প্রিন্স: ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড, শুটিং পশ্চিমবঙ্গে!

চরিত্র বাছাইয়ের ব্যাপারে শাকিব খানকে কঠোর হতে হবে। তার স্ত্রীর চরিত্রে  জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু এবং দিলরুবার চরিত্রে বাংলাদেশের তাসনিয়া ফারিন ভালো অভিনয় করলেও গল্পে ফারিনের বিচ্ছিন্ন বা নিখোঁজ হয়ে যাবার বিবরণ নেই! 

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০১:০২ পিএম

মারপিট ধারার অগণিত ছবির নতুন আরেকটির নাম প্রিন্স:ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা । হাত কেটে নেয়া, জবাই করার দৃশ্য সম্বলিত আরেকটি ‘নারকীয়’ ছবি প্রিন্স:ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা !

শাকিব খান গ্যাংস্টার বা মাসলম্যান চরিত্রে কতবার অভিনয় করেছেন এবং আরও কতবার করবেন সেটা নিয়ে আদৌ না ভাবার এক ছবি প্রিন্স:ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা !

শাকিব খান ‘লম্বা বুলেটওয়ালা' যে অস্ত্র দিয়ে অগনিত মানুষ খুন করেন সেই অস্ত্র কোথায় বানানো হয় (ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ইরানের জন্য এই অস্ত্র সরবরাহ করা যায় কি না?) সেটা নিয়ে গবেষণার এক ছবিও প্রিন্স:ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা ! আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত প্রথম ছবি প্রিন্স:ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা । ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড পশ্চিমবঙ্গের নায়িকা ও ভিলেন সম্বলিত ছবি প্রিন্স:ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা !

‘প্রিন্স-ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’ ছবির কাহিনিও প্রচলিত ঘরানার। গত পাঁচ বছরে অন্তত তিনটি ছবিতে শাকিব খান যেভাবে গ্যাংস্টার হলেন সেটার বর্ণনা আছে। গল্প কখনও বাবা বলেন, কখনও বা তার সহযোগী। পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেওয়ার ভিজুয়ালের মাধ্যমেই ছবির গল্প শুরু হয়।

গ্যাংস্টারদের পরিণতি মৃত্যু বা জেল খাটা। কখনও কখনও তারা পালিয়ে চলে যেতে পারে। এই ছবিতে গল্পের শাখা-প্রশাখা বা কাহিনি বুননে তার কোনো বিশ্লেষণ নেই। যেমন শাকিবের নাম থাকে ইব্রাহিম। এইটুকুই জানা যায়, কেন সে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন তার কোনো দৃশ্যায়ন নেই। মা’কে নিয়ে তার কান্নাও তাই টানে না তেমন।

কয়েক ডজন হিন্দি ও তামিল ছবিতে, এমন কী বাংলাদেশের ছবিতেও (সত্তর দশকে মুক্তি পাওয়া সেতু ছবিও এমন) গ্যাংস্টারের ভাই চাকরি করে পুলিশে, প্রিন্স:ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা ছবিতেও তাই। হয়তো সিক্যুয়াল করার জন্য ছবির শেষ দৃশ্যে শাকিব খান ভারতের রাজস্থানের মরুভূমিতে কুপিয়ে মানুষ মারছেন এমন দৃশ্য রাখা হয়েছে। 

প্রিন্স সিনেমার পোস্টার

ছবিতে বলা হয়েছে কোনো এক সময়ের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের কাহিনি এটা। এদেশের মানুষ কি এতই বোকা যে ঢাকা শহর চিনবে না? এই ছবির বেশির ভাগ শুটিং হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে! ঢাকা শহরের মানুষ আর যাই হোক কোলকাতার ভাষায় কথা বলে না!

সিনেমায় শাকিব খানের প্রেমিকা এবং বিয়ে করা বউয়ের চরিত্রে জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু পুরোটা সময় কোলকাতার ভাষাতেই কথা বলেছেন কারণ তার বাড়ি ওখানেই। কসাই থেকে 'ডন' বনে যাওয়া আফগানি পাঠান চরিত্রে দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য, গোপাল কৌরের চরিত্রে লোকনাথ দে এবং তার স্ত্রীর চরিত্রে পিয়ান সরকারও পশ্চিমবঙ্গের ভাষা ব্যবহার করেছেন অথচ ছবির নাম প্রিন্স:ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা !

ইব্রাহিম চরিত্রে শাকিব খানের অভিনয় একই রকম, কারণ বহু ছবিতে তিনি এই একই চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চরিত্র বাছাইয়ের ব্যাপারে তাকে কঠোর হতে হবে। তার স্ত্রীর চরিত্রে জ্যোতির্ময়ী এবং দিলরুবার চরিত্রে বাংলাদেশের তাসনিয়া ফারিন ভালো অভিনয় করলেও গল্পে ফারিনের বিচ্ছিন্ন বা নিখোঁজ হয়ে যাবার বিবরণ নেই। সিনেমার নায়িকাকে খুঁজে না পাবারও কোনো কারণ নেই!

আফগানি পাঠান চরিত্রে পশ্চিমবঙ্গের দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য বাংলার বাইরে যখনই অন্য ভাষা ব্যবহার করেছেন তখনই বিরক্তি লেগেছে।

তবে ফেন্সি মান্নান চরিত্রে রাশেদ মামুন অপু এবং রাজনীতিবিদ চৌধুরী আজাদ ফেরদৌসের চরিত্রে ডা. এজাজ, পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে ইন্তেখাব দিনার, গোপাল কৌর চরিত্রে লোকনাথ দে এবং তার স্ত্রীর চরিত্রে পিয়ান সরকার এবং বাবুর চরিত্রে মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্য্য ভালো অভিনয় করেছেন।

প্রিন্স:ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা ছবিতে কয়েকটি গান ব্যবহৃত হয়েছে। এই ছবির আলোচিত এক গানের শিরোনাম ‘পরী’। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন, সুর করেছেন ইমরান মাহমুদুল এবং গেয়েছেন কোনাল এবং ইমরান মাহমুদুল। ‘জ্বালা জ্বালা’ শিরোনামের গানটি লিখেছেন রাসেল মাহমুদ , সুর করেছেন প্রীতম হাসান এবং গেয়েছেন প্রীতম হাসান ও রুনা লায়লা। এছাড়া মা’কে নিয়েও একটা গান আছে।

এই ছবির চিত্রগ্রাহক তিনজন এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন চারজন। চিত্রগ্রহণে ছিলেন অমিত রায়, শৈলেশ আবাস্তি এবং সাহিল রনি। ছবির সঙ্গীতে ছিলেন আরাফাত মহসীন।

একশ ঊনপঞ্চাশ মিনিটের এই ছবির কাহিনিকার মেজবাহ উদ্দিন সুমন। চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি, মোহাম্মাদ নাজিম উদ্দীন, অনম বিশ্বাস এবং আশরাফুল আলম শাওন মিলে।

ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মসে প্রযোজনায় এই ছবির প্রযোজক শিরিন সুলতানা এবং পরিবেশক অ্যাকশানকাট এন্টারটেইনমেন্ট। আবু হায়াত মাহমুদ প্রথম ছবিতে বাংলাদেশের মানদণ্ডে প্রচলিত ধারার ও বিগবাজেটের আয়োজন রাখার সাহস দেখিয়েছেন। তার জন্য শুভকামনা।