তিস্তা নদীর গভীরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কম ঘোলা হয়নি। নানা আলোচনা-সমালোচনার ভেতর হুট করেই তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীনের সম্পৃক্ততা ও সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ। এ খবরেই চিন্তিত ভারত।
ঘটনার সূত্রপাত বেইজিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের চীন সফরে। ৬ই মে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্য এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ঢাকার পক্ষ থেকে এমন প্রত্যাশার কথা জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আর তাতেই দুশ্চিন্তায় ভারত, এমন তথ্য জানাচ্ছে দেশটির পত্রিকা আনন্দবাজার।
পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই প্রকল্পে বেইজিংয়ের সক্রিয়তা নয়াদিল্লির জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, চীন এই প্রকল্পে সম্পৃক্ত হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সরাসরি বেইজিংয়ের সামরিক ও কৌশলগত নিশানার মধ্যে চলে আসবে।
তিস্তার নিয়ে সম্পর্কে বৈরি প্রবাহ চলছেই
তিস্তা নিয়ে আলোচনা চলছে সেই ১৯৫৩ সাল থেকে। এমনটাই আলাপ-কে বলছিলেন নদী গবেষক ও রিভারাইন পিপল-এর মহাসচিব শেখ রোকন। তিনি ২০১১ সালের ঘটনায় ফিরে যান, মনে করিয়ে দেন চুক্তি স্বাক্ষরের সব আয়োজন প্রস্তুত থাকলেও শেষ পর্যন্ত দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সই করতে পারেননি একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসেননি বলে।
ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টোরাল রিসার্চ স্কলার আশিষ কুমার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আলাপ-কে বলেন, ১৯৭২ সালে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন গঠনের মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। পরে ১৯৮৩ সালে একটি অস্থায়ী সমঝোতায় ভারতের জন্য ৩৯ শতাংশ, বাংলাদেশের জন্য ৩৬ শতাংশ পানি এবং ২৫ শতাংশ অনির্ধারিত রাখা হয়েছিল। এরপর ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা করেন। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি আর সই হয়নি।
যদিও সেইজ পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধে অনিন্দ্য জ্যোতি মজুমদার লেখেন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের প্রশ্নটি ভিন্ন ও জটিল বিষয়। দীর্ঘদিনের আলোচনা এক সময় প্রায় চূড়ান্ত সমাধানের দ্বারপ্রান্তে ছিল, কিন্তু সামনে চলে এলো পশ্চিমবঙ্গ। ভারতের কেন্দ্রীয় জোট সরকার রাজ্যের আপত্তির দেয়াল অতিক্রম করতে পারেনি। তাই চুক্তি আর আলোর মুখ দেখেনি।
শেখ রোকনও আলাপ-কে বিষয়টি নিয়ে বলেছেন। ২০১১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরে মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীরাও ছিলেন। শুধু ছিলেন না মমতা। তাই আর সই হলো না।
“মমতা আসবেন না বলে তখন মনমোহন সিংহ বললেন, এটা আপাতত থাক। ফিরে যাওয়ার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বললেন- এটা ম্যাটার অফ টাইম। আমরা কথা বলে করে ফেলবো”, বলেন শেখ রোকন।
এরপরতো ভারতে ক্ষমতায় এলো বিজেপি। নরেন্দ্র মোদিও ঢাকায় এসে বলেছিলেন, ‘পাখি-পবন-পানি- সীমানা মানে না’; আমরা স্বাক্ষর করবোই। কিন্তু তিস্তার স্রোতে ভেসে বেড়ায় প্রতিশ্রুতি, তীরে আর ভেড়ে না সমঝোতা। উল্টো মমতা ২০১৮ সালে বলে দিলেন, আমার সঙ্গে তিস্তা নিয়ে কোনও কথা বলা যাবে না। এই কন্ডিশনে যেকোনও মিটিং হবে।
তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে পশ্চিমবঙ্গে’র ‘না’ কেন
যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার চায়, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ তিস্তা সমাধানে আসতে চায় না কেন? এমন প্রশ্ন হলে ঘুরেফিরে তীর যায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই। কিন্তু অনিন্দ্য জ্যোতি মজুমদার তার গবেষণা প্রবন্ধে বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে কূটনৈতিক সম্পর্কে যুক্ত থাকে না কেন্দ্রীয় সরকারগুলো।
