মতামত

ধর্ম অবমাননার সংজ্ঞা যখন মানুষের হাতে

সাতক্ষীরার শামীমকে পুলিশ উদ্ধার করেছিল। হাসপাতালে নিয়েছিল। তারপরও তাকে বাঁচানো যায় নাই। লোকজন হাসপাতালে ঢুকেছে, চিকিৎসাধীন মানুষটাকে পিটিয়েছে, বাইরে টেনে নিয়ে আবার পিটিয়েছে। পরে তার মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ, একজন মানুষকে প্রথম দফার হামলা থেকে উদ্ধার করার পরও রাষ্ট্র তাকে দ্বিতীয় দফার হামলা থেকে রক্ষা করতে পারে নাই। হাসপাতালের বিছানাও তার জন্য নিরাপদ হয় নাই।

ওয়াহেদুজ্জামান শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ধর্ম অবমাননা করছেন। তার কথোপকথন বলে কিছু অডিও ছড়ানো হয়েছে। সেই অডিও ঘিরে লোকজন জড়ো হয়েছে। ফেসবুক লাইভ করে মানুষ জড়ো করার অভিযোগ উঠছে ফজলুল হক আমিনী নামে একজনের বিরুদ্ধে। হত্যা মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

কিন্তু এই কাহিনির মধ্যে কয়েকটা বড় ফাঁক আছে। অডিওটা আসল কি না, সম্পূর্ণ কি না, কোন কথার আগে-পরে কী ছিল, শামীম ঠিক কী বলছিলেন, এসবের স্বাধীন যাচাই কোথায়? তার পরিবার বলছে, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। সেই দাবির চিকিৎসাগত প্রমাণ কী, ঘটনার সময় তার বোঝার ক্ষমতা কেমন ছিল, সেটাও যাচাইয়ের বিষয়। প্রকাশিত খবর থেকে এই প্রশ্নগুলোর নিষ্পত্তি পাওয়া যায় না। অথচ নিষ্পত্তির আগেই মানুষটাকে মেরে ফেলা হয়েছে।

এই ফাঁকগুলার কথা বলা দরকার। তবে এমনভাবে বলা যাবে না, যেন অডিওটা সত্য হলেও কিংবা শামীম সুস্থ থাকলেও তাকে মেরে ফেলা ঠিক হতো। তার বাঁচার অধিকার অডিওটা নকল প্রমাণ হওয়ার ওপর নির্ভর করে না। অভিযোগ মিথ্যা হলে হত্যা অপরাধ, সত্য হলেও হত্যা অপরাধ। অভিযুক্ত মানুষকে রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ছিল।

এরপর আসা যাক ধর্ম অবমাননার কথায়। এইটা আসলে কী?

একেবারেই কোনো সংজ্ঞা নাই, সেই কথা বলা ঠিক হবে না। বিভিন্ন আইন ও ধর্মীয় ব্যাখ্যায় সংজ্ঞা দেওয়ার চেষ্টা আছে। কিন্তু কথাটা যত সহজে বলা যায়, এর সীমানা তত সহজে টানা যায় না।

কোনো বিশ্বাস সত্য বলে না মানা কি সেই বিশ্বাসের অবমাননা? কোনো ধর্মীয় বিধানের সমালোচনা করা? কোনো আলেমের ব্যাখ্যা ভুল বলা? ধর্মের নামে চালু থাকা কোনো প্রথাকে অন্যায় বলা? কোন জায়গায় দ্বিমত শেষ হইয়া অপমান শুরু হইল, আর সেই সীমা ঠিক করার ক্ষমতা কার?

এই প্রশ্নটা এড়িয়ে শুধু ‘অনুভূতিতে আঘাত’ বললে সমস্যা আরও বাড়ে। কারণ আমার বিশ্বাসে আপনার দ্বিমত-ই আমার খারাপ লাগতে পারে। একজনের ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে এমন কথাও থাকতে পারে, যেইটা আরেকজনের ধর্মমতে ভুল, এমনকি গুরুতর ভ্রান্তি। এখন এক ধর্মের সত্য দাবি যদি আরেক ধর্মের অবমাননা হিসেবে ধরা শুরু হয়, একসঙ্গে বসবাসের জায়গাটা কোথায় থাকবে?

বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ২৯৫ক ধারাতেও শুধু কারও খারাপ লাগার কথা বলা নাই। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যের কথা আছে। অর্থাৎ, অনুভূতি আহত হওয়ার দাবি আর অপরাধ প্রমাণ হওয়া একই জিনিস না।

কিন্তু জনতার বিচার এত কিছু দেখে না। সেখানে যার লোক জড়ো করার ক্ষমতা আছে, তার ব্যাখ্যাই সংজ্ঞা হয়ে যায়। সে বলে, এই কথায় ধর্মের অপমান হইছে। তারপর অন্যদের সামনে দুইটা পথ রাখে, তার সঙ্গে যোগ দিন, অথবা নিজের ইমানের ব্যাখ্যা দেন। একজন মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তখন সবার ধর্মীয় আনুগত্য পরীক্ষার আয়োজন হয়ে ওঠে।

এইখানেই ধর্ম অবমাননার অস্পষ্টতা সংখ্যাগুরুর ক্ষমতাকে সার্ভ করে। সংখ্যাগুরু বলতে শুধু জনসংখ্যার হিসাব বুঝাচ্ছি না। সংখ্যায় বড় সম্প্রদায়ের ভেতর যেই গোষ্ঠী ধর্মের হয়ে কথা বলার কর্তৃত্ব দখল করতে পারে, তারাও এই ক্ষমতা ব্যবহার করে। ফলে সংখ্যালঘুর পাশাপাশি সংখ্যাগুরু ধর্মের ভিন্নমতের মানুষও শিকার হয়। কে যথেষ্ট ধার্মিক, কার ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য, কে সীমা ছাড়িয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে জমা হয়।

এর মানে এই না যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ কখনো সংখ্যালঘুর পক্ষ থেকে ওঠে না, কিংবা সব অভিযোগ মিথ্যা। কথাটা ক্ষমতার অসমতা নিয়ে। কাগজে আইন সবার জন্য সমান হইলেও কার অভিযোগে পুলিশ নড়ে, কার অনুভূতির জন্য মিছিল নামে, আর কাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের আগেই পালাতে হয়, সেই হিসাব সমান না।

ভারতের দিকে তাকাইলেও এই ক্ষমতার চেহারা দেখা যায়। ২০১৫ সালে দাদরিতে মোহাম্মদ আখলাককে গরু জবাই করার গুজব ঘিরে পিটিয়ে হত্যা করা হইছিল। এইটা নবী বা ধর্মগ্রন্থ অবমাননার মামলা ছিল না। কিন্তু সংখ্যাগুরুর কাছে পবিত্র একটা বিষয় রক্ষার দাবি কীভাবে একজন সংখ্যালঘুর জীবন নেওয়ার অনুমতি হিসেবে ব্যবহার হয়, সেই তুলনাটা প্রাসঙ্গিক।

আরও সরাসরি উদাহরণ মুনাওয়ার ফারুকি। ২০২১ সালে ইন্দোরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে অভিযুক্ত আপত্তিকর কৌতুক বলার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় নাই বলে পুলিশের বক্তব্যও সংবাদে আসে। তারপরও তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছে; সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর জামিনে বের হন। অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই অভিযোগ তার স্বাধীনতা কেড়ে নিছে।

বাংলাদেশে বসে ভারতের মুসলমানের ওপর এই ব্যবহারকে অন্যায় বলবেন, আবার বাংলাদেশে ধর্মের নামে একই ক্ষমতা নিজের হাতে চাইবেন, এই দুই অবস্থান একসঙ্গে রাখা যায় না। ভারতে সংখ্যাগুরুর ধর্মীয় অনুভূতি একজন মুসলমানের জীবন বা স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার অনুমতি না দিলে, বাংলাদেশেও সেই অনুমতি তৈরি হয় না।

তর্কের খাতিরে, সংখ্যাগরিষ্ঠের কথার খাতিরে ধরেই নিলাম, ধর্ম অবমাননা নামে একটা অপরাধ আছে। তারপরও প্রশ্ন থাকে, অপরাধ নির্ধারণ করবে কে? প্রমাণ দেখবে কে? অভিযুক্তের কথা শুনবে কে? শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা কার?

