চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত 

চীনের তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী আহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। 

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, বৃহস্পতিবার রাতে তিব্বতের নাগচু অঞ্চলের বাচেন কাউন্টিতে ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। চীনা বার্তাসংস্থা সিনহুয়া স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল তিব্বতের নাগচু অঞ্চলের বাচেন কাউন্টিতে।

ভূমিকম্পের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। তবে পাহাড় থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ায় কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে উঁচু ও দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩৩৯টি বাড়ি ধ্বসে পড়েছে।

১৯৫০-এর দশকে তিব্বতকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর চীন এই অঞ্চলটির নাম রাখে ‘তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল’। এটি বাচেন কাউন্টি অঞ্চলটির রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তিব্বত ও আশপাশের পার্বত্য অঞ্চল ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে চীনের গানসু প্রদেশে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

এই বছরের ২৬এ অগাস্ট  হিমবাহ ধসে হওয়া ফ্ল্যাশফ্লাডে তিব্বত ও নেপালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিবিসি জানিয়েছে, ওই দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন। এছাড়াও শত শত মানুষ নিখোঁজ থাকার খবরও পাওয়া গেছে।

তিব্বতে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশে বিধিনিষেধ এবং তথ্যপ্রবাহের ওপর কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানতে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ওপরই নির্ভর করতে হয়। 

তিব্বতে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশে বিধিনিষেধ এবং তথ্যপ্রবাহের ওপর কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানতে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ওপরই নির্ভর করতে হয়।