ট্রাম্পের টাইমলাইন: কৌশল নাকি অস্থিরতার ক্যানভাস

“মঙ্গলবার হবে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট’ আর ‘ব্রিজ’ দিবস। ইরানের সব কিছু একবারে ধ্বংস করে দেয়া হবে। ফা**কিং হরমুজ প্রণালি খুলে দাও ক্রেজি বা*স্টার্ডরা, নইলে তোমাদের জায়গা হবে নরকে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।”

এটি ৬ই এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ট্রুথ স্যোশালের পোস্ট। যে পোস্ট নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছে। যেখানে তার শব্দচয়নে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যুদ্ধ নিয়ে অস্থির ভাবনা।

সিএনএনের সাংবাদিক ট্রাম্পের এই পোস্ট সম্পর্কে সংবাদ প্রচারের আগে বলেছে, “কোনো শিশু যদি এই মুহূর্তে টেলিভিশন খুলে রাখো, এই রিপোর্টটা দেখবে না।”

ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের টাইমলাইন ইরান যুদ্ধের ভিন্ন এক ক্যানভাস। যেখানে কখনও একই দিন ট্রাম্প স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।

একবার লিখছেন ‘ইরান প্রায় ধ্বংস’। কয়েক ঘণ্টা পরই আবার সতর্ক করছেন ‘আরও বড় হামলা আসছে’।

একবার বলছেন, ‘কোনো চুক্তি নয়, শর্তহীন আত্মসমর্পণ’। আবার কয়েকদিন পর জানাচ্ছেন ফলপ্রসূ আলোচনার কথা।

কখনো দ্বৈত, কখনো বিপরীতমুখী বার্তার মধ্যে দিয়েই গত এক মাসে গড়ে উঠেছে ডনাল্ড ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের ন্যারেটিভ।

পহেলা মার্চ থেকে ৬ই এপ্রিল পর্যন্ত তার ট্রুথ সোশ্যালের টাইমলাইনে ইরান যুদ্ধসংশ্লিষ্ট ৪৭টি পোস্ট বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই লেখায়।

প্রথমে এলোমেলো বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মনে হলেও একটি ধারাবাহিকতাও পাওয়া যায়। যদিও তা সরলরৈখিক নয়।

তার পোস্টগুলোতে আছে বিজয়ের ঘোষণা, হুমকি, আলোচনার ইঙ্গিত এবং মিত্রদের প্রতি অসন্তোষ।

এই লেখায় আমরা সেই ধারাবাহিকতাটিই খুঁজে দেখার চেষ্টা করবো। কীভাবে বদলেছে তার ভাষা, কোথায় তৈরি হয়েছে স্ববিরোধিতা, কোথায় কৌশলগত নমনীয়তা, আর কীভাবে এই পুরো সময়ে একটি বহুমাত্রিক ন্যারেটিভ গড়ে উঠেছে। যেখানে যুদ্ধ ও কূটনীতি একসাথে চলেছে।

ধ্বংসের ঘোষণা

যুদ্ধের শুরু থেকেই ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প মারমুখী ও আক্রমণাত্মক। ২৮এ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরু হয়। পহেলা মার্চ ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেইনির মৃত্যুর খবর দিয়ে লেখেন, “এটি শুধু ইরানের জন্য নয়, গ্রেইট আমেরিকান এবং পৃথিবীর যারা খামেইনির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সবার জন্যই ন্যায়বিচার।”

ওইদিনই আবার ইরানকে হুমকি দিয়ে লেখেন, “ইরান বলেছে তারা কঠোর হামলা করবে। যদি করে তবে উত্তরে এমন হামলা হবে যা কখনোই দেখা যায়নি।”

দিন শেষে ফের জানান ইরানের ৯টি জাহাজ ও নৌ সদর দপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে। বাকিগুলো ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে আবার বলেন, “তাদের নৌবাহিনী ভালো করছে।”

ইরানের নেতৃত্ব শেষ দাবি করলেও বলেননি যুদ্ধ শেষ। বরং বলেন আরও হামলা হবে, আরও কঠোর ব্যবস্থা আসবে।

এতে একদিকে বিজয়ের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা ছিলো, আবার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বৈধতাও থাকে। ‘ধ্বংস’ আর ‘হুমকি’ চলে সমানতালে।

