ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
দুই দেশের মধ্যে থাকা বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
বাংলাদেশ ও ভারত ২০১৩ সালে চুক্তিটি সই করে। এক দেশে অন্য দেশের অপরাধীদের পালিয়ে থাকার সুযোগ বন্ধ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় এটি একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো।
চুক্তির প্রথম ১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, এক দেশের অভিযুক্ত, বিচারাধীন কিংবা সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি যদি অন্য দেশে থাকে, চুক্তি অনুযায়ী তাকে প্রত্যর্পণ বা ফিরিয়ে দেওয়া যাবে।
অপরাধ যদি অনুরোধকারী দেশের সীমানার বাইরেও হয়, তবুও নিজস্ব আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় হলে অনুরোধপ্রাপ্ত দেশ বন্দি প্রত্যর্পণ করবে।
কোন কোন অপরাধের ক্ষেত্রে এই চুক্তি কার্যকর হবে, তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অনুচ্ছেদে।
চুক্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুই দেশের আইনেই ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যায় এমন অপরাধের ক্ষেত্রেই অপরাধী বা অভিযুক্ত প্রত্যর্পণ প্রযোজ্য হবে।
কর ফাঁকি বা রাজস্ব সংক্রান্ত আর্থিক অপরাধও এর আওতায় থাকবে। অপরাধের চেষ্টা, প্ররোচনা বা সহযোগী হিসেবে অংশ নিলেও তা প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো অপরাধের আংশিক অংশ এক দেশে এবং তার প্রভাব যদি অন্য দেশে পড়ে, তাও চুক্তির আওতাভুক্ত হবে।
তবে এই চুক্তিতে প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করারও সুযোগ আছে। ষষ্ঠ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে অপরাধের যদি ‘রাজনৈতিক চরিত্র’ থাকে তবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
তবে ওই অনুচ্ছেদেই নির্দিষ্ট কিছু অপরাধকে ‘রাজনৈতিক চরিত্র’ হিসাবে গণ্য করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অপরাধগুলোর মধ্যে আছে হত্যা, গুরুতর শারীরিক আঘাত, বিস্ফোরণ ঘটানো বা বিস্ফোরক মজুত রাখা, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার, অপহরণ ও জিম্মি করার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে তা রাজনৈতিক বলে বিবেচিত হবে না।
চুক্তির পাঁচ নাম্বার অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো রাষ্ট্র চাইলে তার নিজের নাগরিকদেরও অন্য দেশের কাছে প্রত্যর্পণ করতে পারবে।
বন্দি প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে কিছু রক্ষাকবচ এবং প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রও রাখা হয়েছে চুক্তির সপ্তম ও অষ্টম অনুচ্ছেদে। কোনো ব্যক্তির অপরাধের বিচার যদি অনুরোধপ্রাপ্ত দেশের আদালতেই সম্ভব হয়, তবে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের আইনি প্রক্রিয়ায় তার বিচার শুরু করা যেতে পারে।
অষ্টম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি অত্যন্ত তুচ্ছ প্রকৃতির, অপরাধের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেছে, কিংবা ন্যায়বিচারের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে, তাহলে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে।
সামরিক অপরাধ, যা সাধারণ ফৌজদারি আইনের আওতাভুক্ত নয়, তার জন্যও প্রত্যর্পণ না করার বিধান রাখা হয়েছে।
চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য চার নাম্বার অনুচ্ছেদে দুই দেশের নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ‘কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের এই চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দায়িত্ব পালন করছে।