মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ছায়া: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় সংকটে বিশ্ব নিরাপত্তা 

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বাড়তে থাকা সামরিক প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নতুন করে বৈশ্বিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইরান জলসীমার কাছে যুদ্ধজাহাজ, ফাইটার জেট ও বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। তেহরানও দিয়েঝে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি বাজার থেকে শুরু করে আঞ্চলিক নিরাপত্তায়।

দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা বর্তমানে বিশ্ব ক্ষমতা ও নিরাপত্তা কাঠামোর এক বড় সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। দুইটি বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধজাহাজ, ফাইটার জেট, এমনকি মোতায়েন করা হয়েছে সাপোর্ট প্লেন।

এই প্রস্তুতি এমন একটি পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান যেকোনো সময়ে শুরু হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি এবং কূটনৈতিক আলোচনা চালু আছে।

বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন আগামী ১০দিনের মধ্যে আলোচনায় একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি’ না হলে কঠিন প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।

মূলত তার এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। 

ট্রাম্প প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক প্রস্তুতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে চাইলে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই ইরানে হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন।

এমন অবস্থায় অবশ্য পাল্টা হুমকি দিয়েছে ইরান। ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি জাতিসেংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে লেখা চিঠিতে বলেছেন, যদি ইরানে হামলা হয় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি এবং অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা হবে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। কিন্তু হামলা হলে এর জবাব দেওয়া হবে। আর দায় নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এমন একটি হামলা শুধু পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে সংঘাত। 

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছ, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ক্রমাগত সামরিক উপস্থিতি এখন আর কোনো ইঙ্গিতের পর্যায়ে নেই বরং যুদ্ধের প্রস্তুতিতে পৌঁছেছে। ইরানি জলসীমায় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ারের অবস্থান নেওয়োকে বড় ঘটনা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া আরেকটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকেও জিব্রালটার প্রণালীতে দেখা গেছে এবং সেটিও সম্ভাব্য অভিযানের জন্যই পাঠানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যান্য সামরিক অস্ত্র ও বাহনও এই অঞ্চলে জড়ো করা হচ্ছে। কয়েক স্তরে নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ধারণা করা হচ্ছে, এমন সেনা মোতায়েন কূটনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখতে পারে। তবে আরেকটি আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

বিবিসির ভাষ্য অনুযায়ী তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনায়ও হয়তো অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে, যাতে করে সামরিক পদক্ষেপের চিন্তা করতে পারে দুই পক্ষ।

আত্মবিশ্বাসী ইরান

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে ইরানি নেতারা কেন বেপোরোয়া আচরণ করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আলোচনার যে অবস্থা আছে তাতেই অবশ্য এর উত্তর পাওয়া যায়।

তেহরানের দৃষ্টিকোণ থেকে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো আলোচনার জন্য নয় বরং ইরানের আত্মসমর্পণকেই ত্বরান্বিত করবে।

এর মধ্যে আছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর কমানো, যাতে তারা আর ইসরায়েলকে হুমকি না দেয়, অঞ্চলজুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন বন্ধ করা এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবি ‘র ভাষ্য অনুযায়ী ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের নিজস্ব নাগরিকদের প্রতি আচরণ পরিবর্তন করা।

তবে ইরানি নেতাদের জন্য, এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ, যা তারা পরিবর্তন করবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মিত্রদের সবসময় কাছে পায়নি ইরান। তাদের অনুপস্থিতিতে, নিজেরাই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। যা ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ নামে পরিচিত। এটি তৈরিতে কয়েক দশক ধরে অর্থ ব্যয় করেছে তারা। হিজবুল্লাহ, হুতি ও হামাসের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠী তৈরি করেছে।

এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি ইরানের সীমান্ত থেকে সংঘাত দূরে রেখেছে এবং ইসরায়েলের দিকে ক্রমাগত চাপ তৈরি করে গেছে।

তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বহুদিন ধরেই তাদের পুরোনো হয়ে পড়া বিমানবাহিনী ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির যে সীমাবদ্ধতা সেই ঘাটতি পূরণের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে।

সরকারিভাবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করলেও, বিশ্লেষকদের মতে এটি বাস্তবে একটি কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করার প্রক্রিয়া।

সরাসরি পরমাণু অস্ত্র হয়তো ইরানের নেই। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এবং তা ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করায় ইরানের এই কৌশলকে “থ্রাশহোল্ড সক্ষমতা” বলে অভিহিত করছেন বিশ্লেষকরা।

অর্থাৎ, এমন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি করা, যা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলেই সামরিক ব্যবহারের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। এই সুপ্ত সক্ষমতাই কার্যত একটি চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

তেহরানের দৃষ্টিতে, এসব সক্ষমতা সরিয়ে নেওয়া মানে তাদের প্রতিরোধ কাঠামোর ভিত্তি ভেঙে দেওয়া।

ইরানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া দাবি মেনে নেওয়া, যুদ্ধে যাওয়ার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যুদ্ধে গিয়ে হয়তো টিকে থাকা যাবে কিন্তু কৌশলগতভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিলে ট্রাম্প প্রশাসনের তোপে টেকা যাবে না।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ইরান নিজেদের সামরিক-পারমাণবিক ক্ষেত্র ও স্থাপনা মেরামত এবং নতুন অবকাঠামো তৈরির কাজ করছে। 

সম্প্রতি কয়েকটি স্যাটেলাইট ইমেজ পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ইরান সামরিক ক্ষেত্রে নতুন একটি স্থাপনা তৈরি করেছে এবং সেটির ওপর কংক্রিটের ঢাল তৈরি করে তা মাটি দিয়ে ঢেকে দিয়েছে।

স্যাটেলাইট দিয়ে তোলা এসব ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পারমাণবিক স্থাপনার সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখগুলো ঢেকে দিয়েছে ইরান। অন্য একটি স্থাপনার কাছে সুড়ঙ্গের মুখগুলোও মজবুত করেছে এবং সংঘর্ষের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো মেরামত করেছে।

দৃশ্যপটে  রাশিয়া 

রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি রয়েছে, যদিও এতে পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার কোনো ধারা নেই।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপসাগরে রুশ নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া চালিয়েছে।

রাশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জড়ো করায় ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা অভূতপূর্ব মাত্রায় বেড়েছে।  একই সঙ্গে মস্কো তেহরান ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কোভ সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন অব্যাহত রাখছে এবং একই সঙ্গে ইরানসহ অঞ্চলের সব পক্ষকে সংযম ও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

কী হতে পারে?

সামরিক শক্তি বিবেচনা করলে মনে হতে পারে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে অ্যামেরিকা। তবে এই হিসাবের ভেতরে যে ঝুঁকি লুকিয়ে আছে তা বেশ গভীর।  এই ঝুঁকি শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাব রাখতে পারে। 

ইরানে হামলা চালানো হলে তেহরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে যা মার্কিন ঘাঁটি, মিত্র দেশ বা হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে প্রভাবিত করতে পারে। আর হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ  তেল পরিবহন করা হয়। নিশ্চিতভাবেই যার প্রভাব পড়বে বিশ্বব্যাপী।

যে কোনো মার্কিন সামরিক অভিযানের শুরুতেই শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সেক্ষেত্রে যদি সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে অ্যামেরিকা হত্যা করে, তাহলে তা তিন দশকেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসানই শুধু ঘটাবে না, বরং পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। দ্রুত নতুন নেতাও নির্বাচন করতে পারবে না ইরান। 

শীর্ষ নেতৃত্ব না থাকলে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দুর্বল হয়ে পড়বে। সম্প্রতি ইরানের বিক্ষোভ দমনে তারা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছি। তবে অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নিয়ে সেই বিক্ষোভ দমন করে ও নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