একটা সেক্যুলার রাষ্ট্রে উত্তরটা পরিষ্কার। জনগণের জন্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী অভিযোগের তদন্ত করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান, বিচার করবে আদালত। কোনো ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক দল কিংবা মিছিল সেই ক্ষমতার মালিক না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার রক্ষা করা। কোনো একটা ধর্মীয় গোষ্ঠীর ব্যাখ্যাকে জনতার হাতে শাস্তি দেওয়ার অনুমতি বানায়ে দেওয়া না।

অবশ্য আদালতে বিচার হইলেই একটা আইন ন্যায়সংগত হইয়া যায় না। অস্পষ্ট আইন মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে পারে, আদালতের প্রক্রিয়াও হয়রানির উপায় হইতে পারে। সেই জন্য আইনটার ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন করতে হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটিও ধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধা নিষিদ্ধ করার আইন আর মানুষের বিরুদ্ধে বৈষম্য, শত্রুতা বা সহিংসতায় উসকানিকে আলাদা করছে। ধর্মীয় মতবাদের সমালোচনা বন্ধ করতে আইন ব্যবহারের বিরোধিতা করছে।

আবার তর্কের খাতিরে ধরলাম, রাষ্ট্রে ধর্মীয় বিচারব্যবস্থাই চালু আছে। তাইলেও কি যে কেউ অভিযোগ তুলে কাউকে মেরে ফেলতে পারবে? ক্লাসিকাল ফিকহে নবীকে অবমাননার জন্য কঠোর শাস্তি, মৃত্যুদণ্ডের মতও আছে। এই ইতিহাস অস্বীকার করে সুবিধামতো কোমল একটা ছবি আঁকার দরকার নাই। কিন্তু কোন বক্তব্যে সেই বিধান প্রযোজ্য, অভিযুক্তের অবস্থা কী, তওবার সুযোগ আছে কি না, বিচার কীভাবে হবে, এসব নিয়েও ফিকহি আলোচনা আছে। একটি হানাফি ফতোয়ায় এই বিধানকে শরিয়াহশাসিত রাষ্ট্রে কাজির আদালতের মাধ্যমে প্রয়োগের সঙ্গে স্পষ্টভাবে যুক্ত করা হইছে। মিসরের দার আল-ইফতার বক্তব্যেও ব্যক্তির নিজের হাতে প্রতিশোধমূলক শাস্তি কার্যকর করার অনুমতি নাই।

অর্থাৎ, ধর্মীয় ক্ষমতার দাবিও নিজে নিজে কারও বিচার করার যোগ্যতা বা শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার তৈরি করে না। ফতোয়া দিলেই কেউ আদালত হয়ে যায় না। লোক জড়ো করতে পারলেই কেউ বিচারক হয় না। ‘ইমানি দায়িত্ব’ বললেই নিজের কাজের দায় শেষ হয় না।

শামীমের ঘটনায় অভিযোগকারীরাই ঠিক করছে কী অপরাধ, কার অপরাধ, কী প্রমাণ এবং কী শাস্তি। মানুষটাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার আগেই সব সিদ্ধান্ত শেষ। তারপর হাসপাতাল পর্যন্ত গিয়ে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হইছে।

এখন আমাদের সামনে শুধু শামীম কী বলছিলেন, সেই প্রশ্ন নাই। তাকে কে মারছে, কারা মানুষ জড়ো করছে, পুলিশ উদ্ধার করার পরও তাকে রক্ষা করতে পারল না কেন, সেই প্রশ্নও আছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগের আড়ালে এই প্রশ্নগুলা হারিয়ে গেলে হত্যাকারীদেরই সুবিধা হয়। একজন মৃত মানুষকে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করার দায় দিয়ে আমরা জীবিত হত্যাকারীদের দায় হালকা করতে পারি না।

এই জায়গায় সরকারের দায়টাও পরিষ্কার করে বলা দরকার। ধর্মের নামে সংঘবদ্ধ হামলা মোকাবিলায় সরকারের তৎপরতা কতটুকু, সেই প্রশ্ন শুধু সাতক্ষীরার ঘটনা থেকে উঠছে না।

এই বছরের ১১ই এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পীর শামীম রেজার দরবারে হামলা হইছিল। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মামলা হয়েছে। কিন্তু প্রথম দুজনকে গ্রেপ্তার করতেই প্রায় দুই সপ্তাহ লাগছে। ২৬এ এপ্রিল রাতে তাদের ধরা হয়। এই বিলম্বের জবাব সরকারের কাছে চাইতে হবে। প্রকাশ্যে সংঘবদ্ধ হামলা করে একজন মানুষকে হত্যা করার পরও প্রথম গ্রেপ্তারে এত সময় লাগবে কেন?

