ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের ধ্বংসস্তূপ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছে জর্ডানের উদ্ধারকারী দল। তাকে রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ক্লেইবার মোরান।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মেক্সিকোর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শিশুটির উদ্ধারের ঘটনাকে দেশের মানুষের জন্য ‘আশার উৎস’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।
দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও জীবিত মানুষ থাকার সম্ভাবনা আছে। দেশি-বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো বিরামহীন অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
২৪এ জুন ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ আর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় দুই হাজার। আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়া এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন।
নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরাসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। মৌলিক সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং অনেক স্থানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পর্যাপ্ত সহায়তা না পৌঁছানোয় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। টিকাদানের হার কম থাকায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের পাঠানো ৪৭ টন জরুরি মানবিক সহায়তা ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো দাফন শুরু করেছেন স্বজনরা। এখনও অসংখ্য পরিবার নিখোঁজ প্রিয়জনের খোঁজে হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী মর্গে অপেক্ষা করছেন।