তিনি গবেষণা প্রবন্ধে বলছেন, গঙ্গার পানি বণ্টন প্রক্রিয়ার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি যুক্ত ছিলেন। সেখানে তিস্তা ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে খুব একটা সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তার গবেষণা প্রবন্ধে আরও জানা যায়, বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির কলকাতা সফরের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এরপর থেকেই মমতা তিস্তার পানি বণ্টন এবং স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেন।
আর তাই আনিন্দ্য মনে করেন ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলোর সমান্তরাল যোগাযোগের পথ একটা কার্যকরি সমাধান হতে পারে। কারণ নয়া দিল্লির যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তখনই বাড়ে, যখন সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলো সেই সিদ্ধান্তে আস্থা পায়।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ কেন আগ্রহ দেখালো
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ বিরোধের সূত্র ধরেই কি চীন এখানে হাজির হয়েছে? ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. শ্যাম কুমার মনে করেন তিস্তা প্রকল্পের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তিনি আলাপ-কে বলেন, “ভারত থেকে যদি বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া না পায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই দেশটি চীনের আরও ঘনিষ্ঠ হবে। এতে বিস্ময়ের কিছু নেই।“
ড. শ্যাম কুমার আরও মনে করেন দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে চীন প্রায়ই ‘অতিরিক্ত আগ্রহ’ দেখায়। কারণ বেইজিং এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি ও প্রভাব আরও শক্তিশালী করতে চায়। তবে এটাও সত্য যে বাংলাদেশের প্রয়োজন পানি। বাংলাদেশ আমাদের (ভারতের) বন্ধুপ্রতিম দেশ। সুতরাং তাদের প্রয়োজন ও স্বার্থের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।“
শেখ রোকনও মনে করেন ভারতের কাছ থেকে যখন সমাধান মিলছে না, তখনতো বাংলাদেশের বিকল্প লাগবে।
“বাংলাদেশ দেখলো যে ভেতরে আমরা কী করতে পারি? একটা মেগা প্রজেক্ট করা যায়। আর চীনের দিক থেকে আগ্রহ ছিল বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করবে। সেটার জন্য ২০১৬ সালে শি চিনপিং এসেছিলেন ঢাকায়। তখন একটা সমঝোতা স্মারক সই হয়। সেখানে ছিল বাংলাদেশ এবং চীন পানি সম্পদ নিয়ে কাজ করবে। তিস্তার নাম বলেনি কিন্তু ‘হিডেন এজেন্ডা’ ছিল তিস্তা”, আলাপ-কে বলেন রোকন।
এ কথা মানতেই হবে তিস্তা নদী নিয়ে চীনের আগ্রহের পেছনে রয়েছে এই অঞ্চলে তাদের কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা। তিস্তা নদীর উৎপত্তি হিমালয়ে এবং এটি ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
কৃষি ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি প্রধান উৎস। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এই অঞ্চলের প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এছাড়াও চীন বাংলাদেশে নানান অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যুক্ত। যেমন, বাংলাদেশের অনেক ব্রিজ নির্মাণেও কাজ করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান। শেখ রোকনের ভাষায়, “চীন আগে পানির উপরে ছিল, এখন তারা পানির নিচেও যেতে চায়।“
অন্যদিকে ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টোরাল রিসার্চ স্কলার আশিষ কুমারের মতে তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ার দীর্ঘ হতাশা থেকেই বাংলাদেশ এখন ‘চায়না কার্ড’ ব্যবহার করছে।
তিনি আলাপ-কে বলেন, “বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে ভারতের ওপর চাপ তৈরি করতে চাইছে। যাতে ভারত দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য পানি বণ্টন চুক্তির দিকে এগিয়ে যায়।“
শেখ রোকনও মনে করেন বাংলাদেশ যখন ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে না, তখন সে ‘চায়না কার্ড’ খেলেছে। আর ‘চায়না কার্ড’ ভারতের কনসার্ন হবেই।
তাহলে চীন আসলে কী করবে তিস্তা প্রকল্পে? এমন প্রশ্নের উত্তরে শেখ রোকন বলেন, “বাংলাদেশ অংশে ১১৪ কিলোমিটার তিস্তা নদী আছে। ওই অংশে ১১০ কিলোমিটার তারা একটা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায়। এখন কোথাও কোথাও তিস্তা নদী চার থেকে পাঁচ কিলোমিটারও প্রশস্ত। সেটাকে তারা এক কিলোমিটারের নিচে আনতে চায়। তাহলে ভূমি উদ্ধার হলো, নাব্যতা বাড়লো। এসব হলে নদীর গভীরতা বাড়বে, নৌ চলাচল বাড়বে। তখন কর্মসংস্থান হবে, মৎস সম্পদ হবে। এগুলো হচ্ছে চীনের প্রস্তাব।”