চৌঠা মার্চ ট্রাম্প হরমুজ নিয়ে আলাপ শুরু করেন। বলেন হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা ট্যাংকারগুলোকে প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী নিরাপত্তা দেবে। বিশ্বে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেন ট্রাম্প।

সেদিনই আবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৯ হাজার আমেরিকানকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার খবর দেন।

এর দুই দিন পর, ৬ই মার্চ ইরানকে আত্মসমর্পণের ডাক দেন। বলেন, “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো চুক্তি হবে না।”

ওই দিন ইরানের ‘ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল’ উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচিত গ্রহণযোগ্য নেতা ও মিত্রদের সাথে নিয়ে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা হবে।

ততোদিনে মধ্যপ্রাচ্যে হামলা শুরু করে ইরান। ৭ই মার্চ ট্রাম্প দাবি করেন ইরান ক্ষমা চেয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে আর হামলা করবে না বলে প্রতিশ্রতি দিয়েছে।

যদিও ইরান তার এইসব দাবি কার্যত নাকচ করে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যায়।

ওই সময়ে ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর কাছে সামরিক সহযোগিতা চাইছিলো। কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। ৮ই মার্চ ট্রাম্প জানায়, যুক্তরাজ্য দুইটি এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার পাঠানোর কথা ভাবছে।

তবে ওই পোস্টে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখেন, “ওগুলো আমাদের আর লাগবে না। তবে আমরা মনে রাখবো”।

তখন ইরানের ন্যাশনাল সকার টিম অস্ট্রেলিয়া সফর করছিলো। তবে তাদের ফেরত যাওয়ার কথা হচ্ছিলো।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ৯ই মার্চ ট্রাম্প লেখেন, “তাদেরকে ফেরত পাঠানো অমানবিক হবে। তারা ফেরত গেলে মারা যেতে পারে। তাদের আশ্রয় দিন। না দিলে যুক্তরাষ্ট্র দেবে।”

পরের পোস্টে তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে ট্রাম্পের। পাঁচজনের ব্যবস্থা হয়েছে। বাকিরা পরিবারের কথা ভেবে ফিরে যাচ্ছেন। ওই পোস্টে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসাও করেন।

এরপর সবকিছুর কেন্দ্রে উঠে আসে কার্যত হরমুজ প্রণালি। কারণ ততোদিনে জ্বালানি পরিবহণের জটিলতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে।

দশই মার্চ ট্রাম্প লেখেন, “ইরান যদি এমন কিছু করে যাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহ বন্ধ হয়, তাহলে তাদেরকে বিশগুন কঠোর আঘাত করা হবে।”

ট্রাম্প লেখেন, “এটি আমেরিকা থেকে চীন সবার জন্যই উপহার”। যদিও চীন বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং এই যুদ্ধে কার্যত ইরানের পক্ষে।

অনবরত হুমকি চলতে থাকে। ১১ই মার্চ হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের প্রসঙ্গ ওঠে তার পোস্টে। লেখেন, “এমন সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে যা ইরান কোনোদিন দেখেনি।”

বারোই মার্চ ট্রাম্প আবারো বলেন, “ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস করা ঠেকানোই প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”

ওইদিনে আরেকটি পোস্টে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলকে স্বাগত জানান। কিন্তু আবার বলেন, “আমার মনে হয় জীবনের নিরাপত্তা বিবেচনায় তাদের ওখানে যাওয়া ঠিক হবে না।”

এবার তিনি দাবি করলেন ইরানের সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। ট্রুথ সোশ্যালে ১৩ই মার্চ লিখলেন, “ওদের নৌবাহিনী ধ্বংস, বিমানবাহিনী ধ্বংস, মিসাইল ড্রোন সব গুড়িয়ে গেছে।”

একই পোস্টে তোপ দাগেন সংবাদমাধ্যমকে। লেখেন, “নিউ ইয়র্ক টাইমস পড়লে আপনি ভুলভাবে জানবেন যে আমরা জিতছি না”।

যেদিন ইরানের সব শেষ হওয়ার দাবি করলেন তার পরদিনই আবার লিখলেন, “আমার নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা হামলা হয়েছে। ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।” 

