ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে আগুন লেগে নিহত হওয়া আরো দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরা হলেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের রেবতী সরকার ও এস এম আলিমুজ্জামান।
এ ঘটনায় সাত বাংলাদেশিসহ মোট নয় জন নিহত হয়েছেন। অন্য দুইজন ভারতীয় নাগরিক।
বুধবার ভোররাতে ভারতের নিউ মার্কেটের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে অবস্থিত হোটেল শিখা ইনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ জানিয়েছেন, “সাত বাংলাদেশির পরিচয়ই নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মরদেহ যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে।''
নিহত অন্য পাঁচ বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন দেবাশিস দত্ত, আফসানা শিম্মিন, শর্ণশিষ দত্ত ও মো. আকরাম আলী।
একই ঘটনায় ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু নামে আরও একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
ভারতীয় দুই জনের মধ্যে একজন বিহারের সন্দিপ পাসওয়ান, অন্য জন শিলিগুরির ইয়োগ নারায়ণ আগরওয়াল।
ভোররাতের আগুনের ঘন ধোঁয়ায় হোটেলের বিভিন্ন তলায় আটকা পড়েন অতিথিরা। ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এক শিশুসহ অন্তত নয় জনের মৃত্যু হয়।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোটেলের তৃতীয় তলায় একটি এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন, ঘন ধোঁয়ার কারণে ওপরের তলায় পৌঁছে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ ও অতিথিদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের তারাপীঠে আরেক হোটেলে আগুনে নিহত হন আট জন।