

প্রফেসর ইউনূসের সেই প্রতিশ্রুতি কিংবা আশ্বাস,যাই বলুন, ২০১৭ সালের পর থেকে কেউ এতোটা আত্মবিশ্বাসের সাথে রোহিঙ্গাদের আশা জাগায়নি। বিশ্বব্যাপী ড. ইউনূসের প্রভাব, গ্রহণযোগ্যতার জন্য অনেকে ভেবেছিলেন এই বুঝি সমাধানের শুরু।

ধারণা করা হচ্ছিল, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমে হয়তো বহু বছর ধরে স্থবির থাকা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসতে পারে।

তবে রোহিঙ্গা নেতারা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন সেগুলো ছিল শুধু ‘কথার কথা’। বাস্তবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান তথা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপই নিতে দেখা যায়নি।

বরং উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সমালোচিত মানবিক করিডরের, যা নিয়ে সরকারের মধ্যেই ছিল নানা মত। স্বভাবতই করিডরের উদ্যোগ আর আলোর মুখ দেখেনি।

এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে, বৈশ্বিক কূটনীতির অগ্রাধিকারও পালটে গেছে।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতও জটিল হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা আগের চেয়ে আরও অনিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাই নিশ্চিতভাবে এবারও ক্যাম্পবন্দি ঈদ কাটাবেন রোহিঙ্গারা।

মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক মনোযোগের ঘাটতি এবং রাখাইনের নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা, সবকিছু মিলিয়েই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে স্থবির হয়ে আছে।

নিজ জন্মভিটায় ফিরে যেতে চান বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গারা

সমাধান সুদূর পরাহত

“তিনি একটি আশা দেখাতে চেয়েছিলেন। আমি নিজেও ছিলাম সেই জনসভায়। কিন্তু আমি ঠিকই বুঝেছিলাম এটি হওয়ার নয়”, বলছিলেন রোহিঙ্গা নেতা খিন মং। যিনি ইউনাইটেড কাউন্সিল ফর রোহিঙ্গা (ইউসিআর)-এর প্রেসিডেন্ট প্যানেল মেম্বার।

প্রফেসর ইউনূসের ‘আগামী ঈদের” আশাবাদ নিয়ে খিন মং বলছেন, “এটা তিনি হয়তো লাখো মানুষের সামনে আবেগে বলেছিলেন। সিরিয়াসলি বলেননি।”

গবেষক আলতাফ পারভেজও মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকার অনেক পপুলিস্ট কথা বলেছে, সেই অনুযায়ী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।

“তখন নানা কথা বলা হয়েছিল। হাততালি জনপ্রিয়তার প্রলোভনে। কিন্তু প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দুয়েকটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চেষ্টা যা হয়েছিল তা ছিল সাহায্যকেন্দ্রিক”, বলছিলেন আলতাফ পারভেজ।

তিনি বলেন, “এবারের ঈদ মিয়ানমারে করা তো দূর, বরং গত ঈদ মিয়ানমারে করেছে এমন অনেক রোহিঙ্গাকে এবার বাংলাদেশে ঈদ করতে হবে।”

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ রোহিঙ্গা আছে।

যদিও স্থানীয় তথ্য বলছে, বাস্তবে এর সংখ্যা কয়েক লাখ বেশি। যাদের অধিকাংশই কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করছে।

এই ক্যাম্পগুলোকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী বসতিগুলোর একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি। যাদের অর্ধেকই নারী ও শিশু।

ক্যাম্পগুলোর ওপর চাপ কমাতে প্রায় ৩৫ হাজার রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। ওই উদ্যোগও সমালোচিত হওয়ায় পরে আর কোনো রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেওয়া হয়নি।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘ ওই অভিযানে “জাতিগত নিধনের আলামত” ছিল বলে উল্লেখ করেছিল।

যদিও রোহিঙ্গাদের নির্যাতন ও দেশত্যাগের ইতিহাস আরও পুরোনো। ১৯৭৮ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের সময় প্রথম বড় আকারে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর ১৯৯১–৯২ সালেও একই ধরনের সামরিক অভিযানের কারণে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

