সব নাগরিক সাংবাদিক হয়ে গেলে সমস্যা তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবার আদালতে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় (পিআইএল) ফ্রিল্যান্সার, ইন্ডিপেনডেন্ট জার্নালিস্ট ও রিল-মেকারদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার দাবি জানানো হয়।
নিবন্ধিত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃত সাংবাদিকদের পাশাপাশি প্রতিবাদস্থলে বিপুলসংখ্যক ফ্রিল্যান্সার জার্নালিস্ট ও রিল-মেকারদের উপস্থিতির বিষয়টি মামলায় উঠে আসে। এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং বলেন, প্রতিবাদ কর্মসূচি কাভার করা স্বাধীন ও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের স্বীকৃতি দিচ্ছে না দিল্লি পুলিশ। পুলিশ তাদের কাছে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) অ্যাক্রিডিটেশন চাইছে।
তিনি বলেন, “নিয়োগকর্তার দেওয়া পরিচয়পত্র আছে, এমন কোনো সাংবাদিকের পেশাগত কাজে পুলিশ বাধা দিতে পারে না। এ বিষয়ে একটি জাতীয় নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।”
তবে এ বিষয়ে সতর্ক করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি বলেন, “আমাদের আরেকটি বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে। সবাই যদি সাংবাদিক হতে শুরু করেন, তাহলে অন্য সবার জন্য সমস্যা তৈরি হবে।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার এ দেশের প্রত্যেক নাগরিককে সাংবাদিক হওয়ার ক্ষমতা দেয় কি না, তা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করতে হবে। বিষয়টি সহজ নয়।”
তিনি বলেন, স্বীকৃত সাংবাদিক, নিবন্ধিত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিক, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, ইনফ্লুয়েন্সার ও রিল-মেকাদের ক্ষেত্রে সুরক্ষার বিভিন্ন স্তর রয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেওয়া উচিত কি না, তা বিবেচনা করতে হবে।”
বিচারপতি বাগচী আরও বলেন, “কর্মরত সাংবাদিক আইনেও সাংবাদিকদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এসব বিষয় আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে।”
ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন থাকা যে কেউ নিজেকে ইন্ডিপেনডেন্ট বা ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট দাবি করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি হয়তো সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন ও অর্থ উপার্জনের জন্য শুধু রিল তৈরি করছেন। একপেশে খবর উপস্থাপন কিংবা ঘটনা অতিরঞ্জিত করেও তা করা হতে পারে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের এই আলোচনা নাগরিক সাংবাদিকতা নিয়ে মতপার্থক্য নিয়ে বিতর্ককে সামনে এনেছে।
অনেকের মতে, মূলধারার গণমাধ্যমের ব্যর্থতার কারণে নাগরিক সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক সংবাদ পরিবেশন ভুল তথ্য ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে বলে সুপ্রিম কোর্টের উদ্বেগকে সমর্থন করছেন অনেকে।