ভারত যে কারণে উদ্বিগ্ন
মেকং নদীতে চীনের বাঁধ নির্মাণের উদাহরণ টেনে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে ভাটির দেশগুলোতে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়েছিল। ব্রহ্মপুত্রের নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে থাকলে তা যেকোনো সময় ‘পানিবোমায়’ পরিণত হতে পারে। যা আসাম, অরুণাচল ও বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি তৈরি করবে।
ভারত মনে করে বাংলাদেশের উচিত তিস্তা প্রকল্পে চীনের সঙ্গে সহযোগিতায় যাওয়ার আগে ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ নির্মাণ বন্ধে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। কারণ ব্রহ্মপুত্রে চীনের বাঁধ নির্মাণের ফলে ভারত ও বাংলাদেশ, দুই দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্তায় ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়া নিয়েও নেই কারও কোনো বিস্ময়। আশিষ কুমার আলাপ-কে বললেন, তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা ভারতকে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন করছে। কারণ তিস্তা নদী চীন থেকে নয়, ভারতের সিকিম থেকে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে এই বিরোধে চীনের সরাসরি ভৌগোলিক বা আইনি অবস্থান নেই।
তার মতে, বিষয়টি কেবল পানি নয়, এর সঙ্গে বৃহত্তর ভারত-চীন ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও জড়িয়ে আছে। ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই তীব্র। তিস্তা ইস্যু সেই প্রতিযোগিতার আরেকটি নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক কারণে চীনের সঙ্গে ভারতের প্রতিযোগিতা সবসময়ই আছে বলে মনে করেন শেখ রোকন। তিনি বলেন, এটা হচ্ছে ভারতের শিলিগুড়ি করিডরের কাছে। সেদিক থেকে ভৌগোলিক কারণেও এটা ভারতের জন্য স্পর্শকাতর।
তিস্তা জটিলতার জট খুলবে যেভাবে
আশিষ কুমার মনে করেন তিস্তা ইস্যুতে চীন মূলত একটি কৌশলগত চাপ সৃষ্টির উপায়মাত্র। ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি দ্রুত গ্রহণযোগ্য পানি বণ্টন চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তাহলে এই ‘চায়না অ্যাঙ্গেল’ ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাবে।
যদিও জটিলতায় জড়াতে রাজি নয় নদী গবেষক শেখ রোকন। তার মতে তিস্তার মূল সমস্যা হলো শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না। সেক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা প্রকল্প দরকার।
তবে প্রকল্পটিকে প্রকৃতিক ও লোকায়ত প্রযুক্তি দিয়ে তৈরির পক্ষে মত দেন তিনি। এছাড়া শেখ রোকন মনে করেন, ভূরাজনৈতিক বিরোধ অর্থাৎ অন্যদের বিরোধ আমাদের এখানে টেনে আনা সঠিক হবে না।
স্পষ্ট করে বললে চীন-ভারতের কোনও বিরোধে বাংলাদেশের যাওয়া ঠিক হবে না।
অন্যদিকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শ্যাম কুমার বাংলাদেশে বিকল্প সহযোগিতার পক্ষে মত দিয়ে আলাপ-কে বলেন, “যেহেতু শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের কৃষির জন্য তিস্তার পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই আনুষ্ঠানিক পানি বণ্টন চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ভারতের উচিত বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে বিকল্প সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা বিবেচনা করা।”
এদিকে শেখ রোকন মনে করিয়ে দেন পদ্মা সেতু নির্মাণে চীন ও ভারতের যৌথভাবে কাজ করার প্রসঙ্গ। তার মতে বাংলাদেশের উচিত হবে ভারতকে আশ্বস্ত করা। পদ্মা সেতুর মতো তিস্তা প্রকল্পেও ভারত-চীন একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
“এডিবি, বিশ্বব্যাংক, জাইকার মতো অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করতে হবে। ফলো দ্বিপাক্ষিক না বহুপাক্ষিক হতে হবে। তাহলে চীন এবং ভারতের বিরোধটা এখানে ডাইলুট হয়ে যাবে”, বলেন শেখ রোকন।
তিস্তা হলো এই অঞ্চলের নবীনতম নদী। এই নদী ১৭৮৭ সালে বর্তমান যে ধারা, সেটা দিয়ে গেছে। এরপর আর কোনো নদী সৃষ্টি হতে দেখেনি কেউ। নবীনতম নদী হিসেবে এখনো অনেক পলি আসে। অনেক ভাঙনও হয়।
ফলে এটা কারিগরিভাবে যেভাবে করার কথা ভাবা হচ্ছে সেটা কতখানি টেকসই হবে, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন নদী গবেষক শেখ রোকন।