যদিও তা নাকচ করে দেয় তেহরান।

ওইদিনই আবার লেখেন, “ইরান মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়, ইসরায়েল ধ্বংস করে দিতে চায়। এই পরিকল্পনা আর কাজ করবে না।”

ওইদিনও আরেক পোস্টে সংবাদমাধ্যম তার নিশানায়। লেখেন, “ভুয়া সংবাদমাধ্যম পছন্দ করে যে কীভাবে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনারা কাজ করলো। তারা এখন চুক্তি চায়। কিন্তু আমি তা গ্রহণ করবো না।”

নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের নাম ধরেই সমালোচনা করেন।

মিত্রদের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা

ট্রাম্প যখন দাবি করছেন যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা শতভাগ ধ্বংস করা হয়েছে তখনই আবার প্রত্যাশা করছেন হরমুজ প্রণালি চালু রাখতে অনেক দেশ যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।

চৌদ্দই মার্চ তিনি লেখেন, “আশা করি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্যসহ যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারা যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।”

তবে আগের মতোই সাড়া মেলেনি। যেখানে ট্রাম্প একদিকে ইরানের “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হওয়ার দাবি তুলছেন, অন্যদিকে মিত্রদের কাছে সহযোগিতার প্রত্যাশা জানাচ্ছিলেন।

পনেরোই মার্চ ডনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস” হয়ে গেছে। কিন্তু বলেন হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখার দায়িত্ব এখন সেই দেশগুলোর, যারা এই পথ ব্যবহার করে।

তিনি লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে, সমন্বয় করবে। এটা টিম এফোর্ট হতে হবে।”

ওই সময় ইরান ট্রাম্পের সব দাবি নাকচ করছিলো। বিভিন্ন ছবি ভিডিও প্রকাশ করছিলো। ১৬ই মার্চের পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া যুদ্ধচিত্র তৈরি করছে এবং সেই তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

ওই পোস্টেও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ধ্বংসের খবর ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইরান বাস্তবে যুদ্ধ জিততে না পারলেও এআইয়ের মাধ্যমে যুদ্ধ জিতছে”।

এবার ট্রাম্পের লক্ষ্য খোদ নেটো। ১৭ই মার্চ ট্রাম্প সরাসরি এই সামরিক জোটকে আক্রমণ করে বলেন, “তারা যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে অংশ নিতে চায়নি…পৃথিবীর কোনো শক্তির সাহায্য আমাদের লাগবে না।”

একই সময় তিনি চাইছেন, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে অন্য দেশগুলো এগিয়ে আসুক। আবার কারো সহযোগিতা লাগবে না বলেও আওয়াজ তুলছেন।

আঠারোই মার্চের পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি সরে যায়, তাহলে কী হবে?”

ইসরায়েল যেদিন ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে হামলা চালায় সেদিন আবার সেই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত নয় বলে দাবি করেন ট্রাম্প। লেখেন, “ইসরায়েল ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র কিছুই জানতো না।”

আবার সতর্ক করেছেন, “ইরান যদি কাতারে হামলা করে তবে ইরানকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হবে।” অথচ ট্রাম্প দাবি করেছিলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা শতভাগ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

নিজেকে দায়মুক্ত রাখার চেষ্টা আর হুমকি দিয়ে যাচ্ছিলেন সমানতালে।

হঠাৎ করে একটু পিছিয়ে আসেন ডনাল্ড ট্রাম্প। ‘সম্পূর্ণ শেষ’ হয়ে যাওয়া ইরানের সাথে যুদ্ধে ‘লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি’ বলে উল্লেখ করে ২১এ মার্চ।

আবারও লেখেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, প্রতিরক্ষা শিল্প, নৌ ও বিমান সব ধ্বংস করা হয়েছে।”

ওই পোস্টেই আবার লেখেন, “হরমুজ প্রণালি অন্য দেশগুলোকে রক্ষা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সহায়তা করবে, কিন্তু সেটি প্রয়োজনীয় নয়, কারণ ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে।”

পরদিন আবারও স্ববিরোধী পোস্ট লেখেন ট্রাম্প। একবার লেখেন, “ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে। এবং আমি সময়রে আগেই তা করতে পেরেছি।”

