কারাবন্দি অবস্থায় দীর্ঘসময় পর দেখা মিললো মিয়ানমারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি’র।
সিএনএন প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির এক প্রতিনিধির সঙ্গে সোমবার সাক্ষাৎ হয় সু চির।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই হয়েছে এ বৈঠক। প্রতিনিধিকে সাক্ষাতের সময় সু চির সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগও দেওয়া হয়। যা রেড ক্রসের নিয়মিত বন্দি পরিদর্শন প্রক্রিয়ার অংশ।
বৈঠকের পর মিয়ানমারের সামরিক সরকার একটি ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে দেখা যায়, ৮১ বছর বয়সী অং সান সু চি ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ পোশাক পরে রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে করমর্দন করছেন।
সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সু চির অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখছিল মিয়ানমার জান্তা সরকার।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর থেকেই তাকে গোপন স্থানে আটক রাখা হয়। একের পর এক মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযোগগুলোর মধ্যে কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ লঙ্ঘন, দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানির মতো ঘটনা উল্লেখযোগ্য। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, আদালতে পরিচালিত বিচার ছিলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সু চিকে রাজনীতি থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল।
অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারজুড়ে গণতন্ত্রপন্থি গোষ্ঠী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় দশ হাজার মানুষ নিহত হন। বাস্তুচ্যুত হন লাখো মানুষ।
সম্প্রতি সু চির ছেলে কিম অ্যারিস জনসম্মুখে দাবি করেন, তার মা জীবিত আছেন—এমন প্রমাণ সামরিক সরকারকে প্রকাশ করতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যরা সু চির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। এমনকি স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
রেড ক্রস জানিয়েছে, বন্দিদের সঙ্গে তাদের সাক্ষাতের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করা, তাদের মানবিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা।
যদিও সংস্থাটি সু চির স্বাস্থ্য সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে সামরিক সরকার আরও দুটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে গত ১৯ জুন সু চির ৮১তম জন্মদিন উদযাপনের দৃশ্য দেখা যায়। ছবিতে তাকে একটি জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা গেলেও সিএনএন স্বাধীনভাবে ছবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।