লাগাতার সংঘর্ষ ও প্রাণহানির পর অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহযোগিতায় সমঝোতাটি চূড়ান্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লেবানন সীমান্তে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠায় মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর শান্তি প্রচেষ্টা হুমকির মুখে পড়েছিলো।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করা। তবে সেই চুক্তির পরও সীমান্তে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিলো।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে অন্তত ১৮ জন নিহত হন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে হেজবুল্লাহর হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়, যা চলমান সংঘাতে গোষ্ঠীটির অন্যতম প্রাণঘাতী আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হেজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে ইরান গোষ্ঠীটিকে অবহিত করেছিল। এরপরই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে কয়েক মাস ধরে চলা সীমান্ত সংঘর্ষে সাময়িক বিরতি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস এবং চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই সমঝোতা কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে আন্তর্জাতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে লেবানন সীমান্তে স্থায়ী শান্তির আহ্বান জানিয়ে আসছে। নতুন এই যুদ্ধবিরতি সেই প্রচেষ্টার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।