পরের পোস্টেই আবার ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দিয়ে লেখেন, “যদি নির্দিষ্ট সময়ে হরমুজ প্রণালি নিরাপদে খুলে না দেওয়া হয় তবে ইরানের সব পাওয়ার প্ল্যান্ট ধ্বংসে করে দেওয়া হবে।”

আন্তর্জাতিক এই সমস্যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে পোস্ট দিতেও ভোলেননি। লিখেছেন, “এখন আমেরিকার সবচেয়ে বড় শত্রু ইরান নয়, বরং ডেমোক্র্যাট পার্টি।”

এবার আলোচনা

হঠাৎ করেই মোড় ঘুরে যায় প্রসঙ্গের। অনবরত হুমকি ধামকির পর ২৩এ মার্চ ট্রাম্পের ভোল পালটে যায়। জানান ইরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

পোস্টে তিনি জানান, “ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসু’ আলোচনা হয়েছে। তিনি পাঁচ দিনের জন্য হামলা স্থগিত করেছেন।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তিনি বলেছিলেন, ‘নিঃশ্বর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া কোনো চুক্তি হবে না।

২৬এ মার্চ আরো একধাপ এগিয়ে যান। জানান এবার চুক্তির জন্য ক্ষমা চাইছে। কিন্তু প্রকাশ্যে তা স্বীকার করছে না।

যদিও ইরান এই দাবিও অস্বীকার করে। ২৭এ মার্চ দাবি করেন ইরানের অনুরোধ আবার ১০ দিনের জন্য জ্বালানিক্ষেত্রে হামলা স্থগিত করছেন।

কিন্তু এর তিনদিন পর ৩০এ মার্চ লেখেন ‘বিগ ডে ইন ইরান’। “আমাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনী সব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে দিয়েছে।

ইরানে ততোদিনে নতুন সর্বোচ্চ নেতা দায়িত্ব নিয়েছেন। 

আবারও আলোচনার প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। ৩০এ মার্চ দাবি করেন নতুন নেতৃত্বের সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

পহেলা এপ্রিল মিত্রদের প্রসঙ্গ সামনে আনে ট্রাম্প। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, তারা মার্কিন সামরিক বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি। লেখেন, ‘ফ্রান্স হ্যাজ বিন ভেরি আনহেল্পফুল’।

একই দিনে যুক্তরাজ্যকে পরামর্শ দেন যেহেতু তারা যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তাই এখন নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করুক। যুক্তরাষ্ট্র আর সাহায্য করবে না।

এপ্রিলের দ্বিতীয় দিন ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছে। দাবির মধ্যেই আবার হুমকি দেন হরমুজ প্রণালি না খুললে ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

ইরান বরাবরের মতো অস্বীকার করেছে।

এরপর একটি ব্রিজ ধ্বংসের দাবি করলে বিপরীতে ইরান আটটি ব্রিজের হিট লিস্ট প্রকাশ করে।

আবারও হুমকি। আবারও ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম। ৫ই এপ্রিল ১০ দিনের সময় দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে লেখেন, ‘এবার ইরানকে গুড়িয়ে দেওয়া’ হবে।

এর মধ্যেই ইরানে নিখোঁজ হয় মার্কিন এক কর্নেল। ৬ই এপ্রিলের পোস্টে, ৪৮ ঘণ্টার ‘দুর্ধর্ষ’ অভিযানে তাকে উদ্ধারের দাবি করে পোস্ট দেন ট্রাম্প। আর ইরান বলে ‘ব্যর্থ’।

এখন পর্যন্ত যতো হুমকি দিয়ে পোস্ট লিখেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে কড়া ভাষা ব্যবহার করেছেন ৬ই এপ্রিল।

এদিন ট্রাম্প যা লিখেছেন তা বাংলায় পড়েছেন শুরুতে। ইংরেজিটাও দেখে নিন।

“Tuesday will be Power Plant Day, and Bridge Day, all wrapped up in one, in Iran. There will be nothing like it!!! Open the Fuckin’ Strait, you crazy bastards, or you’ll be living in Hell - JUST WATCH! Praise be to Allah. President DONALD J. TRUMP”