প্রায় পাঁচ দশক ধরে এই সংকট ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে এবং ২০১৭ সালে তা চূড়ান্ত রূপ নেয়। তারপর থেকেই এই সংকট সমাধানের একাধিক উদ্যোগ বিফলে গেছে। বরং বাড়ছে জটিলতা।

প্রায় এক দশক হতে চলল, ভিনদেশে শরণার্থী হয়ে ঈদ কাটাচ্ছেন বারো লাখের বেশি রোহিঙ্গা

আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারে নেই রোহিঙ্গারা

বাংলাদেশ শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ওপর জোর দিয়ে আসছে। কিন্তু সেসব উদ্যোগ আটকে আছে চেষ্টার চৌহদ্দিতে।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের কাছে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছে। মিয়ানমারও প্রথম ধাপে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার যোগ্য বলে যাচাই করেছে।

গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার এই এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার পরিচয় নিশ্চিত করার তথ্য নিয়ে বেশ জোরেসোরেই প্রচার করেছিল।

তবে ওই পর্যন্তই। প্রক্রিয়া বাস্তবে এগোয়নি। কারণ রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং স্বাধীন চলাচলের নিশ্চয়তা ছাড়া দেশে ফিরতে রাজি নয়। এর আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে প্রত্যাবাসনের দুটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো রোহিঙ্গাই স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে রাজি হয়নি।

রোহিঙ্গা নেতা খিন মং বলছেন, “অন্তর্বর্তী সরকার অনেক কথা বলেছে। কিন্তু ফান্ড ক্রাইসিস নিয়ে কিছু আলাপ হলেও প্রত্যাবাসন নিয়ে কোন চেষ্টা ছিল না।”

ইউনাইটেড কাউন্সিল ফর রোহিঙ্গার এই প্রেসিডেন্ট প্যানেল মেম্বার মনে করেন, প্রত্যাবাসন এখন সম্ভব হবে না, যতদিন না মিয়ানমারে শান্তি ফেরে।

গবেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন বৈশ্বিক বাস্তবতার কারণে স্বভাবতই রোহিঙ্গা সংকট এখন আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারে নেই।

তিনি বলেন, “২০১৭ থেকে ২০২৬, পৃথিবী অনেক বদলে গেছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনতো দূর, এজন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির যে আমূল পরিবর্তন দরকার সেই তৎপরতাই তো নেই।”

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যেসব দেশ ও সংগঠন আগে কাজ করতো তাদের দৃষ্টি ও আগ্রহ ভিন্নদিকে ঘুরে গেছে বলেও মনে করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটসের পরিচালক জন কুইনলিও মনে করেন প্রফেসর ইউনূসের মন্তব্য ছিল "ওভার অপটিমিসটিক।"

কুইনলি বলেন, “তিনি যে সময় ওই কথা বলেছিলেন তখনও রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার চলছিল। তখনও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছিলেন।”

তার মতে ওই মন্তব্য "পলিসি স্টেটমেন্ট" ছিল "পলিসি পজিশন" ছিল না। “হয়তো একটা আশাবাদ তৈরির জন্য তিনি বলেছিলেন।”

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যে এখন রোহিঙ্গা সংকট অগ্রাধিকারে নেই এ বিষয়েও একমত কুইনলি। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে আর্থিক যোগান কমছে বৈশ্বিক বাস্তবতায়। তাই সংকট সমাধানে নতুনভাবে ভাবতে হবে।”

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তহবিল সংকটের কারণে ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

অশান্ত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন কীভাবে?

রোহিঙ্গা সংকটের অচলাবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে কার্যত গৃহযুদ্ধ চলছে।

মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষ চলছে। রাখাইন রাজ্যেও এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে। সেখানে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি।

রাখাইনের ক্ষমতা কাঠামো এখন আগের তুলনায় অনেকটাই পরিবর্তিত। শুধু মিয়ানমার সরকার তথা নেপিদোর সাথে আলোচনা করে প্রত্যাবাসনের বাস্তব সমাধান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন আর কেবল মানবিক ইস্যু নয়, বরং একটি জটিল ভূরাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। 

তার মতে, রাখাইন অঞ্চলের বাস্তব ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাওয়ায় প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি না হলে কোনো রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইবে না।”

গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, “আরাকানের পরিস্থিতি পালটে গেছে। নতুন বাস্তবতায় নতুন করে না ভাবলে সমাধানতো দূর সংকট আরো বাড়বে।”

বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সীমান্তের পুরোটাই আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। তাই শুধু নেপিদোর হাতে সমাধান নেই বলেও মনে করেন এই গবেষক।

“মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। তাই এই সমাধান আসলে বাংলাদেশের হাতেও নেই। কিন্তু তাই বলে চেষ্টা বন্ধ করা যাবে না।”

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ সহিংসতা ও অস্থিরতার কারণে ২০২৪ সালের পর থেকে প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে তাই চাপ বেড়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা খুবই সীমিত, বরং সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি আছে।

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, সীমিত কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অভাবে অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

মানব পাচারকারী চক্রগুলো এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার দিকে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রযাত্রা আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

নিরাপত্তা সংকট সামলাবে কীভাবে বাংলাদেশ

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ সতর্ক করে বলেছে, সমাধান না হলে রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের জন্ম দিতে পারে।

শরণার্থী বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা রিফিউজি ইন্টারন্যাশনালের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে গেলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর মানবিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এতে সামাজিক অস্থিরতা, অপরাধ এবং মানব পাচারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

প্রায় এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

আলতাফ পারভেজ বলছেন, “রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশ কার্যত একটি 'ড্রাগ ওয়ারের' শিকার হয়েছে। ওই সীামান্ত অঞ্চল মাদক পাচারের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে।”

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে যারা এমন সব অপরাধে জড়িত তাদের ওপর বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ আদৌ কতটা আছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আলতাফ পারভেজ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড. নাসির উদ্দিন আহাম্মেদের মতে, ত্রিদেশীয় সীমান্ত অঞ্চল বা ট্রায়াঙ্গেল অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার শঙ্কা বেশি থাকে। কারণ এক দেশ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হলে তারা অন্য দেশে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পায়।

মেজর নাসির বলেন, “যেকোনো শরণার্থী দল একটি নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘদিনের জন্য অবস্থান করলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে নানা ধরনের অরাজকতা শুরু হয়।”

নিজ জন্মভিটা ছেড়ে আসা রোহিঙ্গা শিশু-কিশোররা তরুণ-যুবকে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তাদের প্রাতিষ্ঠানিক বা কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ হয়নি ক্যাম্পে।

“শিক্ষার ব্যবস্থা না থাকা এবং বিকল্প পেশা না থাকায় তারা এক প্রকার অলস সময় পার করছে। এ ধরনের অলসতা তরুণ সমাজকে অপরাধ প্রবণ করে তোলে”, বলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ।

নতুন সরকার পারবে?

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান একটিই, প্রত্যাবাসন। কিন্তু তা হতে হবে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সাথে। বর্তমান বাস্তবতায় তা কীভাব সম্ভব সেটিই প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

এমনকি রোহিঙ্গা সংকট বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারেও কতটা আছে তাও প্রশ্নাতীত নয়।

আলতাফ পারভেজ বলছিলেন, “বর্তমান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে এই সংকট নিয়ে খুব একটা ভাবতে দেখা যায়নি। নির্বাচনি ইশতেহারেও আমরা খুব একটা দেখিনি।”

নতুন সরকারকে কার্যকর কৌশল ও নীতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন ফোর্টিফাই রাইটসের পরিচালক জন কুইনলি।

তিনি বলছেন,“রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থানের দিকে জোর দিতে হবে। তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে, যেন তারা অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে।”

তাই বাস্তবতা হলো, “আগামী ঈদে দেশে ফেরা”র যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে গেছে ‘কথার কথাতেই’।

প্রায় ২০ লাখ মানুষের আরেকটি ঈদ কাটবে ভিনদেশে, উদ্বাস্তু হয়ে; ঘরে ফেরার অপেক্ষায়।