ভারতের দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে কংগ্রেস ও তাদের মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার অভিযোগ, বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে তারা। এ জন্য তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ‘নৈরাজ্য’ ছড়ানোর চেষ্টা করছে বিরোধীরা।
ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই তাদের প্রতিবেদনে জানায়, শুক্রবার লক্ষ্ণৌতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ এ অভিযোগ করেন।
রাজনাথ বলেন, "কংগ্রেস ও তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা সরাসরি এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তরুণদের শক্তিকে রাজনৈতিক সংঘাত ও নৈরাজ্য ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করতে চাইছে। অথচ এই শক্তিকে গঠনমূলক কাজ ও দেশ গঠনে কাজে লাগানো উচিত।"
তিনি আরও বলেন, "দেশের তরুণদের নৈরাজ্যের রাজনীতিতে ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।"
রাজনাথের অভিযোগ, বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের আদলে ভারতে সরকার পরিবর্তন করতে চায় কংগ্রেস ও তাদের মিত্ররা।
তিনি বলেন, "তারা সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যেই বলছে, ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছে। অন্য একজন প্রকাশ্যেই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা বলছেন। এতে স্পষ্ট, তাদের একমাত্র লক্ষ্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দেওয়া এবং দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা।"
২০২৪ সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে এসব কথা বলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
রাজনাথ বলেন, 'ক্ষমতার পরিবর্তন’–এর মতো শব্দ ব্যবহার থেকেই বোঝা যায়, বিরোধীদের আন্দোলন নির্বাচনি সংস্কার বা ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে নয়।
ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ চলছে। বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন এ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে।
বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব আছে। এর ফলে ভোট দেওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ টেনে রাজনাথ বলেন, রাহুল গান্ধী ও তার মিত্রদের বুঝতে হবে, গণতন্ত্রের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা কিংবা ভারতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, "আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জরুরি। রাজনৈতিক স্বার্থে ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিসর্জন দেওয়া যায় না।"
গণতন্ত্র রক্ষার নামে ‘ধ্বংসাত্মক রাজনীতি’ না করে জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে এবং নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করতে রাহুল গান্ধীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রাজনাথ বলেন, "ভারতের ভবিষ্যৎ সবার দায়িত্ব। আমাদের সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও দেশ গঠনের পথ বেছে নিতে হবে।"