বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে রাতে থাকার অনুমতি নেই ইরানের

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে ইরান। তবে মাঠের লড়াইয়ের আগেই দেশটির জন্য তৈরি হয়েছে নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতা। ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর একই দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলকে এমন দাবি করেছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিরর নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক এখনো উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ইরান দলের ওপর কঠোর ভ্রমণ শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মেক্সিকোতে ইরানের রাষ্ট্রদূত আবোলফাজল পাসানদিদেহ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সকালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারি, কিন্তু একই দিন দেশটি ত্যাগ করতে হবে।”

বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রথম ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ায় বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে খেলবে দলটি। নকআউট পর্বে উঠতে পারলে আরও ম্যাচ খেলতে হবে যুক্তরাষ্ট্রেই।

প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টুসনে ইরানের বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলটি মেক্সিকোকে অস্থায়ী ঘাঁটি হিসেবে বেছে নিয়েছে।

এ বিষয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান দলকে রাতযাপনের অনুমতি না দেওয়ায় তারা মেক্সিকোতে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। মেক্সিকো সরকার সেই অনুরোধ গ্রহণ করেছে এবং এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

এর আগে ইরান বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে ফিফা সেই দাবি নাকচ করে দেয়।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও আগে ইরান দলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেন, ইরান দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে, তবে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি উদ্বেগের কারণ।

যদিও সম্প্রতি ইরানি খেলোয়াড় এবং কিছু কর্মকর্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভিসা অনুমোদন করেছে, তবুও দেশটির গণমাধ্যমের দাবি ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এখনো ভিসা পাননি।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় খেলোয়াড় ও সহায়ক কর্মীদের ভিসা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যেন ভিন্ন উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের বাইরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইরানকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি কূটনৈতিক উত্তেজনাও এবারের বিশ্বকাপের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠতে পারে।