প্রায় চার মাসের অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং একাধিক নিরাপত্তা ঝুঁকি পেরিয়ে অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা।
সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পার হয় জাহাজটি। বর্তমানে এটি জ্বালানি গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে গ্লোবাল শিপ ট্র্যাকিং ইন্টেলিজেন্স প্লাটফর্ম মেরিন ট্রাফিকের মাধ্যমে জানা যায়।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২রা ফেব্রুয়ারি এমভি বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল পরিবহন শেষে ২৭এ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হলে জাহাজটিকে কুয়েতে পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করে বিএসসি। নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দরে অবস্থান নেয় এবং সেখান থেকে ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি শুরু করে।
তবে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় সেই যাত্রাও আটকে যায়।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর গত ৮ই এপ্রিল জাহাজটি পুনরায় যাত্রা শুরু করলেও ১০ই এপ্রিল হরমুজ অতিক্রমের সময় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে। পরে নিরাপত্তার কারণে ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় জাহাজটি।
বিএসসি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি সমঝোতার অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে জাহাজটির জন্য নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এর পরই বহু প্রতীক্ষিত হরমুজ অতিক্রমের অনুমতি মেলে।
২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি বাংলার জয়যাত্রা বর্তমানে ফুজাইরা বন্দরের জলসীমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে জ্বালানি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স এবং পরবর্তী যাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।