দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা পেন্ডিং রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মাদক মামলার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা রয়েছে। মামলার জটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরাই সুবিধা পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এখতিয়ারসম্পন্ন বিদ্যমান আদালতগুলোও মামলা বিচার করবে।”
মাদক নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার পাশাপাশি মাদক মামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, “বর্তমান আইন দিয়ে মাদক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মাদক কারবারিরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তাদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। ফলে তাদের অবস্থা এখন ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারের মতো। এই সংকট কাটাতে ডিএনসি কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার পাশাপাশি মাদক আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা চলতি সংসদ অধিবেশনেই উত্থাপন করা হতে পারে।”
অপরাধের ধরন বদলে গেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এখন অনলাইনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, সেই অর্থ অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।”
মন্ত্রী আরও বলেন, মাদক আইন সংস্কারের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং, সাইবার অপরাধসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনও আধুনিকায়ন করা হবে। এসব আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। শক্তিশালী আইনি ভিত্তি ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।