মিরপুরে উচ্ছেদের সময় পুলিশ-হকার-এলাকাবাসীর সংঘর্ষ, গাড়িতে আগুন

মিরপুর-১০ থেকে ১৪ নাম্বার সড়কে অবৈধভাবে ফুটপাথ দখল করা দোকানপাট উচ্ছেদের সময় পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে হকার ও এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়েছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সকাল সাড়ে দশটার পর মিরপুর-১০ থেকে ১৪ নাম্বার সড়কে অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। তখনই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ওই এলাকা। এ সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পশ্চিম পাশের একটি দোকা‌নে আগুন লেগে যায়। এ সময় মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে পুলিশের পিকআপ গেলে হকাররা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ডিএমপি'র  মিরপুর বিভাগের ডিসি হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার আলাপ-কে বলেন, "বিক্ষুব্ধরা পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর চালায়। সেই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।" তবে দুপুরের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান তিনি।

বেলা দুইটার পর আবারো শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। বাড়ানো হয় পুলিশের নিরাপত্তা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাকাবাসীসহ উপস্থিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে উচ্ছেদকারী দলের উপর চড়াও হয়। দায়িত্বরত পুলিশ বাধা দিতে এলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সময় উত্তেজিত লোকজন ও হকাররা আগুন ধরিয়ে দেয় সিটি কর্পোরেশনের একটি গাড়িতে। এ সময় পুলিশ পাল্টা অ্যাকশনে যায়। সংঘর্ষের সময় আহত হয়েছেন দুই সংবাদ কর্মী। ভাংচুর চালানো হয় যমুনা টেলিভিশনের একটি প্রাইভেটকারে।

হোপ মার্কেট এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে ফ্যাসিস্ট শক্তি জড়িত। তবে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

হকারদের হামলায় কমপেক্ষ পুলিশের ৩০ জন্য সদস্য আহত হয়েছেন, বলে সন্ধ্যায় আলাপ-কে জানিয়েছেন ডিএমপি'র মিরপুর বিভাগের ডিসি হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। "এই পর্যন্ত আটক করা হয়েছে ২৫ জনকে। আমরা সমস্ত এভিডেন্স সংগ্রহ করছি এবং সেগুলো নিখুঁতভাবে যাচাই বাছাই করে দেখবো।"

হামলা, ভাংচুর, সরকারী কাজ বাধাদান ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একাধিক মামলা হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।