চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে বাংলাদেশিসহ কয়েকজনের।
বুধবার ভোররাতে নিউ মার্কেটের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলের ভয়াবহ আগুনে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি হতে পারে।
কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ জানিয়েছেন, “নিহত নয়জনের মধ্যে একজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে কলকাতা পুলিশ। বাকিরা বাংলাদেশি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।”
পুলিশ নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের হাইকমিশনও পরিচয় সন্ধানে তাদেরকে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভোররাতের আগুনের ঘন ধোঁয়ায় হোটেলের বিভিন্ন তলায় আটকা পড়েন অতিথিরা। ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এক শিশুসহ অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়।
ফায়ার সার্ভিসকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে আগুনে বাংলাদেশিসহ মোট ৯জন নিহত হয়েছেন। তারা মঙ্গলবারই চিকিৎসার উদ্দেশে ভারতে গিয়েছিলেন।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোটেলের তৃতীয় তলায় একটি এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন, ঘন ধোঁয়ার কারণে ওপরের তলায় পৌঁছে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
কলকাতায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে এই ঘটনায় নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ ও অতিথিদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের তারাপীঠে আরেক হোটেলে আগুনে নিহত হন ৮ জন।