বিশ্বকাপের গ্রুপ জি তে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগের দিন নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইরান দলের ভ্রমণ ও প্রস্তুতি নিয়ে অসন্তোষ। দলের প্রধান কোচ আমির গ্যালেনোই অভিযোগ করেছেন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অন্য ৪৭ জন কোচের কাছ থেকে তারা কোনো ধরনের সমর্থন পাননি।
মেক্সিকোর তিহুয়ানায় নিজেদের বেস ক্যাম্প থেকে শনিবার দুপুরে লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছায় ইরান দল। অথচ ম্যাচের অন্তত দুই দিন আগে সেখানে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিল তারা। সেই আবেদন নাকচ হওয়ায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ জানিয়েছে ইরান।
গ্যালেনোই বলেন অন্য কোচদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় তিনি হতাশ। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে সবাই নিজ নিজ দলের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। তার ভাষায় যদি অন্য কোনো দলের সঙ্গে এমন আচরণ হতো তাহলে তিনি অবশ্যই প্রতিক্রিয়া জানাতেন।
ইরান কোচ আরও বলেন, তাদের আপত্তি রাজনৈতিক নয় বরং ফিফার আচরণ নিয়ে। একই সঙ্গে তিনি বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়ার মন্তব্যের সঙ্গে একমত হন যেখানে বলা হয়েছিলো তারা ফুটবল খেলতে এসেছে রাজনীতি করতে নয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরান দলের জন্য ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আপাতত শিথিল করা হবে না। হোয়াইট হাউস টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছেন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিষয় বিবেচনা করে বর্তমান পরিকল্পনাই বহাল থাকবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ইরান দল ম্যাচের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভেন্যুতে প্রবেশ করতে পারবে এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দ্রুত আবার মেক্সিকোয় ফিরে যেতে হবে।
গত সপ্তাহে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ শেষে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়ে ইরান। স্থানীয় সময় রাত আটটার দিকে ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলটি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হয়। এতে স্বাভাবিক বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ করে দলটি।
এদিকে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছিল উইঙ্গার মেহদি তোরাবির ভিসা নিয়ে। প্রথম ম্যাচের পর তার প্রবেশ ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও পরে দলীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে নতুন বহুমাত্রিক প্রবেশ ভিসা সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তার অংশ নিতে আর কোনো বাধা থাকছে না।