তাদের অতিরিক্ত বল প্রয়োগের মুখে বিক্ষোভকারীর সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে তারা এখনো গভীরভাবে অসন্তুষ্ট। দুর্বল অবস্থায় এই সংস্থাগুলোকে তারা পেলে আক্রমণ করতে পারেন। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ আক্রমণেরও শিকার হতে পারে ইরান।তেহরান হয়তো ধরে নিতে পারে, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য কেবল তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা পর্যন্ত সীমিত থাকবে। কিন্তু যুদ্ধ সচরাচর প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী এগোয় না।

লক্ষ্য নির্ধারণ, সময়কাল বা রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে ভুল হিসাব দ্রুত সংঘাতকে বিস্তৃত করে তুলতে পারে।

অর্থনৈতিক চাপও ঝুঁকির ক্ষেত্রে আরেকটি স্তর যোগ করতে পারে। নিষেধাজ্ঞা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসে আগেই চাপে থাকা ইরানের অর্থনীতি নতুন ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাবে।

তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন বা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে, যে জনঅসন্তোষ এতদিন দমিয়ে রাখা হয়েছে, তা আরও তীব্র হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান একাধিক উদ্দেশ্য পূরণ করে বাইরের বিশ্বকে দৃঢ়তার বার্তা দেওয়া এবং ভেতরে শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করা। তবে একই সঙ্গে এটি আপসের পরিসরও সংকুচিত করে ফেলে।

তবে ঝুঁকি ওয়াশিংটনের জন্যও কম নয়।

যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে তবে কাগজে-কলমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট বলেই মনে হতে পারে। তবে যুদ্ধ কাগজে লড়া হয় না; সেখানে ভুল হিসাব, পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতিই প্রায়শই বাস্তবতা পালটে দেয়।

সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে ইরানের কমান্ড কাঠামো ও সামরিক অবকাঠামোর কিছু দুর্বলতা সামনে এসেছে। তবে একই সঙ্গে তারা কীভাবে হামলা সামলে নিতে পারে, কৌশল বদলে নিতে পারে এবং চাপের মধ্যে পাল্টা জবাব দিতে পারে সেই বিষয়ে শিক্ষাও পেয়েছে।

আর এই সংঘাত যদি বড় আকার ধারণ করে তবে এমন পরিণতি ডেকে আনতে পারে, যা কোনো পক্ষই শুরুতে চায়নি।

তেহরানে কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে সেটি যে স্থিতিশীলতা তৈরি করবে  বা পশ্চিমা স্বার্থের অনুকূলে পরিস্থিতি তৈরি করবে এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং ক্ষমতার শূন্যতা নতুন, খণ্ডিত বা আরও উগ্র প্রভাবকেন্দ্র তৈরি করতে পারে। শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক ভারসাম্যকে জটিল করে তুলবে এবং যা ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের জন্যও অস্বস্তিকর হতে পারে।

এ অবস্থায় আয়াতুল্লাহ খামেনির সামনে বিকল্পও খুব কম। ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নেওয়া মানে শাসনব্যবস্থার প্রতিরোধ কৌশলকে দুর্বল করে ফেলা। আর তা প্রত্যাখ্যান করলে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি বলেন, ইরানের উপর নতুন করে যে কোনও মার্কিন হামলার গুরুতর পরিণতি হবে।

তিনি বলেন, “আমি আরব দেশগুলি, উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলির কাছ থেকে এই অঞ্চলে প্রতিক্রিয়াগুলি সাবধানতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছি। 

“কেউই উত্তেজনা বৃদ্ধি চায় না। সবাই বুঝতে পারে এটি আগুন নিয়ে খেলা।”

তার মতে, উত্তেজনা বৃদ্ধি সাম্প্রতিক বছরগুলির ইতিবাচক পদক্ষেপগুলিকে বাদ দিতে পারে। যার মধ্যে ইরান ও অন্যান্য দেশগুলির মধ্যে, বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন করেছে।

(দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি ও সানডে গার্ডিয়ান অবলম্বনে)