গ্যাস সংকটে বিমানবন্দর সড়কে সিএনজি চালকদের বিক্ষোভ

ঢাকার বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শতাধিক সিএনজি চালিত অক্টোরিকশা চালকরা। তাদের অভিযোগ, সিএনজি স্টেশন থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে না। 

বুধবার দুপুর পৌনে তিনটায় সিএনজি চালকরা সড়কে অবস্থান নিলে যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

অবরোধকারী সিএনজি অটোরিকশা চালকদের অভিযোগ, সকাল থেকে পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে করে উপার্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।  

খিলক্ষেত থানার ওসি সোহরাব আল হোসেন আলাপ-কে বলেন, দুপুরে গ্যাস সংকটের অভিযোগে সিএনজি চালকরা রাস্তা অবরোধ করে কিছুক্ষণ বিক্ষোভ করে।  পরে তারা রাস্তা থেকে সরে গেলে আবারো যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে  কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।

বুধবার দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরবরাহ হ্রাসের প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ অন্যান্য গ্রাহকের ওপর পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে কয়েকটি স্থানে সিএনজি সংগ্রহে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়,  এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা দ্রুত নিরসন করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একইসঙ্গে সীমিত সরবরাহের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জরুরি ও অগ্রাধিকার খাতগুলোতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।

বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা হলেও দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া আমদানিনির্ভরতা এ পরিস্থিতির প্রভাবকে আরও তীব্র করেছে। বিগত সময়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটিতে সমস্যা দেখা দিলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা চাপের মধ্যে পড়ে।

সরকার আমদানিনির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অদ্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর সভায় বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের লক্ষ্যে অনশোর ও অফশোর মডেল পিএসসির আওতায় গ্যাস উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বানের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তবে জ্বালানি অনুসন্ধান, কূপ খনন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তাই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকটের স্থায়ী সমাধান রাতারাতি সম্ভব না হলেও সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।