ছয় মাস পর সাতক্ষীরায় আরেক শামীমকে পুলিশ উদ্ধার করেও বাঁচাতে পারল না। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মিছিল নিয়ে লোকজন সেখানে গেল, ওয়ার্ডে হামলা করল, বাইরে টেনে নিয়ে আবার পেটালো। এই ঘটনায় মামলা ও দুজন গ্রেপ্তারের খবর আছে। কাজেই সরকার কিছুই করে নাই বলব না। কিন্তু মানুষ খুন হওয়ার পর মামলা করা আর জীবিত মানুষকে সংগঠিত হামলা থেকে রক্ষা করা এক জিনিস না। প্রথম হামলার পর বিপদটা অজানা ছিল না। তারপরও দ্বিতীয় হামলা ঠেকানো গেল না কেন?

দুই ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার ধরন এক না। কুষ্টিয়ায় প্রথম গ্রেপ্তারের দীর্ঘ বিলম্ব; সাতক্ষীরায় উদ্ধার করা মানুষকে হাসপাতালেও নিরাপত্তা দিতে না পারা। কিন্তু দুটোই সরকারের সামনে একই প্রশ্ন রাখে: ধর্মের নামে লোক জড়ো হইলে রাষ্ট্র কি নিজের দায়িত্ব পালনে পিছিয়ে যায়? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়ে হবে না। হামলাকারী, উসকানিদাতা ও সংগঠকদের পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা করা কর্মকর্তাদের জবাবদিহিও লাগবে।

বিএনপি সরকারকে এখনই কঠোর হতে হবে। কঠোর হওয়া মানে নির্বিচার ধরপাকড় বা বিচারবহির্ভূত শাস্তি না। যারা হামলা করছে, যারা মানুষ জড়ো করছে, যারা হত্যায় উসকানি দিচ্ছে, প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের ধরতে হবে, বিচার এগোতে হবে। অভিযোগ ওঠা মানুষটাকে নিরাপত্তা দিতে হবে। ধর্মের নামে চাপ আসলে আইন প্রয়োগ শিথিল হবে না, এইটা কাজে দেখাতে হবে।

কারণ এই উন্মাদনার ক্ষমতা এক জায়গায় থেমে থাকে না। অভিযোগ তুললেই লোক জড়ো করা যায়, হামলা করা যায়, আর রাষ্ট্রকে পেছনে সরানো যায়, এই অভিজ্ঞতা তৈরি হলে পরেরবার আরও বড় কাউকে নিশানা করার সাহস জন্মায়। আজ যার রাজনৈতিক আশ্রয় নাই, তাকে মেরে ফেলা সহজ। কাল ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কোনো শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, এমনকি সরকারের প্রভাবশালী কারও ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা হতে পারে। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বা ব্যক্তিগত শত্রুতার মধ্যেও এই অভিযোগ ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়।

প্রভাবশালীরা আক্রান্ত হতে পারেন বলে সাধারণ মানুষের হত্যার বিচার জরুরি, কথাটা তা না। শামীমের জীবন রক্ষার দায়িত্ব তার নিজের অধিকারেই রাষ্ট্রের ছিল। কিন্তু সরকার যদি মনে করে এই সহিংসতা শুধু অসহায় মানুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, সেই হিসাবও ভুল। ধর্মের নামে জনতাকে বিচারক হওয়ার জায়গা ছেড়ে দিলে, কাল সেই জনতা কাকে ধর্মের শত্রু ঘোষণা করবে, তার নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নাই।

 

মীর হুযাইফা আল মামদূহ ধর্ম, গণমাধ্যম, পরিচয় ও ক্ষমতার আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে কাজ করা একজন গবেষক ও সাংবাদিক। তার গবেষণার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সমাজ, ধর্মীয় ডিসকোর্স এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব।

[মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব]